চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে র্যালি ও আলোচনা সভা

শিমুল রেজা।।
জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান : টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ রোববার সকাল ১০টায় সিভিল সার্জন কার্যালয় চত্বর থেকে র্যালি নিয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়। পরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মাতৃদুগ্ধ ও শিশুখাদ্য বিষয়ক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজিদ হাসান।
সহযোগী অধ্যাপক ও গাইনী কনসালটেন্ট ডা. আকলিমা খাতুন তার বক্তব্যে বলেন, শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। অনেকেই দেখা যায় বাচ্চা জন্মের পর বাইরে থেকে দুধ কিনে এনে খাওয়ান। রেজিস্টার ডাক্তারের পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনোভাবেই বাহিরের দুধ কিনে খাওয়ানো যাবে না। একটি বাচ্চার পাকস্থলী খুবই ছোট হয় তাই জন্মের পর অল্প অল্প পরিমাণ বুকের দুধ খাওয়ালেই বাচ্চা সুস্থ সবল থাকে।
এ সময় সিভিল সার্জন বলেন, শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধের কোন বিকল্প নেই। যারা বাচ্চা জন্মের পর বাইরে দুধ কিনে খাওয়ান এতে বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।
কোন রেজিস্টার চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ব্যতীত কৌটার দুধ বিক্রি করা অপরাধ। এ বিষয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করারও বিধান রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।
এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান, সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফারহানা ওয়াহিদ তানি। সভায় বক্তারা শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধের অপরিহার্যতা তুলে ধরেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ (এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং) খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ে পুষ্টিকর পরিপূরক খাবার শুরু করার পাশাপাশি দুই বছর বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ পান অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।
জন্মলগ্নেই শিশুকে শালদুগ্ধ প্রদান এবং প্রথম ছয় মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ পানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, মেডিকেল অফিসার শামীমা ইয়াসমিন, বক্ষব্যাধি চিকিৎসক ডা. ফাতিমা হক, সদর হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী ফারুক হোসেন প্রমুখ।




















