চুয়াডাঙ্গা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংককে ফেইল করিয়ে বিশেষ শক্তি রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়: অর্থমন্ত্রী

Padma Sangbad

অনলাইন ডেস্ক।।
ইসলামী ব্যাংককে ফেইল করিয়ে কোনো বিশেষ শক্তি রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে এক সাধারণ আলোচনার ওপর দেওয়া বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশনে ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারসমূহ বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের নিকট প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ’ করার দাবিতে আলোচনার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে আমরা দেখেছি নির্বাচনী এলাকাগুলোতে অবিশ্বাস্য রকমের টাকা খরচ হয়েছে। এমন অনেক প্রার্থী ছিলেন যাদের আয়ের কোনো উৎস জানা নেই, অথচ তারাও ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। এই যে ‘‘আনআর্নড ইনকাম’’ বা বিনা পরিশ্রমে অর্জিত টাকা যখন রাজনীতিতে আসে, তা খুবই ক্ষতিকর।’

বিরোধীদলীয় নেতার পিটিশনের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে তদন্তে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কিছুই পাওয়া যায়নি। একজন চেয়ারম্যানের মনোনয়নের কারণে গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করে চলে যায়— এর কোনো নজির দুনিয়াতে নেই। আসলে যারা টাকা তুলে নিয়ে গেছে, তারা ইসলামী ব্যাংকটাকে বিপদে ফেলতে চাচ্ছে। এর পেছনে বিশেষ কোনো শক্তির হাত রয়েছে, যারা ব্যাংকটিকে ফেইল করিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়।

ইসলামী ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানো ও মুনাফার যে দাবি করা হচ্ছে, সেটির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বিগত যে দুই বছরের প্রফিটের কথা বলা হচ্ছে, তা মূলত ‘‘উইন্ডো ড্রেসিং’’ (কৃত্রিমভাবে ভালো দেখানো)। ওই দুই বছর প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার প্রভিশন ক্যারি ফরওয়ার্ড করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ব্যাংকের মোট ঋণ পোর্টফোলিওর ৫১ শতাংশ। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকটি ৬৯ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৮৪ হাজার কোটি টাকার প্রভিশন ডেফারেল সুবিধা নিয়েছে। ফলশ্রুতিতে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটি প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে।

তিনি বলেন, স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যখন ইসলামী ব্যাংক দখল (টেকওভার) হলো, তখন তো গ্রাহকরা টাকা প্রত্যাহার করেননি। তাহলে এখন কেন করবেন?

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ব্যাংকটিকে তার বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াই বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুযায়ী যেখানে শেয়ারহোল্ডার বা গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার শঙ্কা দেখছে, সেখানেই পরিবর্তন আনছে। এর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও রয়েছে, তাই সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

দেশে ‘মবোক্রেসি’ বা উচ্ছৃঙ্খলতার প্রবণতা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে উগ্র মিছিল ও কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। যেকোনো ঘটনা ঘটলেই একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাকে ‘ঋণগ্রস্ত’ বলে হেয় করার চেষ্টা চলছে। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে (গাড়ি বা টেলিভিশন কেনা) ঋণ থাকাটা স্বাভাবিক, একে ঋণখেলাপির সঙ্গে মেলানো উচিত নয়।

বিএনপি সবসময় আর্থিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিগত সরকারগুলোর ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, সেসময় ম্যাক্রো ইকোনোমিক স্ট্যাবিলিটি সবচেয়ে সতেজ ছিল। আমরা সেই আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই কাজ করছি। ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতে শতভাগ নিরাপদ।’

আপডেট : ১১:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংককে ফেইল করিয়ে বিশেষ শক্তি রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়: অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১১:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক।।
ইসলামী ব্যাংককে ফেইল করিয়ে কোনো বিশেষ শক্তি রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে এক সাধারণ আলোচনার ওপর দেওয়া বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশনে ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারসমূহ বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের নিকট প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ’ করার দাবিতে আলোচনার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে আমরা দেখেছি নির্বাচনী এলাকাগুলোতে অবিশ্বাস্য রকমের টাকা খরচ হয়েছে। এমন অনেক প্রার্থী ছিলেন যাদের আয়ের কোনো উৎস জানা নেই, অথচ তারাও ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। এই যে ‘‘আনআর্নড ইনকাম’’ বা বিনা পরিশ্রমে অর্জিত টাকা যখন রাজনীতিতে আসে, তা খুবই ক্ষতিকর।’

বিরোধীদলীয় নেতার পিটিশনের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে তদন্তে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কিছুই পাওয়া যায়নি। একজন চেয়ারম্যানের মনোনয়নের কারণে গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করে চলে যায়— এর কোনো নজির দুনিয়াতে নেই। আসলে যারা টাকা তুলে নিয়ে গেছে, তারা ইসলামী ব্যাংকটাকে বিপদে ফেলতে চাচ্ছে। এর পেছনে বিশেষ কোনো শক্তির হাত রয়েছে, যারা ব্যাংকটিকে ফেইল করিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়।

ইসলামী ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানো ও মুনাফার যে দাবি করা হচ্ছে, সেটির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বিগত যে দুই বছরের প্রফিটের কথা বলা হচ্ছে, তা মূলত ‘‘উইন্ডো ড্রেসিং’’ (কৃত্রিমভাবে ভালো দেখানো)। ওই দুই বছর প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার প্রভিশন ক্যারি ফরওয়ার্ড করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ব্যাংকের মোট ঋণ পোর্টফোলিওর ৫১ শতাংশ। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকটি ৬৯ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৮৪ হাজার কোটি টাকার প্রভিশন ডেফারেল সুবিধা নিয়েছে। ফলশ্রুতিতে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটি প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে।

তিনি বলেন, স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যখন ইসলামী ব্যাংক দখল (টেকওভার) হলো, তখন তো গ্রাহকরা টাকা প্রত্যাহার করেননি। তাহলে এখন কেন করবেন?

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ব্যাংকটিকে তার বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াই বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুযায়ী যেখানে শেয়ারহোল্ডার বা গ্রাহকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার শঙ্কা দেখছে, সেখানেই পরিবর্তন আনছে। এর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও রয়েছে, তাই সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

দেশে ‘মবোক্রেসি’ বা উচ্ছৃঙ্খলতার প্রবণতা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে উগ্র মিছিল ও কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। যেকোনো ঘটনা ঘটলেই একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাকে ‘ঋণগ্রস্ত’ বলে হেয় করার চেষ্টা চলছে। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে (গাড়ি বা টেলিভিশন কেনা) ঋণ থাকাটা স্বাভাবিক, একে ঋণখেলাপির সঙ্গে মেলানো উচিত নয়।

বিএনপি সবসময় আর্থিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিগত সরকারগুলোর ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, সেসময় ম্যাক্রো ইকোনোমিক স্ট্যাবিলিটি সবচেয়ে সতেজ ছিল। আমরা সেই আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই কাজ করছি। ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতে শতভাগ নিরাপদ।’