চুয়াডাঙ্গা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি

Padma Sangbad
৪১

অনলাইন ডেস্ক।।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাতে বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য ঘিরে ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও শিরোনাম পুলিশ সদরদপ্তরের নজরে এসেছে। বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি দূর করার লক্ষ্যে পুলিশের বক্তব্য দেওয়া হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের কখনো কখনো অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী কিংবা আইন অমান্যকারী ব্যক্তিদের সরাসরি প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধী গ্রেপ্তার, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশের প্রচলিত আইন—বিশেষ করে আত্মরক্ষার অধিকার, দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-এ পুলিশের আত্মরক্ষার আইনি অধিকারের কথা স্পষ্ট বলা রয়েছে।

আইজিপি তার বক্তব্যে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে তিনি রূপক অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই শব্দ ব্যবহার করেননি।

একই অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির দেওয়া মন্তব্য নিয়েও কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি; ওই মন্তব্যটি অসাবধানতাবশত হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আপডেট : ০৩:০২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি

আপডেট : ০৩:০২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
৪১

অনলাইন ডেস্ক।।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাতে বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্য ঘিরে ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও শিরোনাম পুলিশ সদরদপ্তরের নজরে এসেছে। বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি দূর করার লক্ষ্যে পুলিশের বক্তব্য দেওয়া হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের কখনো কখনো অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী কিংবা আইন অমান্যকারী ব্যক্তিদের সরাসরি প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধী গ্রেপ্তার, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশের প্রচলিত আইন—বিশেষ করে আত্মরক্ষার অধিকার, দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-এ পুলিশের আত্মরক্ষার আইনি অধিকারের কথা স্পষ্ট বলা রয়েছে।

আইজিপি তার বক্তব্যে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে তিনি রূপক অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই শব্দ ব্যবহার করেননি।

একই অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির দেওয়া মন্তব্য নিয়েও কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি; ওই মন্তব্যটি অসাবধানতাবশত হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।