চুয়াডাঙ্গা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংকটাপন্ন প্রবীর মিত্র, সরকারের সহযোগিতা চায় শিল্পীর পরিবার

Padma Sangbad
৪৪

বেশ ক’বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন সিনেমার দাপুটে অভিনেতা প্রবীর মিত্র। তার শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থার অবনতিও হচ্ছে। শরীরে অক্সিজেন স্বল্পতাসহ বেশ কিছু কারণে গেল ২২ ডিসেম্বর এই অভিনেতাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। নেওয়া হয় হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। গণমাধ্যমকে খবরটি জানিয়েছেন প্রবীর মিত্রের ছোট ছেলে সিফাত ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বাবার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। বয়সজনিত কিছু শারীরিক জটিলতায় গত ২২ ডিসেম্বর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। তার শরীরে অক্সিজেন পাচ্ছিল না। এরপর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কেবিনে দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে। তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তার ব্লাড লস হচ্ছে, প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছে।’

প্রবীণ এই অভিনেতার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের সহায়তা চান তার পরিবারের সদস্যরা। সিফাত বলেন, ‘সরকার থেকে শিল্পী সমিতি- আমরা কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। সমিতির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি, কিন্তু সমিতির কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। আমরা চাই, বিষয়টি রাষ্ট্র দেখুক। তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুক। মেডিকেল বোর্ড গঠন করার সুযোগ থাকলে তা হোক। এই চলচ্চিত্রের জন্য উনি অনেক দিয়েছেন। আমরা চাই, জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি সেই সম্মানটা পান।’

উল্লেখ্য, প্রবীর মিত্র ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট কুমিল্লার চান্দিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পুরান ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন। স্কুলজীবন থেকেই যুক্ত ছিলেন নাট্যচর্চায়। স্কুলের ছাত্রাবস্থায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন প্রবীর মিত্র। ১৯৬৯ সালে নির্মিত ‘জলছবি’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্যদিয়ে সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হয়। প্রয়াত এইচ আকবরের পরিচালনায় এটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি।

প্রবীর মিত্র অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘ফরিয়াদ’, ‘রক্ত শপথ’, ‘চরিত্রহীন’, ‘জয় পরাজয়’, ‘অঙ্গার’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সেয়ানা’, ‘জালিয়াত’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘তরুলতা’, ‘গাঁয়ের ছেলে’, ‘পুত্রবধূ’ ‘মধুমিতা’, ‘অশান্ত ঢেউ’, ‘অলংকার’, ‘অনুরাগ’, ‘প্রতিজ্ঞা’। প্রায় চার শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেতা।

আপডেট : ০১:২০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫

সংকটাপন্ন প্রবীর মিত্র, সরকারের সহযোগিতা চায় শিল্পীর পরিবার

আপডেট : ০১:২০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫
৪৪

বেশ ক’বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন সিনেমার দাপুটে অভিনেতা প্রবীর মিত্র। তার শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থার অবনতিও হচ্ছে। শরীরে অক্সিজেন স্বল্পতাসহ বেশ কিছু কারণে গেল ২২ ডিসেম্বর এই অভিনেতাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। নেওয়া হয় হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। গণমাধ্যমকে খবরটি জানিয়েছেন প্রবীর মিত্রের ছোট ছেলে সিফাত ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বাবার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। বয়সজনিত কিছু শারীরিক জটিলতায় গত ২২ ডিসেম্বর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। তার শরীরে অক্সিজেন পাচ্ছিল না। এরপর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কেবিনে দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে। তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তার ব্লাড লস হচ্ছে, প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছে।’

প্রবীণ এই অভিনেতার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের সহায়তা চান তার পরিবারের সদস্যরা। সিফাত বলেন, ‘সরকার থেকে শিল্পী সমিতি- আমরা কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। সমিতির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি, কিন্তু সমিতির কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। আমরা চাই, বিষয়টি রাষ্ট্র দেখুক। তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুক। মেডিকেল বোর্ড গঠন করার সুযোগ থাকলে তা হোক। এই চলচ্চিত্রের জন্য উনি অনেক দিয়েছেন। আমরা চাই, জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি সেই সম্মানটা পান।’

উল্লেখ্য, প্রবীর মিত্র ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট কুমিল্লার চান্দিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পুরান ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন। স্কুলজীবন থেকেই যুক্ত ছিলেন নাট্যচর্চায়। স্কুলের ছাত্রাবস্থায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন প্রবীর মিত্র। ১৯৬৯ সালে নির্মিত ‘জলছবি’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্যদিয়ে সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হয়। প্রয়াত এইচ আকবরের পরিচালনায় এটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি।

প্রবীর মিত্র অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘ফরিয়াদ’, ‘রক্ত শপথ’, ‘চরিত্রহীন’, ‘জয় পরাজয়’, ‘অঙ্গার’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সেয়ানা’, ‘জালিয়াত’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘তরুলতা’, ‘গাঁয়ের ছেলে’, ‘পুত্রবধূ’ ‘মধুমিতা’, ‘অশান্ত ঢেউ’, ‘অলংকার’, ‘অনুরাগ’, ‘প্রতিজ্ঞা’। প্রায় চার শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেতা।