ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে যাবেন’, সমর্থকদের ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট না দিলে সমর্থকদের ‘জাহান্নামে যেতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত রিপাবলিকান মধ্যবর্তী সম্মেলনে সমর্থকদের আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার শপথ করানোর পর এমন মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সম্মেলনে উপস্থিত সমর্থকদের একটি শপথ পাঠ করান ট্রাম্প। এতে তারা নিজেদের পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদেরও আগামী ৩ নভেম্বর বা তার আগেই ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। শপথে ট্রাম্পকে আমেরিকার ইতিহাসের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে তার প্রতি দায়বদ্ধ থাকার কথাও বলা হয়।
ভাষণে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। একই পদ্ধতিতে পাল্টা কাজ করার কথা রসিকতার ছলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা ভোট দেবেন না, তারা ‘সোজা জাহান্নামে’ যাবেন।
সম্মেলনে নিজের সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, গত ১৯ মাসে তিনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেগুলোর সবই পূরণ করেছেন। শেয়ারবাজারের উত্থান, ওষুধের দাম কমানো, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়গুলোকে নিজের সরকারের সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘অন্ধকার অধ্যায়’ পেরিয়ে সমৃদ্ধির ‘স্বর্ণযুগে’ প্রবেশ করেছে।
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের আসন হারানোর ঝুঁকিতে থাকে। তবে ট্রাম্প এবারের নির্বাচনে সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করবে এবং অপরাধীদের মুক্ত করে দেবে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণ দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি সমর্থকদের নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে রিপাবলিকান দলকে দুর্বল না করে কংগ্রেসে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, ভ্যান্সের এই ভূমিকা শুধু মধ্যবর্তী নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়; ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য তাকে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আরও দৃশ্যমান করার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

























