যশোরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পেরেক আল-আমিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি টুটুল আটক

যশোর সংবাদদাতা।।
যশোরে চাঞ্চল্যকর স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন হোসেন ওরফে পেরেক আল-আমিন হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি সফিয়ার রহমান ওরফে টুটুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকুও উদ্ধার করেছে তদন্তকারী দল। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে যশোর কোতোয়ালি থানার চূড়ামনকাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সফিয়ার রহমান যশোর শহরের পূর্ব বারান্দী মোল্লাপাড়া কবরস্থান এলাকার বাসিন্দা।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআইকে লোমহর্ষক তথ্য দিয়েছেন টুটুল। তিনি জানান, নিহত পেরেক আল-আমিনের কাছে স্বর্ণের বার রয়েছে—এমন তথ্য দেন এ মামলার অপর গ্রেফতারকৃত আসামি গোলাম রসুল। এরপর আল-আমিনকে হত্যার জন্য মাত্র ১৫ হাজার টাকার চুক্তি হয়। ঘটনার দিন তারা তিনজন মিলে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে যান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আল-আমিনের চোখে ঝালগুঁড়া ছুড়ে মারা হয়। সুযোগ বুঝে টুটুল তাকে উপুর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ড শেষে চুক্তির সেই ১৫ হাজার টাকা তাকে পরিশোধ করা হয়। পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর টুটুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
পিবিআই জানায়, গত ২০ আগস্ট বিকেলে চৌরাস্তা মোড়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন। পরে পূর্ব বারান্দীপাড়া লিচুতলা মাদ্রাসার পেছনের একটি মেহগনি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তভার পিবিআই যশোরের ওপর ন্যস্ত হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট গোলাম রসুল নামের একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে পিবিআই। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামি সফিয়ার রহমান টুটুলের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে পিবিআই যশোরের এসআই মো. মাসুদ ও এসআই মো. মিলন মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করে।
টুটুলের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও দেখানো স্থান অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে নাজিরশংকরপুর গ্রামের একটি কোল্ড স্টোরেজের পেছনে ফজের আলীর বাড়ির জানালার সানশেড থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার চাকুটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সেটি জব্দ করে পিবিআই। এ মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি।
















