অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

খেলাধুলা ডেস্ক।।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চলমান দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।
প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে শতক করা তানজিদ হাসান তামিম মাত্র পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে ফিরে গেলেও কোনো বিপদ হয়নি। মাত্র ১৪ দশমিক ২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে গত ৩০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতা এশিয়ার মাত্র দ্বিতীয় দল হলো বাংলাদেশ। এর আগে এই সময়ে কেবল ভারতই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতেছিল। পাকিস্তানের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া জয় এসেছিল ১৯৯৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে সপ্তম প্রচেষ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল নিজেদের ১২তম টেস্ট পর্যন্ত। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র তৃতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ের কীর্তি গড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ লেগেছে কেবল ইংল্যান্ডের।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে যে কয়টি ম্যাচ লেগেছে…
ইংল্যান্ড — ২ ম্যাচ, ১৮৭৭ সালে ৪ উইকেটে জয়
বাংলাদেশ — ৩ ম্যাচ, ২০২৬ সালে ৯ উইকেটে জয়
দক্ষিণ আফ্রিকা — ৩ ম্যাচ, ১৯১১ সালে ৩৮ রানে জয়
ওয়েস্ট ইন্ডিজ — ৫ ম্যাচ, ১৯৩১ সালে ৩০ রানে জয়
পাকিস্তান — ৭ ম্যাচ, ১৯৭৭ সালে ৮ উইকেটে জয়
নিউজিল্যান্ড — ৭ ম্যাচ, ১৯৮৫ সালে ইনিংস ও ৪১ রানে জয়
ভারত — ১২ ম্যাচ, ১৯৭৭-৭৮ সালে ২২২ রানে জয়
শ্রীলঙ্কা — এখনো জিততে পারেনি
জিম্বাবুয়ে — এখনো জিততে পারেনি
ডারউইনে রোববারের স্মরণীয় জয়ের আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচই হয়েছিল ২০০৩ সালের জুলাইয়ে। দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে বড় অবদান রেখেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে তিনি ৬ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান।
অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন।
তবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার আগে ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেহেদী। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৫৪ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম ১৯৭ বলে ১০১ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন।





















