চুয়াডাঙ্গা ০৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকৃতির অনন্য বিস্ময় ‘নাগলিঙ্গম’: সৌন্দর্য, বৈশিষ্ট্য ও অজানা তথ্য

Padma Sangbad
১৭

এস আর এ হান্নান:

প্রকৃতির বিচিত্র ও বিস্ময়কর সৃষ্টির মধ্যে নাগলিঙ্গম এক অনন্য নাম। অদ্ভুত গড়ন, মিষ্টি সুবাস এবং বিশাল আকৃতির ফল—সব মিলিয়ে এই বৃক্ষ যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত শিল্পকর্ম। বিশেষ ও অদ্ভুত আকৃতির কারণে উদ্ভিদপ্রেমীদের কাছে নাগলিঙ্গম বৃক্ষের রয়েছে আলাদা আকর্ষণ।

এটি মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় বৃষ্টিবনভূমির (রেইনফরেস্ট) উদ্ভিদ। তবে সৌন্দর্য ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে এটি শোভাবর্ধন করছে। ‘লেসিথিডাসি’ (Lecythidaceae) পরিবারের এই বৃক্ষ ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। বাংলাদেশেরও বিভিন্ন পার্ক ও ঐতিহাসিক স্থানে দুর্লভ এই বৃক্ষ ও ফুল চোখে পড়ে।

নাগলিঙ্গমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য এর ফুল ফোটায়। সাধারণ ফুলের মতো গাছের পাতা বা ডালপালার আগায় নয়; বরং গাছের কাণ্ড ও মোটা শাখা থেকে থোকায় থোকায় সরাসরি লতা ঝুলে ফুল ফোটে। ফুলের মাঝখানে সাপের ফণার মতো বাঁকানো একটি গঠন থাকে, যা দেখতে অনেকটা নাগ বা শিবলিঙ্গের মতো। এ কারণেই বাংলায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘নাগলিঙ্গম’। লাল, গোলাপি, হলুদ ও সাদার মনোমুগ্ধকর মিশ্রণে ফুটে ওঠা এই ফুল চারপাশে ছড়িয়ে দেয় তীব্র মিষ্টি সুবাস।

ফুল ঝরে যাওয়ার পর গাছে ধরে বড় ও ভারী আকৃতির গোলাকার ফল। শক্ত ও কাঠের মতো খোলসে আবৃত এসব ফল দেখতে একদম তোপ বা কামানের গোলার মতো। এ কারণেই ইংরেজিতে নাগলিঙ্গমের পরিচিতি ‘ক্যাননবল ট্রি’ (Cannonball Tree) নামে। গাছ থেকে পরিণত ফল নিচে পড়ে ফেটে গেলে কখনো কখনো কামানের গোলার মতোই বিকট শব্দ হয়।

সব মিলিয়ে নাগলিঙ্গম কেবল সুন্দর এক ফুলই নয়; বরং রূপ, রূপান্তর ও বৈচিত্র্যে এটি প্রকৃতির এক অপূর্ব বিস্ময়।

আপডেট : ১২:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রকৃতির অনন্য বিস্ময় ‘নাগলিঙ্গম’: সৌন্দর্য, বৈশিষ্ট্য ও অজানা তথ্য

আপডেট : ১২:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
১৭

এস আর এ হান্নান:

প্রকৃতির বিচিত্র ও বিস্ময়কর সৃষ্টির মধ্যে নাগলিঙ্গম এক অনন্য নাম। অদ্ভুত গড়ন, মিষ্টি সুবাস এবং বিশাল আকৃতির ফল—সব মিলিয়ে এই বৃক্ষ যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত শিল্পকর্ম। বিশেষ ও অদ্ভুত আকৃতির কারণে উদ্ভিদপ্রেমীদের কাছে নাগলিঙ্গম বৃক্ষের রয়েছে আলাদা আকর্ষণ।

এটি মূলত মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় বৃষ্টিবনভূমির (রেইনফরেস্ট) উদ্ভিদ। তবে সৌন্দর্য ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে এটি শোভাবর্ধন করছে। ‘লেসিথিডাসি’ (Lecythidaceae) পরিবারের এই বৃক্ষ ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। বাংলাদেশেরও বিভিন্ন পার্ক ও ঐতিহাসিক স্থানে দুর্লভ এই বৃক্ষ ও ফুল চোখে পড়ে।

নাগলিঙ্গমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য এর ফুল ফোটায়। সাধারণ ফুলের মতো গাছের পাতা বা ডালপালার আগায় নয়; বরং গাছের কাণ্ড ও মোটা শাখা থেকে থোকায় থোকায় সরাসরি লতা ঝুলে ফুল ফোটে। ফুলের মাঝখানে সাপের ফণার মতো বাঁকানো একটি গঠন থাকে, যা দেখতে অনেকটা নাগ বা শিবলিঙ্গের মতো। এ কারণেই বাংলায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘নাগলিঙ্গম’। লাল, গোলাপি, হলুদ ও সাদার মনোমুগ্ধকর মিশ্রণে ফুটে ওঠা এই ফুল চারপাশে ছড়িয়ে দেয় তীব্র মিষ্টি সুবাস।

ফুল ঝরে যাওয়ার পর গাছে ধরে বড় ও ভারী আকৃতির গোলাকার ফল। শক্ত ও কাঠের মতো খোলসে আবৃত এসব ফল দেখতে একদম তোপ বা কামানের গোলার মতো। এ কারণেই ইংরেজিতে নাগলিঙ্গমের পরিচিতি ‘ক্যাননবল ট্রি’ (Cannonball Tree) নামে। গাছ থেকে পরিণত ফল নিচে পড়ে ফেটে গেলে কখনো কখনো কামানের গোলার মতোই বিকট শব্দ হয়।

সব মিলিয়ে নাগলিঙ্গম কেবল সুন্দর এক ফুলই নয়; বরং রূপ, রূপান্তর ও বৈচিত্র্যে এটি প্রকৃতির এক অপূর্ব বিস্ময়।