চুয়াডাঙ্গা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুনের ১৩ মাসেও সাজিদের ফোনের লক খুলতে পারেনি সিআইডি

Padma Sangbad
১৪

ইবি প্রতিনিধি।।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ১৩ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে থেকে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) হেফাজতে থাকা সাজিদের মোবাইল ফোনের লকও এখন পর্যন্ত খোলা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ৩ আগস্ট পাওয়া ভিসেরা প্রতিবেদনে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি উঠে আসে। এর পর দিন ৪ আগস্ট সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরবর্তীতে পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির তদন্তভার পুলিশের কাছ থেকে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে সিআইডির তদন্তেও দীর্ঘদিন দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্যাম্পাসে একাধিকবার বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

তদন্তের অগ্রগতি জানাতে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন সময় ছাত্রনেতা ও সাংবাদিকদের সামনে সিআইডির ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, এসব ব্রিফিংয়ে মামলার তদন্ত নিয়ে আশাব্যঞ্জক কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে চলতি বছরের মে মাসে সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। এর আগে দায়িত্বে থাকা সাইফুল ইসলামের পরিবর্তে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান মহব্বত হোসেন।

এদিকে সাজিদের মৃত্যুর পরও তার মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল রিসিভ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ওই কলগুলো কে রিসিভ করেছিলেন, তা নিয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে সাজিদের মোবাইল ফোনটি নিজেদের হেফাজতে নেয় সিআইডি। তবে ১৩ মাস পেরিয়ে গেলেও ফোনটির লক খুলতে পারেনি তদন্ত সংস্থাটি।

এ বিষয়ে মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মহব্বত হোসেন বলেন, ‘সাজিদের ফোনের লক খোলার জন্য আমরা এক্সপার্টের কাছে পাঠিয়েছিলাম। তবে তারা লক খুলতে পারেনি। রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে পুনরায় কথা বলব। অন্য কোনো পদ্ধতিতে লক খোলা সম্ভব হলে অবশ্যই সেই পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এটিকে গাফিলতি বলার সুযোগ নেই। পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের নিয়মিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।’

আপডেট : ১১:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

খুনের ১৩ মাসেও সাজিদের ফোনের লক খুলতে পারেনি সিআইডি

আপডেট : ১১:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
১৪

ইবি প্রতিনিধি।।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ১৩ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে থেকে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) হেফাজতে থাকা সাজিদের মোবাইল ফোনের লকও এখন পর্যন্ত খোলা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ৩ আগস্ট পাওয়া ভিসেরা প্রতিবেদনে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি উঠে আসে। এর পর দিন ৪ আগস্ট সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরবর্তীতে পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির তদন্তভার পুলিশের কাছ থেকে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে সিআইডির তদন্তেও দীর্ঘদিন দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্যাম্পাসে একাধিকবার বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

তদন্তের অগ্রগতি জানাতে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন সময় ছাত্রনেতা ও সাংবাদিকদের সামনে সিআইডির ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, এসব ব্রিফিংয়ে মামলার তদন্ত নিয়ে আশাব্যঞ্জক কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে চলতি বছরের মে মাসে সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়। এর আগে দায়িত্বে থাকা সাইফুল ইসলামের পরিবর্তে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান মহব্বত হোসেন।

এদিকে সাজিদের মৃত্যুর পরও তার মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল রিসিভ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ওই কলগুলো কে রিসিভ করেছিলেন, তা নিয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে সাজিদের মোবাইল ফোনটি নিজেদের হেফাজতে নেয় সিআইডি। তবে ১৩ মাস পেরিয়ে গেলেও ফোনটির লক খুলতে পারেনি তদন্ত সংস্থাটি।

এ বিষয়ে মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মহব্বত হোসেন বলেন, ‘সাজিদের ফোনের লক খোলার জন্য আমরা এক্সপার্টের কাছে পাঠিয়েছিলাম। তবে তারা লক খুলতে পারেনি। রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে পুনরায় কথা বলব। অন্য কোনো পদ্ধতিতে লক খোলা সম্ভব হলে অবশ্যই সেই পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এটিকে গাফিলতি বলার সুযোগ নেই। পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের নিয়মিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।’