চুয়াডাঙ্গা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরিণাকুণ্ডুতে ৮০ বিঘা জমিতে মৎস্য খামার গড়ে সফল উদ্যোক্তা রফিকুল

Padma Sangbad
১২১

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার নারানকান্দি গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু জলরাশি। ৮০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বিশাল জল-সাম্রাজ্য গড়ে তুলে মাছ চাষে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন একসময়ের সাধারণ কৃষক ও প্রবাসী কর্মী মো. রফিকুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি এলাকার একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।

জানা যায়, একসময় এই জমিতে শুধু ধান চাষ হতো। তবে বর্ষায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে প্রায়ই ফসল নষ্ট হয়ে যেত। পতিত ও অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকা সেই জমিতেই তিন বছর আগে মাছ চাষের উদ্যোগ নেন রফিকুল ইসলাম। প্রথম দিকে লোকসানের ঝুঁকি থাকলেও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের পরামর্শ ও নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ তিনি সফল। বর্তমানে তার এই বিশাল খামারে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্পের মতো বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে।

সম্প্রতি খামারটিতে গিয়ে দেখা যায়, ভোরবেলা থেকেই শ্রমিকরা জাল টানার কাজে ব্যস্ত। জালে ধরা পড়া বড় মাছগুলো আলাদা করে ড্রামে ভরছেন উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম। এই মৎস্য খামারে বর্তমানে স্থায়ীভাবে ১২ জন এবং অস্থায়ীভাবে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এছাড়া মাছের খাদ্য সরবরাহ, পরিবহন ও স্থানীয় বাজারে বিক্রির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও অন্তত ৩০টি পরিবার। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০টি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ তৈরি হয়েছে এই খামারকে কেন্দ্র করে।

নিজের সফলতার বিষয়ে উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি একসময়ে ১৪ বছর আমেরিকার এম্বাসিতে চাকরি করেছি। পরে নিজ এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির তাগিদেই চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসি এবং নিজের মতো করে কিছু করার পরিকল্পনা করি। আল্লাহর রহমতে এখন সব খরচ বাদ দিয়ে খামার থেকে বছরে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয় করছি। আমার এই উদ্যোগ দেখে এখন এলাকার অনেক তরুণও মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।”

এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, রফিকুল ইসলাম ঝিনাইদহ জেলার অন্যতম একজন মডেল মৎস্য খামারি। এককভাবে ৮০ বিঘা জমির ওপর এত বড় মৎস্য প্রকল্প এই অঞ্চলে সত্যিই বিরল। মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে সবসময় প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, সরকারিভাবে আরও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে রফিকুলের এই খামার থেকে আরও বিপুল পরিমাণ মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা এলাকার আমিষের চাহিদা পূরণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

আপডেট : ০৪:১৩:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

হরিণাকুণ্ডুতে ৮০ বিঘা জমিতে মৎস্য খামার গড়ে সফল উদ্যোক্তা রফিকুল

আপডেট : ০৪:১৩:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
১২১

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার নারানকান্দি গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু জলরাশি। ৮০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বিশাল জল-সাম্রাজ্য গড়ে তুলে মাছ চাষে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন একসময়ের সাধারণ কৃষক ও প্রবাসী কর্মী মো. রফিকুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি এলাকার একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।

জানা যায়, একসময় এই জমিতে শুধু ধান চাষ হতো। তবে বর্ষায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে প্রায়ই ফসল নষ্ট হয়ে যেত। পতিত ও অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকা সেই জমিতেই তিন বছর আগে মাছ চাষের উদ্যোগ নেন রফিকুল ইসলাম। প্রথম দিকে লোকসানের ঝুঁকি থাকলেও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের পরামর্শ ও নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ তিনি সফল। বর্তমানে তার এই বিশাল খামারে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্পের মতো বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে।

সম্প্রতি খামারটিতে গিয়ে দেখা যায়, ভোরবেলা থেকেই শ্রমিকরা জাল টানার কাজে ব্যস্ত। জালে ধরা পড়া বড় মাছগুলো আলাদা করে ড্রামে ভরছেন উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম। এই মৎস্য খামারে বর্তমানে স্থায়ীভাবে ১২ জন এবং অস্থায়ীভাবে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এছাড়া মাছের খাদ্য সরবরাহ, পরিবহন ও স্থানীয় বাজারে বিক্রির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও অন্তত ৩০টি পরিবার। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০টি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ তৈরি হয়েছে এই খামারকে কেন্দ্র করে।

নিজের সফলতার বিষয়ে উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি একসময়ে ১৪ বছর আমেরিকার এম্বাসিতে চাকরি করেছি। পরে নিজ এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির তাগিদেই চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসি এবং নিজের মতো করে কিছু করার পরিকল্পনা করি। আল্লাহর রহমতে এখন সব খরচ বাদ দিয়ে খামার থেকে বছরে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয় করছি। আমার এই উদ্যোগ দেখে এখন এলাকার অনেক তরুণও মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।”

এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, রফিকুল ইসলাম ঝিনাইদহ জেলার অন্যতম একজন মডেল মৎস্য খামারি। এককভাবে ৮০ বিঘা জমির ওপর এত বড় মৎস্য প্রকল্প এই অঞ্চলে সত্যিই বিরল। মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে সবসময় প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, সরকারিভাবে আরও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে রফিকুলের এই খামার থেকে আরও বিপুল পরিমাণ মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা এলাকার আমিষের চাহিদা পূরণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।