চুয়াডাঙ্গা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি

Padma Sangbad
২১

অর্থনীতি ডেস্ক।।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি বড় এশীয় বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে চীনে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে চীনে রপ্তানি আয় হয়েছে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ২০ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানি ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার ডলার।

ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিও বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ভারতে রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য।

এশিয়ার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাজার জাপানেও সামান্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপানে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৯ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এশিয়ার বাজারে রপ্তানি বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার বড় বাজারগুলোতে রপ্তানি বাড়ার প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজার ও নতুন পণ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো, ক্রেতাদের চাহিদা বোঝা এবং নতুন পণ্য ও বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের জন্য বিশাল সম্ভাবনাময় বাজার। দেশটিতে নতুন নতুন বাংলাদেশি পণ্যের বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নৈকট্য থাকায় আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

চীনের বাজারে পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে হাসান আরিফ বলেন, দেশটির বিশাল ভোক্তা বাজার এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।

ইপিবির সহযোগিতায় কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ১০ম চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে। এসব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ভৌগোলিক নৈকট্য এবং বিশাল ভোক্তা বাজারের কারণে ভারত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। তবে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা কমাতে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কাজ চলছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, ওষুধ এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

জাপানের বাজারে একইভাবে চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

হাসান আরিফ বলেন, এশিয়ার বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়াতে হলে পণ্যের মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের চাহিদা, মানদণ্ড ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং বাজারের চাহিদা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা জরুরি।

রপ্তানি বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণে ইপিবি বিভিন্ন বাণিজ্য মেলা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল, বাজার অনুসন্ধান এবং প্রচারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সহযোগিতা করছে।

এশিয়ার বড় বাজারগুলোতে রপ্তানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত আরও বৈচিত্র্যময় হওয়ার পাশাপাশি নতুন বাজারে দেশীয় পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: বাসস

আপডেট : ১০:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি

আপডেট : ১০:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
২১

অর্থনীতি ডেস্ক।।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি বড় এশীয় বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে চীনে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে চীনে রপ্তানি আয় হয়েছে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ২০ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানি ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার ডলার।

ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিও বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ভারতে রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য।

এশিয়ার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বাজার জাপানেও সামান্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপানে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৯ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এশিয়ার বাজারে রপ্তানি বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার বড় বাজারগুলোতে রপ্তানি বাড়ার প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজার ও নতুন পণ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো, ক্রেতাদের চাহিদা বোঝা এবং নতুন পণ্য ও বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের জন্য বিশাল সম্ভাবনাময় বাজার। দেশটিতে নতুন নতুন বাংলাদেশি পণ্যের বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নৈকট্য থাকায় আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

চীনের বাজারে পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে হাসান আরিফ বলেন, দেশটির বিশাল ভোক্তা বাজার এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।

ইপিবির সহযোগিতায় কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ১০ম চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে। এসব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ভৌগোলিক নৈকট্য এবং বিশাল ভোক্তা বাজারের কারণে ভারত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। তবে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা কমাতে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কাজ চলছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, ওষুধ এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

জাপানের বাজারে একইভাবে চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

হাসান আরিফ বলেন, এশিয়ার বাজারগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়াতে হলে পণ্যের মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের চাহিদা, মানদণ্ড ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং বাজারের চাহিদা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা জরুরি।

রপ্তানি বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণে ইপিবি বিভিন্ন বাণিজ্য মেলা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল, বাজার অনুসন্ধান এবং প্রচারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সহযোগিতা করছে।

এশিয়ার বড় বাজারগুলোতে রপ্তানি বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত আরও বৈচিত্র্যময় হওয়ার পাশাপাশি নতুন বাজারে দেশীয় পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: বাসস