মৌসুমের আগেই শিমের বাজার দখল, হরিণাকুণ্ডুতে কৃষকের মুখে হাসি

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা।।
মৌসুম শুরুর আগেই শিমের ফলন—আর বাজারে মিলছে ভালো দাম। অনুকূল আবহাওয়ায় আগাম শিম চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কৃষকেরা। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু হওয়া শিম চাষ এখন ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তাহেরহুদা ইউনিয়নের রামনগর, ভায়না ইউনিয়নের তৈলটুপি, দৌলতপুর ইউনিয়নের সোনাতনপুর, ভূইয়াপাড়া, কাপাশহাটিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠে আগাম শিমের আবাদ হয়েছে। অনেক জমিতেই ইতোমধ্যে শিম উঠতে শুরু করেছে।
কৃষকেরা জানান, আগাম সবজি হিসেবে শিমের চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় ৩০-৩৫ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও এসব এলাকায় মূলত বাড়ির আঙিনা কিংবা পতিত জমিতে পারিবারিক চাহিদা মেটাতে শিম চাষ করা হতো। অন্য ফসলের তুলনায় শিমে লাভ বেশি হওয়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে মাঠজুড়ে এর আবাদ করছেন কৃষকেরা।
চাষিরা হাইব্রিড জাতের শিমের পাশাপাশি হাবিল ও রূপবান জাতের শিম বেশি চাষ করছেন। এসব জাতের ফলন ভালো হওয়ায় এবং আগাম বাজার ধরতে পারায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।
রামনগর গ্রামের কৃষক রুস্তম আলী বলেন, ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই তাঁর জমিতে আগাম শিম উঠতে শুরু করেছে। ১২ কাঠা জমিতে শিম চাষ করে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন তিনি।
রুস্তম আলী বলেন, মৌসুমের শুরুতে যেকোনো সবজি বাজারে তুলতে পারলে দাম ও চাহিদা—দুটিই বেশি থাকে। এ কারণেই তিনি আগাম শিম চাষে গুরুত্ব দিয়েছেন।
একই গ্রামের এক নারী কৃষক জানান, এবার শিমের ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাওয়ায় সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। তাঁর সফলতা দেখে গ্রামের অন্য নারীরাও আগাম সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ৪১ হেক্টর জমিতে আগাম সবজি চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে শিমের পাশাপাশি রয়েছে বেগুন, লালশাক, পুঁইশাক ও টমেটো।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, আগাম সবজি চাষে সাধারণত পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হয়। তবে কৃষকেরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাঁরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, চলতি মৌসুমের শুরুতে শিমখেতে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করায় তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং বর্তমানে শিমের ফলন ভালো হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্য বছরের তুলনায় এবার বাজারদরও ভালো।
কৃষি কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেন, কৃষকেরা আগাম সবজি চাষে লাভবান হওয়ায় আগামী দিনে এ ধরনের আবাদ আরও বাড়বে।





















