চুয়াডাঙ্গা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেনাবাহিনীর আশ্বাসে থামল এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন

Padma Sangbad
১০২

সেনাবাহিনীর আশ্বাসে থামল এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন
পদচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবৈধ কাজের কূটকৌশলের অন্যতম সহযোগী ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বৈষম্য নিরসনে এই স্বৈরাচারী চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও প্রশাসনমুক্ত এনবিআরের দাবি তুলেছেন সংস্থাটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের সামনে চেয়ারম্যানের নানাভাবে ভীতিপ্রদর্শন, নিয়োগে অনিয়ম, বদলি-পদায়ন ও পদোন্নতি বাণিজ্য, অবসরকালীন সুবিধা বঞ্চিত করা, পাচার ও লুণ্ঠনে সহায়তাসহ নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয়। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের বঞ্চিত কর্মচারীদের উপস্তিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো ভবন।

সেনাবাহিনীর আশ্বাসে থামল এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ আন্দোলনপরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর চারটি গাড়ি এনবিআর ভবনে প্রবেশ করে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা এনবিআরের কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দেশ বর্তমানে একটি জটিল পরিস্থিতি পার করছে। এ মুহুর্তে যেকোনো ধরণের আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তুলবে। আপনারা আপনাদের যাবতীয় দাবি লিখিতভাবে আমাদের কাছে দেন।

আমরা তা যথাস্থানে পৌঁছে দেব।’
তবে এতে আশ্বস্ত হতে পারেননি আন্দোলনকারীরা। পরে কর অঞ্চল-৬ এর কমিশনার লুৎফুল আজিম উপস্থিত কর্মীদের শান্ত হতে বললে স্থান ত্যাগ করেন তারা।

বক্তরা বলেন, এই চেয়ারম্যানের সময়ে সরকারের বিভিন্ন অসাধু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, দলীয় ব্যক্তি দেখে রাষ্ট্রীয় করছাড়ের সুবিধা দেওয়া ও কথায় কথায় নিজে ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে হুমকি ও ভয় দেখানোর কাজ করতেন তিনি।

যারা এই কাজে তার সহায়তা করতেন- কর প্রশাসনের প্রথম সচিব মো. শাহিদুজ্জামান, শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসনের প্রথম সচিব ঈদতাজুল ইসলাম ও সাবেক বোর্ড প্রশাসনের প্রথম সচিব গাউসুল আযম। এনবিআর চেয়ারম্যানের পাশাপাশি তার এই সহযোগীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে সংস্থাটির ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা। দাবিগুলো হলো- প্রশাসন ক্যাডার থেকে প্রেষণে এনবিআরে পদায়ন না করা, আয়কর অথবা কাস্টমস ক্যাডার থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগ, দুই বছর পর বদলি বাণিজ্য বন্ধ করা, অবৈধ নিয়োগ ও আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ বাতিল, পদায়ণে জ্যেষ্ঠতা বিধিমালা ও আইন অনুসরণ, শূন্য পদে পদোন্নতি ও কোনো পদ খালি না রাখা, এসাসিয়েশনের সঙ্গে পরামর্শ করে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ও আয়কর অনুবিভাগের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই করবে।

এর আগে গতকাল বুধবার (৭ আগস্ট) এনবিআর চেয়ারম্যানের নামফলক খুলে ফেলে সেখানে লেখা হয়েছিল ‘ড. ইউনুসকে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানীকারী স্বৈরাচার’।

এনবিআর ভবনের মূল ফটকের সামনে একই লেখার সঙ্গে তার ছবি জুড়ে দিয়ে জুতার মালা পড়িয়ে দেওয়া হয়। তার সহযোগীদের নামফলকে লেখা হয়েছিল ‘স্বৈরাচার আবু হেনা রহমাতুল মুনিমের সহযোগী।’

news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রাসঙ্গিক
সম্পর্কিত খবর
বিতর্কিত বিচারপতিদের পদত্যাগ দাবি
বিতর্কিত বিচারপতিদের পদত্যাগ দাবি
এবার এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি
এবার এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীরের পদত্যাগ
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীরের পদত্যাগ
নিকটস্থ সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সহায়তা পেতে যোগাযোগ নম্বর
নিকটস্থ সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সহায়তা পেতে যোগাযোগ নম্বর
বাণিজ্য
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৪ ১১:২৪
সংবাদ সম্মেলনে আইসিসিবি সভাপতি
ঘাড়ে দুইটা মাথা থাকলে শেখ হাসিনার চাপ উপেক্ষা করতেন ব্যবসায়ীরা
ঘাড়ে দুইটা মাথা থাকলে শেখ হাসিনার চাপ উপেক্ষা করতেন ব্যবসায়ীরা
সংগৃহীত ছবি
দেশের এই অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাণিজ্য খাত। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা হামলা-লুটপাট চালাচ্ছে। এ কারণে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, দুর্বৃত্তরা কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আসছে।

এ রকম অবস্থায় সারা দেশে পুলিশ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জীবন ও সম্পদ নিয়ে শঙ্কায় আছেন তাঁরা।
বুধবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সময় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি দল বা বিরোধী দল বলে কিছু নেই। যারাই সরকার পরিচালনায় থাকবে, তাদের সহযোগিতা করবে বেসরকারি খাত। দেশের ছাত্রসমাজ স্মরণীয় ঘটনা ঘটিয়েছে।

