চুয়াডাঙ্গা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর আগে ভিডিওতে শিক্ষকের নাম, শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

Padma Sangbad
১২

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের শার্শায় চম্পা খাতুন (৩০) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর আগে নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও বার্তায় তিনি স্থানীয় এক শিক্ষককে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে গেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ধান্যতাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চম্পা ওই গ্রামের প্রবাসী মিন্টু গাজীর স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী ভবানীপুর গ্রামের মৃত আহাদ আলীর মেয়ে।

পরিবার জানায়, প্রায় ১৬ বছর আগে মিন্টু গাজীর সঙ্গে চম্পার বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে প্রায় পাঁচ বছর ধরে স্বামী প্রবাসে অবস্থান করছেন। স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে ভবানীপুর গ্রামের মৃত নাজিমুদ্দিনের ছেলে স্থানীয় শিক্ষক কবির হোসেনের সঙ্গে চম্পার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাসে শিক্ষক কবির চম্পা ও তাঁর প্রবাসীর স্বামীর পাঠানো বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। সম্প্রতি শিক্ষক কবির তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে চম্পা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

শনিবার সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চম্পা নিজেই ফোনে তাঁর ভাইকে বিষয়টি জানান। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে বাগআঁচড়ার একটি স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে নাভারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এদিকে মৃত্যুর আগে চম্পা নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেন। ওই ভিডিওতে তিনি শিক্ষক কবির হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, “সে আমার সব শেষ করেছে। আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র কবির দায়ী, আর কেউ নয়।”

নিহতের স্বজনেরা জানান, ঘটনার দিন রাতে থানায় মামলা করতে গেলে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তা রেকর্ড করা হয়নি। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের ভাই তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শিক্ষক কবির হোসেনসহ দুজনকে আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপডেট : ১১:৩৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মৃত্যুর আগে ভিডিওতে শিক্ষকের নাম, শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

আপডেট : ১১:৩৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
১২

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের শার্শায় চম্পা খাতুন (৩০) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর আগে নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও বার্তায় তিনি স্থানীয় এক শিক্ষককে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে গেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ধান্যতাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চম্পা ওই গ্রামের প্রবাসী মিন্টু গাজীর স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী ভবানীপুর গ্রামের মৃত আহাদ আলীর মেয়ে।

পরিবার জানায়, প্রায় ১৬ বছর আগে মিন্টু গাজীর সঙ্গে চম্পার বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে প্রায় পাঁচ বছর ধরে স্বামী প্রবাসে অবস্থান করছেন। স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে ভবানীপুর গ্রামের মৃত নাজিমুদ্দিনের ছেলে স্থানীয় শিক্ষক কবির হোসেনের সঙ্গে চম্পার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাসে শিক্ষক কবির চম্পা ও তাঁর প্রবাসীর স্বামীর পাঠানো বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। সম্প্রতি শিক্ষক কবির তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে চম্পা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

শনিবার সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চম্পা নিজেই ফোনে তাঁর ভাইকে বিষয়টি জানান। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে বাগআঁচড়ার একটি স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে নাভারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এদিকে মৃত্যুর আগে চম্পা নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেন। ওই ভিডিওতে তিনি শিক্ষক কবির হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, “সে আমার সব শেষ করেছে। আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র কবির দায়ী, আর কেউ নয়।”

নিহতের স্বজনেরা জানান, ঘটনার দিন রাতে থানায় মামলা করতে গেলে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তা রেকর্ড করা হয়নি। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের ভাই তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শিক্ষক কবির হোসেনসহ দুজনকে আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।