চুয়াডাঙ্গা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে ঠান্ডা জনিত রোগ, এক মাসে নিউমোনিয়ায় ৭ শিশুর মৃত্যু

Padma Sangbad
৮

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক:
খাগড়াছড়িতে তীব্র আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুদের ঠান্ডা জনিত রোগের প্রকোপ। দিনে তীব্র গরম আর রাতে ঠান্ডা—আবহাওয়ার এমন বৈপরীত্যের কারণে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে একের পর এক শিশু। গত এক মাসে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রায় ৪০০ শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত ৭ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু ঠান্ডা জনিত নানা উপসর্গ নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে মাত্র ২৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বিপুল সংখ্যক রোগীর কারণে মারাত্মক আসন সংকট দেখা দিয়েছে। জায়গা না পেয়ে অনেক বাধ্য হয়ে মেঝতেই শিশুদের চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা ও স্থান সংকটে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।
হাসপাতালে আসা স্বজনরা জানান, প্রথমে সাধারণ সর্দি-কাশি বা জ্বর মনে হলেও দু-একদিনের মধ্যেই শিশুদের শ্বাসকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করছে। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসতে হচ্ছে।
হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স অনিতা চাকমা জানান, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের রোগব্যাধি কিছুটা বাড়লেও এবার রোগীর চাপ ধারণক্ষমতার বহু বাইরে। বিশেষ করে নবজাতক ও ছোট শিশুদের মাঝে নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, “দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে শিশুরা সহজেই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গত এক মাসে আমাদের হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় ৭ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে শিশুদের ধুলাবালি ও ঠান্ডা থেকে মুক্ত রেখে উষ্ণ পরিবেশে রাখতে হবে। দ্রুত শ্বাস নেওয়া, তীব্র জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলেই অবহেলা না করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।”

আপডেট : ১২:৩৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

খাগড়াছড়িতে আবহাওয়া পরিবর্তনে বাড়ছে ঠান্ডা জনিত রোগ, এক মাসে নিউমোনিয়ায় ৭ শিশুর মৃত্যু

আপডেট : ১২:৩৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
৮

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক:
খাগড়াছড়িতে তীব্র আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুদের ঠান্ডা জনিত রোগের প্রকোপ। দিনে তীব্র গরম আর রাতে ঠান্ডা—আবহাওয়ার এমন বৈপরীত্যের কারণে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে একের পর এক শিশু। গত এক মাসে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রায় ৪০০ শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত ৭ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন শিশু ঠান্ডা জনিত নানা উপসর্গ নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে মাত্র ২৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বিপুল সংখ্যক রোগীর কারণে মারাত্মক আসন সংকট দেখা দিয়েছে। জায়গা না পেয়ে অনেক বাধ্য হয়ে মেঝতেই শিশুদের চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা ও স্থান সংকটে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।
হাসপাতালে আসা স্বজনরা জানান, প্রথমে সাধারণ সর্দি-কাশি বা জ্বর মনে হলেও দু-একদিনের মধ্যেই শিশুদের শ্বাসকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করছে। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসতে হচ্ছে।
হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স অনিতা চাকমা জানান, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের রোগব্যাধি কিছুটা বাড়লেও এবার রোগীর চাপ ধারণক্ষমতার বহু বাইরে। বিশেষ করে নবজাতক ও ছোট শিশুদের মাঝে নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, “দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে শিশুরা সহজেই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গত এক মাসে আমাদের হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় ৭ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে শিশুদের ধুলাবালি ও ঠান্ডা থেকে মুক্ত রেখে উষ্ণ পরিবেশে রাখতে হবে। দ্রুত শ্বাস নেওয়া, তীব্র জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলেই অবহেলা না করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।”