চুয়াডাঙ্গা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবশিশুর অসহায়তা: সামাজিকতা গড়ে ওঠার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

Padma Sangbad
১৩৩

অনলাইন ডেস্ক :
জন্মের পর মানবশিশুকে দেখলে প্রথমেই মনে হয় সে সম্পূর্ণ অসহায়। নিজের কোনও প্রয়োজনই সে নিজে পূরণ করতে পারে না। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, এই অসহায়তাই আসলে তার দুর্বলতা নয় বরং তার সামাজিক হয়ে ওঠার অন্যতম প্রধান শক্তি।
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দিকে তাকালে দেখা যায়, জন্মের সময় তাদের অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। অনেক প্রাণীর চোখ-কান বন্ধ থাকে, আবার ঘোড়ার মতো প্রাণী জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দাঁড়িয়ে যেতে পারে। মানবশিশু এই দুইয়ের মাঝামাঝি জন্মের সময় সে দেখতে ও শুনতে পারে, কিন্তু স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে শিখতে অনেক সময় নেয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই বিলম্বই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, হাঁটাচলা শেখার আগেই মানবশিশু আশপাশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। তাকে নিজের প্রয়োজন মেটাতে অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়, আর এই নির্ভরশীলতাই তাকে সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং সামাজিক আচরণ শেখায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের সময় মানবশিশুর মস্তিষ্ক পূর্ণবয়স্ক মানুষের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ হলেও, তার শেখার ক্ষমতা অত্যন্ত সক্রিয় থাকে। কোলে থাকলেও সে চারপাশ লক্ষ্য করে, মানুষকে চিনতে শেখে, এবং প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে তাকে নিষ্ক্রিয় ভাবা ভুল সে ক্রমাগত শিখছে ও মানিয়ে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, মানবশিশুর দীর্ঘ শৈশবই তাকে অন্য প্রাণীদের তুলনায় বেশি শেখার সুযোগ দেয়। লালন-পালন, যত্ন এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়া তার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে, যা তার জ্ঞান ও আচরণ গঠনে বড় ভূমিকা নেয়।
সব মিলিয়ে, বিজ্ঞানীদের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো মানবশিশুর জন্মগত অসহায়তা আসলে একটি বিবর্তনগত কৌশল। এই পরনির্ভরশীলতা তাকে মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে তাকে একটি সামাজিক সত্তায় পরিণত করে।

আপডেট : ১০:১৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মানবশিশুর অসহায়তা: সামাজিকতা গড়ে ওঠার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

আপডেট : ১০:১৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
১৩৩

অনলাইন ডেস্ক :
জন্মের পর মানবশিশুকে দেখলে প্রথমেই মনে হয় সে সম্পূর্ণ অসহায়। নিজের কোনও প্রয়োজনই সে নিজে পূরণ করতে পারে না। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, এই অসহায়তাই আসলে তার দুর্বলতা নয় বরং তার সামাজিক হয়ে ওঠার অন্যতম প্রধান শক্তি।
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দিকে তাকালে দেখা যায়, জন্মের সময় তাদের অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। অনেক প্রাণীর চোখ-কান বন্ধ থাকে, আবার ঘোড়ার মতো প্রাণী জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দাঁড়িয়ে যেতে পারে। মানবশিশু এই দুইয়ের মাঝামাঝি জন্মের সময় সে দেখতে ও শুনতে পারে, কিন্তু স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে শিখতে অনেক সময় নেয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই বিলম্বই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, হাঁটাচলা শেখার আগেই মানবশিশু আশপাশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। তাকে নিজের প্রয়োজন মেটাতে অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়, আর এই নির্ভরশীলতাই তাকে সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং সামাজিক আচরণ শেখায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের সময় মানবশিশুর মস্তিষ্ক পূর্ণবয়স্ক মানুষের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ হলেও, তার শেখার ক্ষমতা অত্যন্ত সক্রিয় থাকে। কোলে থাকলেও সে চারপাশ লক্ষ্য করে, মানুষকে চিনতে শেখে, এবং প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে তাকে নিষ্ক্রিয় ভাবা ভুল সে ক্রমাগত শিখছে ও মানিয়ে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, মানবশিশুর দীর্ঘ শৈশবই তাকে অন্য প্রাণীদের তুলনায় বেশি শেখার সুযোগ দেয়। লালন-পালন, যত্ন এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়া তার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে, যা তার জ্ঞান ও আচরণ গঠনে বড় ভূমিকা নেয়।
সব মিলিয়ে, বিজ্ঞানীদের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো মানবশিশুর জন্মগত অসহায়তা আসলে একটি বিবর্তনগত কৌশল। এই পরনির্ভরশীলতা তাকে মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে তাকে একটি সামাজিক সত্তায় পরিণত করে।