চুয়াডাঙ্গা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসামির সঙ্গে শার্টের মিল, যা বললেন পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী

Padma Sangbad
১৬

অনলাইন ডেস্ক।।
রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি সিদ্ধার্থের শরীরে যে শার্ট দেখা গেছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি শার্ট মরদেহ উদ্ধারের দিন পুলিশের এক কর্মকর্তার গায়ে দেখা গিয়েছিল।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুরের একাধিক গণমাধ্যমকর্মী আমাদের সময়কে জানিয়েছেন, একই ধরনের একটি শার্ট মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মেট্রোপলিটনের উপপুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তীর পরনে দেখা যায়।

ওই কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেছেন, ‘আসামির শার্টের রঙের সঙ্গে মিলছে বলে আমি এই শার্ট পড়ব না? আমি চিন্তা করছি, এই শার্ট আগামী সাত দিন পরে থাকব।’ এসময় ভিডিও কলে দেখা যায় ওই কর্মকর্তা এখনো ওই শার্ট পরেই অফিস করছেন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হিসেবে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের বাড়িও মাছুয়াপাড়ায়। হত্যাকাণ্ডের পর ভবনটিতে বসে তারা ইয়াবা সেবন করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিজ বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ার জেরেই একে একে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের সবাইকে। রংপুরের বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমের ফেসবুক লাইভে প্রকাশিত এক ব্যক্তিকে এই শার্ট পরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায়। তার মুখে মাস্ক ছিল। তিনিই মূলত ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে গত শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, ঘটনাস্থল এবং নিহতদের পরিবারের স্বজনদের বক্তব্য নিয়ে বেশকিছু প্রশ্ন ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।’

গতকাল রোববার বিকেল ৫টার দিকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।’

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

আপডেট : ১১:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

আসামির সঙ্গে শার্টের মিল, যা বললেন পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী

আপডেট : ১১:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
১৬

অনলাইন ডেস্ক।।
রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি সিদ্ধার্থের শরীরে যে শার্ট দেখা গেছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি শার্ট মরদেহ উদ্ধারের দিন পুলিশের এক কর্মকর্তার গায়ে দেখা গিয়েছিল।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুরের একাধিক গণমাধ্যমকর্মী আমাদের সময়কে জানিয়েছেন, একই ধরনের একটি শার্ট মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মেট্রোপলিটনের উপপুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তীর পরনে দেখা যায়।

ওই কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেছেন, ‘আসামির শার্টের রঙের সঙ্গে মিলছে বলে আমি এই শার্ট পড়ব না? আমি চিন্তা করছি, এই শার্ট আগামী সাত দিন পরে থাকব।’ এসময় ভিডিও কলে দেখা যায় ওই কর্মকর্তা এখনো ওই শার্ট পরেই অফিস করছেন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হিসেবে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের বাড়িও মাছুয়াপাড়ায়। হত্যাকাণ্ডের পর ভবনটিতে বসে তারা ইয়াবা সেবন করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিজ বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ার জেরেই একে একে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের সবাইকে। রংপুরের বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমের ফেসবুক লাইভে প্রকাশিত এক ব্যক্তিকে এই শার্ট পরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায়। তার মুখে মাস্ক ছিল। তিনিই মূলত ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে গত শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, ঘটনাস্থল এবং নিহতদের পরিবারের স্বজনদের বক্তব্য নিয়ে বেশকিছু প্রশ্ন ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।’

গতকাল রোববার বিকেল ৫টার দিকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।’

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।