চুয়াডাঙ্গা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ‘মব’ করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের অভিযোগ

Padma Sangbad
১৫

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে ‘মব’ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি ওই কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন উপাচার্য।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক জাওয়াদুল হক জানান, কার্যালয়ের বাইরে স্লোগানের শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পর ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পিয়নদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে তার কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় তাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয় এবং চেয়ার থেকে উঠে যেতে বলা হয়। একপর্যায়ে তার সামনে একটি ছাপানো কাগজ ধরে সেটি পড়ার সুযোগ না দিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. নাজমুল হোসাইন বাধা দিতে গেলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, “আমি সই না করলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হতে পারি—এমন একটি আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাই বাধ্য হয়ে সামনে দেওয়া কাগজে সই করে দিই। কাগজটির ওপরে ‘পদত্যাগপত্র’ ধরনের শব্দ চোখে পড়লেও আমাকে সেটি সম্পূর্ণ পড়তে দেওয়া হয়নি।” স্বাক্ষর নেওয়ার পর দলটি তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেয় এবং তার মুঠোফোন সাময়িকভাবে নিয়ে নেয়। পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

উপাচার্য আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং তার অফিসের কম্পিউটারের সিপিইউ, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও বিদ্যুৎ সংযোগ নষ্ট বা খুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে রেজিস্ট্রার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন কার্যালয় বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষাসহ সার্বিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রাজশাহী আপামর ছাত্রজনতা’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনের পর একটি দল উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। ওই দলে রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরফুদ্দিন শামীমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

তবে উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানোর অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরফুদ্দিন শামীম দাবি করেন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন, তবে জোর করে পদত্যাগ করানোর কোনো নেতৃত্ব তিনি দেননি। অন্যদিকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত সব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অধ্যাপক জাওয়াদুল হক।

এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য। এছাড়া কার্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রামেবির রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উপাচার্যের পিএস ও সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইনও তাকে ও উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আপডেট : ১০:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ‘মব’ করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের অভিযোগ

আপডেট : ১০:৩৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
১৫

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে ‘মব’ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি ওই কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন উপাচার্য।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক জাওয়াদুল হক জানান, কার্যালয়ের বাইরে স্লোগানের শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পর ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পিয়নদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে তার কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় তাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয় এবং চেয়ার থেকে উঠে যেতে বলা হয়। একপর্যায়ে তার সামনে একটি ছাপানো কাগজ ধরে সেটি পড়ার সুযোগ না দিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. নাজমুল হোসাইন বাধা দিতে গেলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, “আমি সই না করলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হতে পারি—এমন একটি আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাই বাধ্য হয়ে সামনে দেওয়া কাগজে সই করে দিই। কাগজটির ওপরে ‘পদত্যাগপত্র’ ধরনের শব্দ চোখে পড়লেও আমাকে সেটি সম্পূর্ণ পড়তে দেওয়া হয়নি।” স্বাক্ষর নেওয়ার পর দলটি তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেয় এবং তার মুঠোফোন সাময়িকভাবে নিয়ে নেয়। পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

উপাচার্য আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং তার অফিসের কম্পিউটারের সিপিইউ, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও বিদ্যুৎ সংযোগ নষ্ট বা খুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে রেজিস্ট্রার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন কার্যালয় বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষাসহ সার্বিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রাজশাহী আপামর ছাত্রজনতা’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনের পর একটি দল উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। ওই দলে রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরফুদ্দিন শামীমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

তবে উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানোর অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরফুদ্দিন শামীম দাবি করেন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন, তবে জোর করে পদত্যাগ করানোর কোনো নেতৃত্ব তিনি দেননি। অন্যদিকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত সব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অধ্যাপক জাওয়াদুল হক।

এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য। এছাড়া কার্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রামেবির রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উপাচার্যের পিএস ও সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইনও তাকে ও উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।