চুয়াডাঙ্গা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্পূর্ণ গাজা দখল করতে চায় নেতানিয়াহু

Padma Sangbad
৪৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইসরায়েল গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলে নেওয়ার একটি সামরিক পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য আজ (৭ আগস্ট) নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রত্যক্ষ অনুমোদন পাওয়া এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য গাজাকে ‘হামাসমুক্ত’ করা। খবরটি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।

ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)-এর পাঁচটি ডিভিশন এই সম্প্রসারিত সামরিক অভিযানে অংশ নেবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার পুরো ভূখণ্ড দখলের লক্ষ্যে এই দীর্ঘমেয়াদি অভিযান পরিচালিত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, হামাসকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজার প্রায় ১০ লাখ মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হতে পারে, যা এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুমোদনে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। বরং প্রশ্ন এখন এটি—বিভিন্ন প্রস্তাবিত সংস্করণের মধ্যে কোনটি গৃহীত হবে।

তবে এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন আইডিএফ চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। তিনি এক আলোচনায় বলেন, এই অভিযান একটি বড় ভুল। গাজায় বন্দি থাকা অসংখ্য সাধারণ মানুষের জীবন এতে হুমকির মুখে পড়বে। যদিও তিনি পদত্যাগ করছেন না বলে জানান।

এই অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জেরুজালেমের দুটি সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে কোনো নির্দিষ্ট পরামর্শ এলে তার ভিত্তিতে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হতে পারে। এমন নির্দেশনা আজকের বৈঠকেও আলোচিত হতে পারে।

এদিকে নেতানিয়াহু প্রশাসন গাজার মানবিক সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চায় সরকার।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমার এখন সবচেয়ে বেশি মনোযোগ গাজার ক্ষুধার্ত মানুষদের খাওয়ানোর দিকে। বাকি বিষয়গুলো ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত।” তিনি জানান, আরব দেশগুলোও ত্রাণ ও অর্থ সহায়তায় সম্মত হয়েছে।

এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই অঞ্চলে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হামাস। তারা গাজার শাসক হিসেবে থাকতে পারবে না।

যদিও গাজার দখল ও সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে, তথাপি ইসরায়েলি প্রশাসন হামাস নির্মূলে শক্ত অবস্থানেই অটল। যুদ্ধ এবং পূর্ণ দখল—এই দুই পথেই নেতানিয়াহু সরকার এগিয়ে যেতে চায় বলে জোরালোভাবে জানিয়েছে।

আপডেট : ১১:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

সম্পূর্ণ গাজা দখল করতে চায় নেতানিয়াহু

আপডেট : ১১:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
৪৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইসরায়েল গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলে নেওয়ার একটি সামরিক পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য আজ (৭ আগস্ট) নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রত্যক্ষ অনুমোদন পাওয়া এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য গাজাকে ‘হামাসমুক্ত’ করা। খবরটি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।

ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)-এর পাঁচটি ডিভিশন এই সম্প্রসারিত সামরিক অভিযানে অংশ নেবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার পুরো ভূখণ্ড দখলের লক্ষ্যে এই দীর্ঘমেয়াদি অভিযান পরিচালিত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, হামাসকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজার প্রায় ১০ লাখ মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হতে পারে, যা এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুমোদনে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। বরং প্রশ্ন এখন এটি—বিভিন্ন প্রস্তাবিত সংস্করণের মধ্যে কোনটি গৃহীত হবে।

তবে এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন আইডিএফ চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। তিনি এক আলোচনায় বলেন, এই অভিযান একটি বড় ভুল। গাজায় বন্দি থাকা অসংখ্য সাধারণ মানুষের জীবন এতে হুমকির মুখে পড়বে। যদিও তিনি পদত্যাগ করছেন না বলে জানান।

এই অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জেরুজালেমের দুটি সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে কোনো নির্দিষ্ট পরামর্শ এলে তার ভিত্তিতে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হতে পারে। এমন নির্দেশনা আজকের বৈঠকেও আলোচিত হতে পারে।

এদিকে নেতানিয়াহু প্রশাসন গাজার মানবিক সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চায় সরকার।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমার এখন সবচেয়ে বেশি মনোযোগ গাজার ক্ষুধার্ত মানুষদের খাওয়ানোর দিকে। বাকি বিষয়গুলো ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত।” তিনি জানান, আরব দেশগুলোও ত্রাণ ও অর্থ সহায়তায় সম্মত হয়েছে।

এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই অঞ্চলে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হামাস। তারা গাজার শাসক হিসেবে থাকতে পারবে না।

যদিও গাজার দখল ও সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে, তথাপি ইসরায়েলি প্রশাসন হামাস নির্মূলে শক্ত অবস্থানেই অটল। যুদ্ধ এবং পূর্ণ দখল—এই দুই পথেই নেতানিয়াহু সরকার এগিয়ে যেতে চায় বলে জোরালোভাবে জানিয়েছে।