চুয়াডাঙ্গা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Padma Sangbad
১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুরের নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিলেন। সকলের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই ঐতিহাসিক ঐক্য ও সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা শক্তহাতে প্রতিহত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, এ দেশের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে দীর্ঘদিনের গভীর সামাজিক বন্ধন রয়েছে। এই সম্প্রীতি যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে সমাজের সব স্তরের মানুষকে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। এ সময় তিনি দেশের পশ্চাৎপদ মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে বিশেষ কর্মসূচি এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত মাসের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হয়েছে। এ ধরনের হীন প্রচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” বিগত দিনে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হলেও সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “দেশে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে সোনালি সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কুচক্রী মহল যেন নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।” বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে মতুয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হলে রাষ্ট্রপতি তা সানন্দে গ্রহণ করেন এবং পরিদর্শনের আশ্বাস দেন।

এ সময় প্রতিনিধিদলে শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), কমিটির উপদেষ্টা আহসান হাবিব অপু ও সমেন কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ বিশ্বাস এবং মতুয়া মিশন খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডলসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবরাও অংশ নেন।

আপডেট : ০১:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেট : ০১:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুরের নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিলেন। সকলের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই ঐতিহাসিক ঐক্য ও সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা শক্তহাতে প্রতিহত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, এ দেশের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে দীর্ঘদিনের গভীর সামাজিক বন্ধন রয়েছে। এই সম্প্রীতি যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে সমাজের সব স্তরের মানুষকে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। এ সময় তিনি দেশের পশ্চাৎপদ মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে বিশেষ কর্মসূচি এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত মাসের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং এ নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হয়েছে। এ ধরনের হীন প্রচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” বিগত দিনে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হলেও সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “দেশে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে সোনালি সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কুচক্রী মহল যেন নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।” বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে মতুয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হলে রাষ্ট্রপতি তা সানন্দে গ্রহণ করেন এবং পরিদর্শনের আশ্বাস দেন।

এ সময় প্রতিনিধিদলে শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), কমিটির উপদেষ্টা আহসান হাবিব অপু ও সমেন কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ বিশ্বাস এবং মতুয়া মিশন খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডলসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবরাও অংশ নেন।