চুয়াডাঙ্গা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দামুড়হুদায় খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা, শুরু হচ্ছে রস ও গুড় তৈরির প্রস্তুতি

Padma Sangbad
১৩

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক।।

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ পরিচর্যার কাজ। নিপুণ হাতে গাছের ডালা ছাঁটাই ও চাঁচাছোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন গ্রামের গাছিরা। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে কাঙ্ক্ষিত রস সংগ্রহ, যা থেকে তৈরি হবে দেশজুড়ে সুনাম থাকা সুস্বাদু গুড় ও পাটালি।

সরেজমিনে দেখা যায়,দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কোমরে মোটা দড়ি বেধে ও হাতে গাছিদা নিয়ে গাছিরা খেজুর গাছ রস সংগ্রহের উপযোগী করে তুলতে প্রাক-প্রস্তুতি সারছেন। গাছ চাঁচাছোলার পর কিছুদিন শুকাতে দিয়ে তা থেকে বিশেষ নালির মাধ্যমে ভাঁড়ে নামানো হবে মিষ্টি রস।

হাউলী ইউনিয়নের তারিনিপুর গ্রামের গাছি জসিম উদ্দিন জানান, নিজের ৭০টি এবং অন্যের কাছ থেকে বর্গা নেওয়া ৯০টিসহ মোট ১৬০টি গাছ থেকে এবার রস সংগ্রহ করবেন তিনি। ফাল্গুন মাস পর্যন্ত পুরোদমে চলবে গুড় তৈরির এই তোড়জোড়। একই এলাকার অন্য গাছিরা জানান, মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই নিজেরাই নিজেদের গাছ পরিচর্যা করছেন।

মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে দামুড়হুদার ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর স্টেশন বাজার ও চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ বাজারসহ স্থানীয় হাটগুলোতে খাঁটি গুড় বিক্রির ধুম পড়বে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পাইকাররা এসব হাট থেকে গুড় কিনে পৌঁছে দেবেন নানা জেলায়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার চারটি উপজেলায় মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬০টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু দামুড়হুদাতেই রয়েছে ৮৩ হাজার গাছ। এ বছর জেলাজুড়ে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন খাঁটি গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গ্রামবাংলার এই প্রাচীন রূপ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে পুরোনো গাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন খেজুর চারা রোপণের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

আপডেট : ১২:০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

দামুড়হুদায় খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা, শুরু হচ্ছে রস ও গুড় তৈরির প্রস্তুতি

আপডেট : ১২:০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
১৩

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক।।

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ পরিচর্যার কাজ। নিপুণ হাতে গাছের ডালা ছাঁটাই ও চাঁচাছোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন গ্রামের গাছিরা। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে কাঙ্ক্ষিত রস সংগ্রহ, যা থেকে তৈরি হবে দেশজুড়ে সুনাম থাকা সুস্বাদু গুড় ও পাটালি।

সরেজমিনে দেখা যায়,দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কোমরে মোটা দড়ি বেধে ও হাতে গাছিদা নিয়ে গাছিরা খেজুর গাছ রস সংগ্রহের উপযোগী করে তুলতে প্রাক-প্রস্তুতি সারছেন। গাছ চাঁচাছোলার পর কিছুদিন শুকাতে দিয়ে তা থেকে বিশেষ নালির মাধ্যমে ভাঁড়ে নামানো হবে মিষ্টি রস।

হাউলী ইউনিয়নের তারিনিপুর গ্রামের গাছি জসিম উদ্দিন জানান, নিজের ৭০টি এবং অন্যের কাছ থেকে বর্গা নেওয়া ৯০টিসহ মোট ১৬০টি গাছ থেকে এবার রস সংগ্রহ করবেন তিনি। ফাল্গুন মাস পর্যন্ত পুরোদমে চলবে গুড় তৈরির এই তোড়জোড়। একই এলাকার অন্য গাছিরা জানান, মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই নিজেরাই নিজেদের গাছ পরিচর্যা করছেন।

মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে দামুড়হুদার ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর স্টেশন বাজার ও চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ বাজারসহ স্থানীয় হাটগুলোতে খাঁটি গুড় বিক্রির ধুম পড়বে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পাইকাররা এসব হাট থেকে গুড় কিনে পৌঁছে দেবেন নানা জেলায়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার চারটি উপজেলায় মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬০টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু দামুড়হুদাতেই রয়েছে ৮৩ হাজার গাছ। এ বছর জেলাজুড়ে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন খাঁটি গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গ্রামবাংলার এই প্রাচীন রূপ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে পুরোনো গাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন খেজুর চারা রোপণের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।