দর্শনায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-চাদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর যুবদল সদস্য বহিষ্কার, ২১ জনের নামে চাদাবাজ সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা।।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর অফিস ও বাসায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর দর্শনা পৌর যুবদলের সদস্য মো. রাকিবুল হাসান ব্রাইটকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ২১ জনকে এজাহার ভুক্ত ও অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে চাদাবাজ ও সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়েছে।
শুক্রবারের ওই ঘটনায় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় দর্শনা পৌর যুবদলের সদস্য ব্রাইট (৩৫) সহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তি দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য মোহাম্মদ অমিন (২৫)।
এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম ২১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও চার-পাচজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলায় চাদাবাজি ও সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শনিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুল হাসান ব্রাইটকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের অভিযোগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দর্শনা পৌর যুবদলের সদস্য পদসহ দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বহিষ্কৃত ওই নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের আগে দর্শনা রেলগেট এলাকায় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক-রপ্তানিকারক রফিকুল ইসলামের অফিস ও বাসায় হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তার কাছে চাদা দাবি করে আসছিল।
তার অভিযোগ, সম্প্রতি একটি পাথরের চালান দর্শনা বন্দর দিয়ে খালাসের কাজ পাওয়ার পর তাকে মোটা অঙ্কের চাদা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রথমে ২০ লাখ টাকা এবং ঘটনার আগের রাতেও ১০ লাখ টাকা চাদা দাবি করা হয়।
রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, শুক্রবার সকালে টাকা না দিলে অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের হুমকি দেওয়ার কিছুক্ষণ পর লাঠিসোটা নিয়ে একদল ব্যক্তি তার অফিসে হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফটোকপি মেশিন ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ সময় অফিসে রাখা নগদ ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং তার স্বাক্ষরিত দুটি ব্যাংক চেক নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রফিকুল ইসলাম।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
তিনি বলেন, দর্শনা রেলগেট এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের বাসা ও অফিসে চাদা দাবির অভিযোগে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে কিছু নাম পাওয়া গেছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুর উল্লাহ জানান, সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও চার-পাচজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় চাদাবাজি ও সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, চাদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফুজ্জামান সিজার বলেন, ব্রাইট ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে তারা জানতে পেরেছেন। তারপরও তার বিরুদ্ধে চাদাবাজি ও সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
অপরদিকে মামলার তদন্ত এবং গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




















