চুয়াডাঙ্গা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাচায় ঝুলছে হলুদ-কালো তরমুজ

Padma Sangbad
১১৭

কৃষি ডেস্ক ।।

পুকুরপাড়ে ফাঁকা জায়গায় অসময়ের নানা রঙেন তরমুজ চাষাবাদ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন রমজান আলী নামে এক চাষী। সাত বিঘা জমিতে তরমুজ এবং মাছ চাষাবাদ করে তিনি নিজের ভাগ্যর চাকু ঘুরিয়েছেন। সফল এ চাষী নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার গৌরবরদী গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়,এ চাষী কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। বিএসএস পাস করার পর প্রচলিত চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। ২০০৯ সালে তিনি চাষাবাদে যুক্ত হন। ২০১৪ সালে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন। টমেটো ও চিচিঙ্গা দিয়ে শুরু হওয়া সেই যাত্রায় পরে যুক্ত হয় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের সবজি ও ফল। সময়ের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং নতুন চাষপদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বর্তমানে সাত বিঘা জমিতে মাচা তৈরি করে কালাচান ও তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষ করছেন রমজান। মাচার চারপাশে সবুজ লতায় ঝুলছে অসংখ্য তরমুজ। একই জায়গায় পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুরপাড়ে রয়েছে করলা, লাউসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ। মাটিতে নয়, পুকুরপাড়ের মাচায় ঝুলছে সারি সারি তরমুজ। কোনোটি কালো, কোনোটি হলুদ- ছোট-বড় নানা আকারের ফল নজর কাড়ছে পথচারী ও স্থানীয় কৃষকদের। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মৌসুমের বাইরে তরমুজ চাষ করে এমনই ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন কৃষক রমজান আলী।

সফল চাষী রমজান আলী জানান, চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে বিক্রি শেষে প্রায় চার লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। তার উৎপাদিত ফসল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও গাউছিয়া এলাকার বাজার ও আড়তে বিক্রি করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন,কৃষিতে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় বর্তমানে গড়ে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। চাকরি বা বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট। তার মতে, পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করতে পারলে কৃষি তরুণদের জন্যেও সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হতে পারে।

সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, রমজান আলীর মতো শিক্ষিত তরুণের আধুনিক কৃষিতে যুক্ত হওয়া স্থানীয় কৃষির জন্যে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশকসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

আপডেট : ০১:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাচায় ঝুলছে হলুদ-কালো তরমুজ

আপডেট : ০১:৫৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১৭

কৃষি ডেস্ক ।।

পুকুরপাড়ে ফাঁকা জায়গায় অসময়ের নানা রঙেন তরমুজ চাষাবাদ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন রমজান আলী নামে এক চাষী। সাত বিঘা জমিতে তরমুজ এবং মাছ চাষাবাদ করে তিনি নিজের ভাগ্যর চাকু ঘুরিয়েছেন। সফল এ চাষী নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার গৌরবরদী গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়,এ চাষী কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। বিএসএস পাস করার পর প্রচলিত চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। ২০০৯ সালে তিনি চাষাবাদে যুক্ত হন। ২০১৪ সালে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন। টমেটো ও চিচিঙ্গা দিয়ে শুরু হওয়া সেই যাত্রায় পরে যুক্ত হয় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের সবজি ও ফল। সময়ের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং নতুন চাষপদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বর্তমানে সাত বিঘা জমিতে মাচা তৈরি করে কালাচান ও তৃপ্তি জাতের তরমুজ চাষ করছেন রমজান। মাচার চারপাশে সবুজ লতায় ঝুলছে অসংখ্য তরমুজ। একই জায়গায় পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি পুকুরপাড়ে রয়েছে করলা, লাউসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ। মাটিতে নয়, পুকুরপাড়ের মাচায় ঝুলছে সারি সারি তরমুজ। কোনোটি কালো, কোনোটি হলুদ- ছোট-বড় নানা আকারের ফল নজর কাড়ছে পথচারী ও স্থানীয় কৃষকদের। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মৌসুমের বাইরে তরমুজ চাষ করে এমনই ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন কৃষক রমজান আলী।

সফল চাষী রমজান আলী জানান, চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে বিক্রি শেষে প্রায় চার লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। তার উৎপাদিত ফসল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও গাউছিয়া এলাকার বাজার ও আড়তে বিক্রি করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন,কৃষিতে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় বর্তমানে গড়ে মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। চাকরি বা বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট। তার মতে, পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করতে পারলে কৃষি তরুণদের জন্যেও সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হতে পারে।

সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, রমজান আলীর মতো শিক্ষিত তরুণের আধুনিক কৃষিতে যুক্ত হওয়া স্থানীয় কৃষির জন্যে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশকসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।