শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ৫৯ বিজিবির ৫ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন

শিমুল রেজা।।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবোজ্জ্বল বাহিনী হিসেবে দীর্ঘ ২৩০ বছর ধরে সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে। তবে কেবল সীমান্ত রক্ষাই নয়, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তায় ব্যাটালিয়নের মোট ৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫৯ বিজিবির আওতাধীন মোট ১৩টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এর মধ্যে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১২টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত টহল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আল আমিন অপু বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ৫৯ বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতার পাশাপাশি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সবাইকে গুজবে কান না দেওয়া, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কোনো বিষয় পরিলক্ষিত হলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানান।
অধিনায়ক দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় দুর্গাপূজা উদযাপন সম্ভব।
পরিশেষে, তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী সকল ভাইবোনকে শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং সবার জীবন আনন্দ, শান্তি ও সম্প্রীতিতে পরিপূর্ণ হোক—এই কামনা করেন।



















