চুয়াডাঙ্গা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোজতবা খামেনি কি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা?

Padma Sangbad
৯৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় নেতাদের পর্ষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠকের আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের দাবি, নিহত নেতার ছেলে মোজতবা খামেনি বর্তমানে দৌড়ে এগিয়ে আছেন। স্থানীয় সময় বুধবার সকালের মধ্যেই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কিছু জ্যেষ্ঠ আলেম সতর্ক করেছেনÑ এ ধরনের ঘোষণা মোজতবাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

হামলার ছায়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়া

এদিকে ইরানের ধর্মীয় নগরী কোওমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছিল, সেখানেই ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, হামলার সময় ভবনটি খালি ছিল।

ইরান ও শিয়া রাজনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভালি নাসর বলেন, মোজতবার নির্বাচন হলে তা একদিকে বিস্ময়কর, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। তার ভাষায়, ‘অনেক দিন ধরেই তাকে সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মনে হয়েছিল তার ওপর থেকে নজর সরে গেছে। যদি এখন তাকে বেছে নেওয়া হয়, তবে তা ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের কট্টরপন্থি অংশের প্রভাবের ইঙ্গিত দিতে পারে।’

বিপ্লবী গার্ডের সমর্থন

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে খুব বেশি পরিচিত নন। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার শাসনামলে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সংকটকালীন পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রয়েছেÑ এই যুক্তিতে আইআরজিসি তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তেহরানের বিশ্লেষক মেহদি রহমাতি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মোজতবা সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পছন্দ। তিনি নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং সমন্বয় করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ তবে তিনি সতর্ক করেন, মোজতবাকে বেছে নেওয়া হলে জনগণের একাংশের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে এবং বিক্ষোভের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা

চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন আলেম ও আইনজ্ঞ আলিরেজা আরাফি, যিনি নেতৃত্ব পরিবর্তন-সংক্রান্ত তিন সদস্যের কমিটির অংশ। আরেকজন সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন সৈয়দ হাসান খোমেনি, যিনি ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি।

সংবিধান অনুযায়ী প্রক্রিয়া

৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ জনগণের ভোটে নির্বাচিত জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেমদের নিয়ে গঠিত। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, এই পর্ষদই সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ, তদারকি ও প্রয়োজনে অপসারণের ক্ষমতা রাখে। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর একই পর্ষদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করেছিল। ৪৭ বছরের ইতিহাসে সেটিই ছিল একমাত্র নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা।

পারিবারিক ক্ষতি

ইরান সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা আদেল, তার মা মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ এবং তার এক ছেলে নিহত হয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এখন নজর ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

আপডেট : ০৮:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মোজতবা খামেনি কি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা?

আপডেট : ০৮:৫৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
৯৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় নেতাদের পর্ষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠকের আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের দাবি, নিহত নেতার ছেলে মোজতবা খামেনি বর্তমানে দৌড়ে এগিয়ে আছেন। স্থানীয় সময় বুধবার সকালের মধ্যেই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কিছু জ্যেষ্ঠ আলেম সতর্ক করেছেনÑ এ ধরনের ঘোষণা মোজতবাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

হামলার ছায়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়া

এদিকে ইরানের ধর্মীয় নগরী কোওমে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছিল, সেখানেই ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, হামলার সময় ভবনটি খালি ছিল।

ইরান ও শিয়া রাজনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভালি নাসর বলেন, মোজতবার নির্বাচন হলে তা একদিকে বিস্ময়কর, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। তার ভাষায়, ‘অনেক দিন ধরেই তাকে সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মনে হয়েছিল তার ওপর থেকে নজর সরে গেছে। যদি এখন তাকে বেছে নেওয়া হয়, তবে তা ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের কট্টরপন্থি অংশের প্রভাবের ইঙ্গিত দিতে পারে।’

বিপ্লবী গার্ডের সমর্থন

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে খুব বেশি পরিচিত নন। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার শাসনামলে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সংকটকালীন পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রয়েছেÑ এই যুক্তিতে আইআরজিসি তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তেহরানের বিশ্লেষক মেহদি রহমাতি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মোজতবা সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পছন্দ। তিনি নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং সমন্বয় করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।’ তবে তিনি সতর্ক করেন, মোজতবাকে বেছে নেওয়া হলে জনগণের একাংশের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে এবং বিক্ষোভের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা

চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন আলেম ও আইনজ্ঞ আলিরেজা আরাফি, যিনি নেতৃত্ব পরিবর্তন-সংক্রান্ত তিন সদস্যের কমিটির অংশ। আরেকজন সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন সৈয়দ হাসান খোমেনি, যিনি ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি।

সংবিধান অনুযায়ী প্রক্রিয়া

৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ জনগণের ভোটে নির্বাচিত জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেমদের নিয়ে গঠিত। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, এই পর্ষদই সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ, তদারকি ও প্রয়োজনে অপসারণের ক্ষমতা রাখে। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর একই পর্ষদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করেছিল। ৪৭ বছরের ইতিহাসে সেটিই ছিল একমাত্র নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা।

পারিবারিক ক্ষতি

ইরান সরকারের দাবি, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা আদেল, তার মা মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ এবং তার এক ছেলে নিহত হয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এখন নজর ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।