১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন অধ্যক্ষসহ পদত্যাগকৃত ৪ জন

আন্দোলনের মুখে গতকাল ২২ আগস্ট যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী জিএম আজিজুর রহমান, চীফ ইন্সট্রাক্টর শরীফুল ইসলাম, হোস্টেল সুপার বাবলুর রহমান ও ক্যাশিয়ার কামরুল ইসলাম পদত্যাগ করার পর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ডিসির কাছে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১৮ লাখ ১৪ হাজার ৭শ’ ৪০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে বলা হয়েছে। অর্থ আত্মসাৎ দুর্নীতির ঘটনায় পদত্যাগকৃত ৪ জন ছাড়াও অন্য কোনো শিক্ষক কর্মচারী জড়িত থাকলে সুষ্ঠু তদন্ত করে শাস্তি দাবি করা হয়েছে।
অধ্যক্ষসহ তার অনুসারী কয়েকজনের অব্যাহত অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার নানা উদাহরণ তুলে ধরে পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষার্থীরা বিগত এক সপ্তাহ ধরে আল্টিমেটাম দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিন কলেজে অধ্যক্ষ বিরোধী আলোচনা ও পদত্যাগ করতে দাবি জানিয়েও আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। দুর্নীতিতে জড়িতদের অপসারণ দাবিতে যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রী একাট্টা হয়ে পড়েন। আর ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার, হোস্টেলে বৈষম্য, অর্থ লুটপাটসহ নানা অভিযোগ তুলে ২২ আগস্ট দুপুরে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কাছে গিয়ে তাকে পদত্যাগ করতে দাবি জানান। এসময় তিনি নিজ হাতে পদত্যাগপত্র লিখে সীল স্বাক্ষর দেন। এসময় শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে একে একে চীফ ইন্সট্রাক্টর শরীফুল ইসলাম, হোস্টেল সুপার বাবলুর রহমান ও ক্যাশিয়ার কামরুল ইসলাম পদত্যাগ করেন। তারাও স্বহস্তে পদত্যাগপত্র লিখে সীল স্বাক্ষর করে দেন।
আর পদত্যাগকৃত অধ্যক্ষসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে এবং ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত ও শাস্তি দাবি করে যশোর ডিসির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীর দূর্নীতির অনেক বিষয় সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। দুর্নীতির সঠিক প্রমাণের ভিত্তিতে অডিট আপত্তির হালনাগাদ তথ্য বিবরণী অনুযায়ী ২০১৪-১৫ অর্থ বছর থেকে ২০২০-২১ অর্থ বছর পর্যন্ত পরিপত্রের নির্দেশনা লঙ্ঘণ করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২১-২২ অর্থ বছর পর্যন্ত ম্যাগাজিন তহবিল থেকে ম্যাগাজিন প্রকাশ না করে আদায়কৃত অর্থ ১৪ লাখ ৪২ হাজার ৭শ’৪০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। মোট ১৮ লাখ ১৪ হাজার ৭শ’৪০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আরো বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এসব দুর্নীতি ও অনিয়মে পদত্যাগকৃত চারজনসহ অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীর মধ্যে কেউ কোনো দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকলে তাদেরকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচারের জন্য আহবান করেছেন শিক্ষার্থীরা।























