সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করলে লংমার্চের প্রয়োজন হতো না

বগুড়া প্রতিনিধি।।
সরকার যদি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করত, তাহলে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ করার প্রয়োজন হতো না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শনিবার বিকেলে বগুড়া শহরের মাটিডালী এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ে সরকারি দলের সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কেন লংমার্চের ডাক দিলাম, এটা নিয়ে সরকারি দলের ঘুম হারাম। তারা বলছে, বিরোধী দল এত তাড়াতাড়ি লংমার্চ করে কেন? আমরা সরকারকে জিজ্ঞেস করতে চাই—ক্ষমতায় আসার আগেই জনগণকে অপমান করলেন কেন? ৭০ ভাগ জনগণ ভোট দিলেন হ্যাঁ-এর পক্ষে। আপনারা যে ভোট চেয়েছিলেন, আমরাও সেই ভোট চেয়েছিলাম। আমরা আমাদের জায়গায় আছি, আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? আপনারা যদি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করতেন, আজকে আমাদের লংমার্চ করার প্রয়োজন হতো না।’
সরকারকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদের তিনটি অধিবেশন চলে গেল। আপনারা জুলাই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে সরকার গঠন করেছেন, সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেননি কেন? আপনারা বলেছিলেন দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন। বলেছিলেন এক কোটি মানুষকে চাকরি দেবেন। অথচ আপনারা এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছেন। দুর্নীতির রেট বাড়িয়ে দিয়েছেন।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘এখন যিনি রাষ্ট্রপতি, তিনি বিএনপির মহাসচিব থাকাকালে বলেছিলেন, “গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে।” এখন আমাদের স্লোগান হলো—“গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে।” আমরা নতুন কোনো স্লোগান দিচ্ছি না। মির্জা ফখরুল ইসলাম যে স্লোগান দিয়েছিলেন, আমরা সেটাই দিচ্ছি।’
বিরোধীদলীয় নেতা সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা আমাদের সন্তানদের চাকরির অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। দলীয় ক্যাডার-সন্ত্রাসীদের জায়গায় জায়গায় বসানোর জন্য রিটার্নের মার্কের ডাবল করেছেন, ভাইভার মার্ক। আমাদের সন্তানরা চাকরির অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য জীবন দিয়েছে। প্রয়োজনে আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য আরেকবার জীবন দিতে প্রস্তুত। তবু এই বৈষম্য আমরা বরদাশত করব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জায়গায় জায়গায় প্রশাসক বসিয়ে মানুষকে শোষণ করছেন, আমরা বসে বসে আঙুল চুষব? এর জন্যই আমাদের লংমার্চ। আমাদের কৃষক বন্ধু সার পায় না। চৌদ্দশ টাকার সার কিনতে হয় ২২শ টাকায়। এর জন্যই আমাদের লংমার্চ। ভাত দেওয়ার মুরোদ নাই, কিল মারার গোসাই। বিদ্যুৎ দিতে পারেন না, আবার দ্বিগুণ বিদ্যুৎ বিল দেন আপনারা। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, দেশে কোনো লোডশেডিং নেই। বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। গ্রামে বিদ্যুতের তার একটু লম্বা, এজন্য বিদ্যুৎ দেওয়া যায় না। এরকম একজন অপদার্থ লোককে বিদ্যুৎমন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে। বেগম জিয়ার আমলে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, ব্যর্থতার কারণে তাকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তার সন্তান এসে তাকে প্রমোশন দিয়ে পূর্ণমন্ত্রী বানিয়েছেন। তাও আবার জাতির ঘাড়ে বসে বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘এবারের লংমার্চ হয়েছে ঢাকা থেকে রংপুর। আগামীর লংমার্চ হবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকায়। সেই লংমার্চের জন্য প্রস্তুত থাকার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই। ঢাকা থেকে আসার পথে রাস্তায় শিশুরা চিৎকার করে বলছে, “দাদু, এক দফা, এক দফা।” আমরা সরকারের কাছে আট দফা দাবি জানিয়েছি। এই আট দফা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। যদি আট দফা না মানে, এক দফার জন্য প্রস্তুত থাকুন। যদি এক দফার ডাক দিতে হয়, তাহলে সবাই মিলে জনগণের বিজয় ছিনিয়ে আনব, ইনশাআল্লাহ।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসার পথে রাস্তায় হাজার হাজার মা-বোন নেমে আমাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। চব্বিশের আন্দোলনে মা-বোনেরা রাজপথে নেমেছিলেন, সেই আন্দোলন সফল হয়েছে। ছাব্বিশে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমে এসেছে। ইনশাআল্লাহ, এই আন্দোলনও সফল হবে।’
তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার নিখোঁজ সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে সন্তানদের নিরাপত্তার জোর দাবি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন সর্বমন্ত্রী। তিনি সবকিছুই করেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ের খবর রাখতে পারেন না। সর্ষের মধ্যে থাকা ভূত জনগণের শান্তি কেড়ে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রয়োজনে জনগণের জন্য জীবন দেব। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগর শাখার আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে শহরতলির মাটিডালী বিমান মোড়ে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমেদ, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এনসিপির সদস্যসচিব আকতার হোসেন এমপি, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
এছাড়া এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদাউস আলম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ হোসাইন আকন্দ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) সহসম্পাদক রেজাউল করিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, বগুড়া মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আসম আব্দুল মালেক প্রমুখ।
























