চুয়াডাঙ্গা ০২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদ বাজারে কসমেটিকস্ কেনার ব্যস্ততা

Padma Sangbad
৮৭

এককালে ফেরিওয়ালা বাসাবাড়ির পাশ দিয়ে হাঁকডাক দিত। তাদের কাছে থাকতো আলতা, চুড়ি, ফিতা, স্নো, পাউডার, লিপস্টিক, নেইলপলিশ থেকে শুরু করে সাজসজ্জার বাহারি নানান সরঞ্জাম। যা কিশোরী আর তরুনীদের আকৃষ্ট করতো। তাই এলাকায় ফেরিওয়ালার আগমন ঘটলে কিশোরী আর তরুনীরা ছুটে গিয়ে ফেরিওয়ালাকে থামাতো। রোজকার দিনের প্রয়োজনে অথবা উৎসবে চলতো ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কেনাকাটা। কালের আবর্তে এখন ফেরিওয়ালার আধুনিক ভার্সন অনলাইন শপিং। আর বাজারে গিয়ে কেনাকাটা আর মীনাবাজারের প্রচলন তো হাজার হাজার বছর ধরেই।
নারী ও মেয়েরা উৎসব আসলেই নিজেকে সাজাতে পোশাক ও জুতার পাশাপাশি সমান গুরুত্ব দেন কসমেটিকস্ আর অংলকারের প্রতি। সুন্দর সাজ সবার দৃষ্টি কাড়ে। তাই উৎসবের সাজ হওয়া চাই জমকালো। সেই জমকালো সাজে সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ, জুতার পাশাপাশি মানানসই কসমেটিকস এর ব্যবহার বাড়তি মাত্রা যোগ করে। শেষ হতে চললো সিয়াম সাধনার মাস রমজান। ঈদের আর দেড় সপ্তাহ বাকি। তাই কেনাকাটার এ পর্যায়ে যশোরের ঈদ বাজারে বিভিন্ন বয়সী নারী ও মেয়েরা ছুটছেন কসমেটিকস্, ইমিটিশনের অলংকার, হেয়ারব্যান্ড, হেয়ারক্লিপ ও মেহেদী কিনতে। শহরের চুড়িপট্টি, সিটিপ্লাজা, জেস টাওয়ারসহ বিভিন্ন মার্কেটে শুরু হয়েছে দেশি বিদেশী নানা ধরনের কসমেটিকস্্ ও ইমিটিশনের অলংকারের বেচাকেনা।
কোথায় কেমন দাম
চুড়িপট্টিতে মেহেদী বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০টাকায়। পাঞ্চক্লিপ ১০ থেকে ২০০টাকা। লিপস্টিক ১০০ থেকে ৮০০টাকা। নেলপলিস ৬০ থেকে ৩৫০টাকা। মেকআপ ফাউন্ডেশন ২০০ থেকে ৫৫০টাকা। আংটি ৫০ থেকে ১৫০টাকা। ব্রেসলেট ৮০ থেকে ৩০০টাকা। চুড়ি ১০০ থেকে ২০০টাকা। মেটালের চুড়ি ১৮০ থেকে ২৫০টাকা। পায়েল ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। জেস টাওয়ারে মেকআপ বক্স পাওয়া যাবে ৩৫০ থেকে এক হাজার ৫০০টাকায়। মেহেদী ৩০ থেকে ৫০টাকা। আইশ্যাডো ২০ থেকে ৯০০টাকা। কমপ্যাক্ট পাউডার ১৫০ থেকে ৮০০টাকা। লিপস্টিক ১০০ থেকে ৩৫০টাকা। একই দামে পাওয়া যাচ্ছে নেইলপলিশ। পাঞ্চক্লিপ ৫০ থেকে ২৫০টাকা। ইমিটিশনের আংটি ২০ থেকে ২৫০টাকা। সিটিপ্লাজায় মেহেদী পাওয়া যাবে ৩০ থেকে ৫০টাকায়। মেকআপ বক্স পাওয়া যাবে ৭০০ থেকে দুই হাজার ৫০০টাকায়। লিপস্টিক ১৫০ থেকে ৫৫০টাকা। নেইলপলিশ ৫০ থেকে ১৫০টাকা। ইমিটিশনের আংটি ৭০ থেকে ৯০০টাকা। হেয়ারব্যান্ড ৫০ থেকে ২৫০টাকা। কানের দুল ১০০ থেকে ৭০০টাকা। চুড়ি সেট জোড়া ১৫০ থেকে এক হাজার ৫০০টাকা। নেকলেস সেট ৪০০ থেকে তিন হাজার টাকা।
যা বলছেন ক্রেতা
চুড়িপট্টিতে আসা লুবনা মরিয়ম বলেন, মেহেদী কিনবো, সাথে ইমিটিশন জুয়েলারি কেনার ইচ্ছা। সারা বছর তেমন কেনা হয় না, তাই ঈদের এ সময়টাতে বেশি করে কিনে রাখি। সিটিপ্লাজায় আসা মুমতাহিনা মাহিন বলেন, কিছু ইমিটিশন জুয়েলারি কিনতে এসেছি। কারন সোনার গয়না কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠান ছাড়া পরা হয় না। সারা বছর ইমিটিশন জুয়েলারিতেই চলে। জেস টাওয়ারে আসা নাজনীন নাহার বলেন, ছোটবেলায় বাড়িতে আসা ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে চুড়ি, ফিতা, কসমেটিকস্ কিনতাম। সেই দিনগুলো খুব মনে পড়ে। ভীড়ভাট্টার কারনে মার্কেটে কম আসি। তবে ঈদের সময়ে না আসলে আবার ভালোলাগে না।
যা বলছেন বিক্রেতা
চুড়িপট্টির বিপি ট্র্ডে এর ম্যানেজার হাফিজুর রহমান বলেন, বিক্রি এখনো সেভাবে শুরু হয়নি। মেহেদী যা একটু বিক্রি হচ্ছে। ২২ রোজার পর থেকে বাড়ার আশা করছি। রফিকুল স্টোরের বিক্রয়কর্মী রাকিব হাসান অপু বলেন, মেহেদী বিক্রি হচ্ছে তবে অন্যান্য কসমেটিকস্ এর তেমন বিক্রি নেই। জেস টাওয়ারের ফালগুনী পার্লার কালেকশান এর সত্ত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম বলেন, বেচাকেনা শুরু হলেও এখনো তেমন জমে ওঠেনি। সিটিপ্লাজার স্টোনপ্লাস এর সত্ত্বাধিকারী মোহম্মদ শাহরিয়ারও একই কথা বলেন। শুভেচ্ছা কসমেটিকস্ এর বিক্রয়কর্মী নাজমুল হোসেন বলেন, কসমেটিকস্ এর বিক্রি সাধারণত ২২ বা ২৫ রোজার পর থেকে বেশি হয়। এবারে বিক্রি তেমন জমেনি। সামনের সময়ে বিক্রি হয়তো বাড়বে।

