হোটেলে মদ ও নারীর সাথে ছবি ভাইরাল, প্রশ্নের মুখে দর্শনার সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রেলইয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত ‘রিফাত আবাসিক হোটেল’কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। হোটেলটির মালিক স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম (মিয়া রফিকুল)। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবিতে হোটেলের একটি কক্ষে বিছানার পাশে মদের বোতল, একজন নারী এবং রফিকুল ইসলামকে দেখা গেছে বলে দাবি উঠেছে।
ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি ব্যক্তিগত গণ্ডি ছাড়িয়ে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। জানা গেছে, ছবিতে রফিকুল ইসলামের পাশাপাশি কামারপাড়া-বারাদি সীমান্তসংলগ্ন এলাকার আলোচিত ব্যক্তি আলীহিম, দর্শনা শ্যামপুরের রাজমিস্ত্রী বকুল এবং একজন নারী উপস্থিত ছিলেন। ছবির প্রেক্ষাপট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ইতোমধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, রফিকুল ইসলামের সম্পদের উৎস নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, স্বল্প আয়ের চাকরি থেকে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তার মালিকানায় বর্তমানে ৩০-৩২টি ট্রাক, একাধিক গোডাউন এবং দর্শনা ও ঢাকায় ৭-৮টি বাড়ি রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো পুরনো এবং এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। তার ভাষ্যমতে, ছবিতে থাকা নারী একজন পাসপোর্টধারী যাত্রী ছিলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তাকে কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের বের করে দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।
রফিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে পুরনো ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখলে প্রকৃত ঘটনা এবং সম্পদের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
রফিকুল ইসলামের ব্যাখ্যা সত্ত্বেও জনমনে সন্দেহ এখনো কাটেনি। ভাইরাল ছবি, অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি এবং সীমান্তঘেঁষা এলাকার নানা অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন গভীর অনুসন্ধানের দাবি রাখছে।




















