চুয়াডাঙ্গা ০১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ উন্মোচন: ওয়াকফ সংশোধনী বিল মুসলিম অধিকারের উপর হিন্দুত্ববাদের হামলা

Padma Sangbad
১০৮

লেখক শায়খ আহমাদুল্লাহ।।
সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন, মুসলমানদের ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মান ও স্বাধীনতার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলো ওয়াকফ। প্রাতিষ্ঠানিক সম্পত্তির দিক থেকে ভারতীয় ওয়াকফ বোর্ড গোটা ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম সম্পত্তির মালিক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ওয়াকফ ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি কেবল মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতারই প্রতীক নয়, বরং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারেরও ভিত্তি।

কিন্তু ভারত সরকার মুসলমানদের এই মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫ পাস করেছে। মুসলিম সম্প্রদায় ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র প্রতিবাদের মুখেও ১৩ ঘণ্টার দীর্ঘ বিতর্ক শেষে লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই বিল পাস হয়েছে। অথচ ২৩২ জন সাংসদ এই বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন!

এই বিলের মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের অনুপ্রবেশের পথ তৈরি করা হয়েছে, যা মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বকীয়তা ও ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে পারে। এর ফলে মসজিদ, মাদরাসা ও ওয়াকফকৃত সম্পত্তি হিন্দুদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যথার্থই বলেছেন, “এই বিল মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।” প্রশ্ন হলো— ভারতের হিন্দুরা কি তাদের মন্দির পরিচালনে মুসলিমদের অনুমতি দেবে? যদি না দেয়, তবে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অমুসলিমদের হস্তক্ষেপ কেন?

যে দেশে হোলির রং না মাখা বা গোশত খাওয়ার “অপরাধে” মুসলিমদের লাঞ্ছিত ও হত্যা করা হয়, সেখানে ওয়াকফ সম্পত্তি কি আদৌ নিরাপদ থাকবে? এই আইন হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর মুসলিম-বিদ্বেষী এজেন্ডাকেই সামনে এনেছে।

আমরা ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫-এর তীব্র নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করছি। এটি ভারতের সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি রাষ্ট্রীয় বৈষম্যেরই প্রতিফলন।

আপডেট : ০১:২২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ উন্মোচন: ওয়াকফ সংশোধনী বিল মুসলিম অধিকারের উপর হিন্দুত্ববাদের হামলা

আপডেট : ০১:২২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
১০৮

লেখক শায়খ আহমাদুল্লাহ।।
সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন, মুসলমানদের ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মান ও স্বাধীনতার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলো ওয়াকফ। প্রাতিষ্ঠানিক সম্পত্তির দিক থেকে ভারতীয় ওয়াকফ বোর্ড গোটা ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম সম্পত্তির মালিক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ওয়াকফ ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি কেবল মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতারই প্রতীক নয়, বরং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারেরও ভিত্তি।

কিন্তু ভারত সরকার মুসলমানদের এই মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫ পাস করেছে। মুসলিম সম্প্রদায় ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র প্রতিবাদের মুখেও ১৩ ঘণ্টার দীর্ঘ বিতর্ক শেষে লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই বিল পাস হয়েছে। অথচ ২৩২ জন সাংসদ এই বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন!

এই বিলের মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের অনুপ্রবেশের পথ তৈরি করা হয়েছে, যা মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বকীয়তা ও ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে পারে। এর ফলে মসজিদ, মাদরাসা ও ওয়াকফকৃত সম্পত্তি হিন্দুদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যথার্থই বলেছেন, “এই বিল মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।” প্রশ্ন হলো— ভারতের হিন্দুরা কি তাদের মন্দির পরিচালনে মুসলিমদের অনুমতি দেবে? যদি না দেয়, তবে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অমুসলিমদের হস্তক্ষেপ কেন?

যে দেশে হোলির রং না মাখা বা গোশত খাওয়ার “অপরাধে” মুসলিমদের লাঞ্ছিত ও হত্যা করা হয়, সেখানে ওয়াকফ সম্পত্তি কি আদৌ নিরাপদ থাকবে? এই আইন হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর মুসলিম-বিদ্বেষী এজেন্ডাকেই সামনে এনেছে।

আমরা ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫-এর তীব্র নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করছি। এটি ভারতের সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি রাষ্ট্রীয় বৈষম্যেরই প্রতিফলন।