আপডেট : ১২:১৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

ঈদ বাজারে কসমেটিকস্ কেনার ব্যস্ততা

আপডেট : ১২:১৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
৮৭

এককালে ফেরিওয়ালা বাসাবাড়ির পাশ দিয়ে হাঁকডাক দিত। তাদের কাছে থাকতো আলতা, চুড়ি, ফিতা, স্নো, পাউডার, লিপস্টিক, নেইলপলিশ থেকে শুরু করে সাজসজ্জার বাহারি নানান সরঞ্জাম। যা কিশোরী আর তরুনীদের আকৃষ্ট করতো। তাই এলাকায় ফেরিওয়ালার আগমন ঘটলে কিশোরী আর তরুনীরা ছুটে গিয়ে ফেরিওয়ালাকে থামাতো। রোজকার দিনের প্রয়োজনে অথবা উৎসবে চলতো ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কেনাকাটা। কালের আবর্তে এখন ফেরিওয়ালার আধুনিক ভার্সন অনলাইন শপিং। আর বাজারে গিয়ে কেনাকাটা আর মীনাবাজারের প্রচলন তো হাজার হাজার বছর ধরেই।
নারী ও মেয়েরা উৎসব আসলেই নিজেকে সাজাতে পোশাক ও জুতার পাশাপাশি সমান গুরুত্ব দেন কসমেটিকস্ আর অংলকারের প্রতি। সুন্দর সাজ সবার দৃষ্টি কাড়ে। তাই উৎসবের সাজ হওয়া চাই জমকালো। সেই জমকালো সাজে সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ, জুতার পাশাপাশি মানানসই কসমেটিকস এর ব্যবহার বাড়তি মাত্রা যোগ করে। শেষ হতে চললো সিয়াম সাধনার মাস রমজান। ঈদের আর দেড় সপ্তাহ বাকি। তাই কেনাকাটার এ পর্যায়ে যশোরের ঈদ বাজারে বিভিন্ন বয়সী নারী ও মেয়েরা ছুটছেন কসমেটিকস্, ইমিটিশনের অলংকার, হেয়ারব্যান্ড, হেয়ারক্লিপ ও মেহেদী কিনতে। শহরের চুড়িপট্টি, সিটিপ্লাজা, জেস টাওয়ারসহ বিভিন্ন মার্কেটে শুরু হয়েছে দেশি বিদেশী নানা ধরনের কসমেটিকস্্ ও ইমিটিশনের অলংকারের বেচাকেনা।
কোথায় কেমন দাম
চুড়িপট্টিতে মেহেদী বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০টাকায়। পাঞ্চক্লিপ ১০ থেকে ২০০টাকা। লিপস্টিক ১০০ থেকে ৮০০টাকা। নেলপলিস ৬০ থেকে ৩৫০টাকা। মেকআপ ফাউন্ডেশন ২০০ থেকে ৫৫০টাকা। আংটি ৫০ থেকে ১৫০টাকা। ব্রেসলেট ৮০ থেকে ৩০০টাকা। চুড়ি ১০০ থেকে ২০০টাকা। মেটালের চুড়ি ১৮০ থেকে ২৫০টাকা। পায়েল ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। জেস টাওয়ারে মেকআপ বক্স পাওয়া যাবে ৩৫০ থেকে এক হাজার ৫০০টাকায়। মেহেদী ৩০ থেকে ৫০টাকা। আইশ্যাডো ২০ থেকে ৯০০টাকা। কমপ্যাক্ট পাউডার ১৫০ থেকে ৮০০টাকা। লিপস্টিক ১০০ থেকে ৩৫০টাকা। একই দামে পাওয়া যাচ্ছে নেইলপলিশ। পাঞ্চক্লিপ ৫০ থেকে ২৫০টাকা। ইমিটিশনের আংটি ২০ থেকে ২৫০টাকা। সিটিপ্লাজায় মেহেদী পাওয়া যাবে ৩০ থেকে ৫০টাকায়। মেকআপ বক্স পাওয়া যাবে ৭০০ থেকে দুই হাজার ৫০০টাকায়। লিপস্টিক ১৫০ থেকে ৫৫০টাকা। নেইলপলিশ ৫০ থেকে ১৫০টাকা। ইমিটিশনের আংটি ৭০ থেকে ৯০০টাকা। হেয়ারব্যান্ড ৫০ থেকে ২৫০টাকা। কানের দুল ১০০ থেকে ৭০০টাকা। চুড়ি সেট জোড়া ১৫০ থেকে এক হাজার ৫০০টাকা। নেকলেস সেট ৪০০ থেকে তিন হাজার টাকা।
যা বলছেন ক্রেতা
চুড়িপট্টিতে আসা লুবনা মরিয়ম বলেন, মেহেদী কিনবো, সাথে ইমিটিশন জুয়েলারি কেনার ইচ্ছা। সারা বছর তেমন কেনা হয় না, তাই ঈদের এ সময়টাতে বেশি করে কিনে রাখি। সিটিপ্লাজায় আসা মুমতাহিনা মাহিন বলেন, কিছু ইমিটিশন জুয়েলারি কিনতে এসেছি। কারন সোনার গয়না কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠান ছাড়া পরা হয় না। সারা বছর ইমিটিশন জুয়েলারিতেই চলে। জেস টাওয়ারে আসা নাজনীন নাহার বলেন, ছোটবেলায় বাড়িতে আসা ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে চুড়ি, ফিতা, কসমেটিকস্ কিনতাম। সেই দিনগুলো খুব মনে পড়ে। ভীড়ভাট্টার কারনে মার্কেটে কম আসি। তবে ঈদের সময়ে না আসলে আবার ভালোলাগে না।
যা বলছেন বিক্রেতা
চুড়িপট্টির বিপি ট্র্ডে এর ম্যানেজার হাফিজুর রহমান বলেন, বিক্রি এখনো সেভাবে শুরু হয়নি। মেহেদী যা একটু বিক্রি হচ্ছে। ২২ রোজার পর থেকে বাড়ার আশা করছি। রফিকুল স্টোরের বিক্রয়কর্মী রাকিব হাসান অপু বলেন, মেহেদী বিক্রি হচ্ছে তবে অন্যান্য কসমেটিকস্ এর তেমন বিক্রি নেই। জেস টাওয়ারের ফালগুনী পার্লার কালেকশান এর সত্ত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম বলেন, বেচাকেনা শুরু হলেও এখনো তেমন জমে ওঠেনি। সিটিপ্লাজার স্টোনপ্লাস এর সত্ত্বাধিকারী মোহম্মদ শাহরিয়ারও একই কথা বলেন। শুভেচ্ছা কসমেটিকস্ এর বিক্রয়কর্মী নাজমুল হোসেন বলেন, কসমেটিকস্ এর বিক্রি সাধারণত ২২ বা ২৫ রোজার পর থেকে বেশি হয়। এবারে বিক্রি তেমন জমেনি। সামনের সময়ে বিক্রি হয়তো বাড়বে।