গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে সহিংসতার মামলায় আসামি ৪ হাজার

গাজীপুর (মহানগর) প্রতিনিধি।।
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক মজুরির দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় প্রায় চার হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিল্পাঞ্চল-২ (গাজীপুর) পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আজ সোমবার সকাল থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার শফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎ এবং গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ী ও সালনা এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরাতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এদিকে আন্দোলন চলাকালে কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পল্লীবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এসব সহিংসতার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলাগুলোর মধ্যে শিল্প পুলিশ দুটি এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) একটি করেছে। তিন মামলায় প্রায় চার হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগের দিন গতকাল রোববার সকাল থেকেই কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, শফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
টানা কয়েক দিনের আন্দোলন ও সহিংসতায় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে দুই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।




















