চুয়াডাঙ্গা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার প্রবাসী যাত্রী নিহত, নকলা পৌরসভার কর্মকর্তাসহ আহত ৪

Padma Sangbad
১৫

বিশেষ প্রতিনিধি:

শেরপুর সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসের সজোড়ে ধাক্কায় জুয়েল মিয়া (৪১) নামে এক ইরাক প্রবাসী মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নকলা পৌরসভার দুই কর্মকর্তাসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শেরপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের শেরপুর সদর উপজেলার জোড়া পাম্পসংলগ্ন এলাকা (হাওরাখান বাড়ি মোড়) দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত জুয়েল মিয়া শেরপুরের নকলা উপজেলার বারমাইসা খিচা গ্রামের মো. হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে শেরপুরগামী ‘শেরপুর চেম্বার্স অব কমার্স’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীতমুখী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে তীব্র বেগে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রবাসী জুয়েল মিয়ার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহত চারজনকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন—নকলা পৌরসভার হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ ফেরদৌসুর রহমান (৫০), হিসাব সহকারী আলমগীর হোসেন (৩২), শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও দুলাল মিয়া (৬০)। তাঁদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেরদৌসুর রহমানকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আলমগীর হোসেন নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অন্য দুজন শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত জুয়েল মিয়ার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে প্রবাসে কাটানোর পর মাত্র ২০ দিন আগে দেশে এসেছিলেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যার মধ্যে ছেলেটি বাবার সঙ্গেই প্রবাসে কর্মরত। মঙ্গলবার বিকেলে পারিবারিক কাজে শেরপুর শহরে গিয়েছিলেন জুয়েল। কিন্তু রাতে বাড়ি ফেরার পথেই প্রাণ হারান তিনি।

অন্যদিকে, নকলা পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুল হাসান জানান, বদলিজনিত বিদায় অনুষ্ঠানের উপহার কিনতে পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা বিকেলে শেরপুরে আসেন। কাজ শেষে ফেরার পথে কর্মকর্তারা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়। ঘাতক বাসটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

আপডেট : ০১:২৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

শেরপুরে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার প্রবাসী যাত্রী নিহত, নকলা পৌরসভার কর্মকর্তাসহ আহত ৪

আপডেট : ০১:২৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৫

বিশেষ প্রতিনিধি:

শেরপুর সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসের সজোড়ে ধাক্কায় জুয়েল মিয়া (৪১) নামে এক ইরাক প্রবাসী মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নকলা পৌরসভার দুই কর্মকর্তাসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শেরপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের শেরপুর সদর উপজেলার জোড়া পাম্পসংলগ্ন এলাকা (হাওরাখান বাড়ি মোড়) দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত জুয়েল মিয়া শেরপুরের নকলা উপজেলার বারমাইসা খিচা গ্রামের মো. হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে শেরপুরগামী ‘শেরপুর চেম্বার্স অব কমার্স’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীতমুখী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে তীব্র বেগে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রবাসী জুয়েল মিয়ার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহত চারজনকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন—নকলা পৌরসভার হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ ফেরদৌসুর রহমান (৫০), হিসাব সহকারী আলমগীর হোসেন (৩২), শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও দুলাল মিয়া (৬০)। তাঁদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেরদৌসুর রহমানকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আলমগীর হোসেন নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অন্য দুজন শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত জুয়েল মিয়ার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে প্রবাসে কাটানোর পর মাত্র ২০ দিন আগে দেশে এসেছিলেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যার মধ্যে ছেলেটি বাবার সঙ্গেই প্রবাসে কর্মরত। মঙ্গলবার বিকেলে পারিবারিক কাজে শেরপুর শহরে গিয়েছিলেন জুয়েল। কিন্তু রাতে বাড়ি ফেরার পথেই প্রাণ হারান তিনি।

অন্যদিকে, নকলা পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুল হাসান জানান, বদলিজনিত বিদায় অনুষ্ঠানের উপহার কিনতে পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা বিকেলে শেরপুরে আসেন। কাজ শেষে ফেরার পথে কর্মকর্তারা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়। ঘাতক বাসটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।