চুয়াডাঙ্গায় সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা কোর্ট মোড়স্থ দলের জেলা কার্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৬ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলায় ৪৫টি সার ডিলারশিপ বরাদ্দের বিপরীতে মোট ৬৪২টি আবেদন জমা পড়ে। তবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চড়াও হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি। অভিযোগ করা হয়, নব্য অনুমোদিত ৪৫ জন সার ডিলারের মধ্যে ৪২ জনই বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং তাঁদের স্বামীদের বা স্ত্রীদের নামে ভাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক প্রকৃত ও যোগ্য আবেদনকারী সম্পূর্ণ অন্যায্যভাবে বঞ্চিত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য মো. রুহুল আমিন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল উপস্থিত থেকে স্থানীয় কৃষি খাতের এই দুর্নীতির তীব্র প্রতিবাদ জানান।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তোলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তবিক অস্তিত্ব, নিজস্ব গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা ও আর্থিক সক্ষমতা সঠিক নীতিমালা মেনে যাচাই করা হয়েছে কি না তা সুনির্দিষ্টভাবে পাবলিক নোটিশে প্রকাশ করতে হবে। সেই সঙ্গে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে কোনো গোপন অর্থ লেনদেন বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়।
কৃষক সমাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংবাদ সম্মেলন থেকে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— বিতর্কিত নিয়োগ স্থগিত রেখে একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগ্যতা প্রকাশ্যে যাচাইকরণ, অভিযোগ প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ।
জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জামায়াত নেতারা জানান, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনা না রেখে কেবল সততা, যোগ্যতা ও কৃষকসেবার সামর্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন করে সার ডিলার নিয়োগ দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলতাফ হোসাইন, জীবননগর উপজেলা সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলার সাবেক আমির সফিউল আলম বকুল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাইমুদ্দিন হিরোক, চুয়াডাঙ্গা পৌর আমির হাসিবুল ইসলাম, সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল এবং জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার।




