তবে কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানায় দুষ্কৃতকারীরা ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের ব্যবসায়ীরা চাপের মধ্যে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনা সরকারকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। তাঁদের ঘাড়ে যদি দুইটা করে মাথা থাকত, তাহলে হয়তো সেই চাপ উপেক্ষা করতে পারতেন। আমাদের যখন প্রধানমন্ত্রীর সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়, আমরা তা ফিরিয়ে দিতে পারিনি। যাঁরাই তাদের (আওয়ামী লীগ সরকার) সমর্থন করেননি, তাঁদের ওপরই খড়গহস্ত হয়েছিল তারা।

এ রকম যথেষ্ট প্রমাণ আছে। আমরা তখন চাপের মধ্যে ছিলাম।
যেসব ব্যবসায়ীগোষ্ঠী এত দিন দুর্নীতি ও পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের এখন ব্যবসায়ী কমিউনিটিতে ‘নো’ বলবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নো বা ইয়েসের জন্য তারা অপেক্ষা করে না। যখন যে সরকার থাকে, তারা তার পক্ষেই স্লোগান দেয়।’

এ সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আইসিসিবির বোর্ড সদস্য কুতুবউদ্দিন আহমেদ, আবদুল হাই সরকার, মোহাম্মদ হাতেম, এফবিসিসিআইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান।

news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রাসঙ্গিক
বাণিজ্য
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৪ ১১:২০
শিল্পের নিরাপত্তা চান ব্যবসায়ী নেতারা
অনলাইন ডেস্ক
শিল্পের নিরাপত্তা চান ব্যবসায়ী নেতারা
সংগৃহীত ছবি
দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতিসহ তিন বাহিনীর প্রধানদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

গতকাল বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানী ঢাকার বনানীতে প্লাটিনাম গ্র্যান্ড হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই অনুরোধ জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি)।

সংবাদ সম্মেলনে শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাকে স্বাগত জানান ব্যবসায়ী নেতারা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আস্থা রেখে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সারা বিশ্বে তাঁর সুনাম আছে।

পোশাক খাতের উন্নয়নে তিনি কিছু কাজও করেছেন। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বাংলাদেশ।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, কারখানায় অগ্নিসংযোগ, থানায় হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর করছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনাকে আরো ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে প্রতিবেশী দেশের পক্ষ থেকে।

এতে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানসহ সারা বিশ্বের কাছে দেশের ইমেজ সংকট বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে অর্জিত সাফল্য ম্লান হয়ে যেতে পারে।
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতার পালাবদলের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই একরকম নিষ্ক্রিয় রয়েছে। এমন পেক্ষাপটে আইসিসিবির ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সদ্যসাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদ, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সাবেক তিন সভাপতি স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, এ মতিন চোধুরী ও আব্দুল হাই সরকার।

আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‌‘দুষ্কৃতকারীদের ধ্বংসযজ্ঞ অবশ্যই রুখে দিতে হবে। এর সঙ্গে ছাত্ররা জড়িত নয়। সারা দেশে কিছু দুষ্কৃতকারী এ তাণ্ডব চালাচ্ছে।

’
আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ব্যবসায়ীদের অনেকেরই চাপে থাকার অভিযোগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময়টিতে পরিস্থিতি এমন ছিল- হয় আপনি আমার পক্ষে থাকবেন, নইলে আপনি আমার বিপক্ষে। মাঝে কোনো অবস্থান নেওয়ার সুযোগ ছিল না।’

ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় অনেক প্রাণহানি ও কারফিউ জারির পর ব্যবসায়ী নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে তার পক্ষে যেসব বক্তব্য দেন সেসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু আমাদের ঘাড়ের ওপর দুই মাথা নেই, সে জন্য সরকারপ্রধানের সঙ্গে মিটিংয়ে আমন্ত্রণ জানালে আমাদের আপত্তি করার সুযোগ ছিল না।’

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ‘যে অন্তর্বর্তী সরকার আসবে, সেটি পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমরা যারা উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি, তাদের ঘণ্টা-মিনিট হিসাব করে কাজ করতে হয়। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুট হচ্ছে।’

‘এ পরিস্থিতিতে আমরা কারখানা চালাতে পারছি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা চারটি বিষয় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি। এগুলো হচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, কারখানা চালুর ব্যবস্থা করা, মানুষের জীবনে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এবং থানা ও পুলিশকে সক্রিয় করা।’

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক এই সভাপতি জানান, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও কারখানার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। গতকাল রাতে (মঙ্গলবার) তিনি সেনাবাহিনী প্রধানসহ তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তখন সেনাবাহিনীর এই সহযোগিতা চেয়েছেন বলে জানান তিনি।

স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ছাত্র-জনতার ত্যাগের অর্জন ম্লান করে দিচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারা উদ্বেগ জানাচ্ছেন এ দেশের নিরাপত্তা নিয়ে। সময়মতো পণ্য হাতে পাবেন কি না এ নিয়ে তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা আছে।

তিনি বলেন, অনেকে বন্দর থেকে কাঁচামাল খালাস করতে পারছে না। কারখানায় পণ্যের স্তূপ হয়ে আছে। ক্রেতারা তাদের রপ্তানি আদেশের প্রায় ৩০ শতাংশ অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রাসঙ্গিক
বাণিজ্য
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৪ ১১:১৬
বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে যাবে আইএমএফ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে যাবে আইএমএফ
ফাইল ছবি
চলমান পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। কঠোর আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এর পরই সংস্থাটি বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে এমন প্রতিশ্রুতি দেয়।

আইএমএফের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আইএমএফ বাংলাদেশের ঘটনাবলির দিকে নজর রাখছে।

‘প্রাণহানি ও মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায়’ তারা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। ই-মেইলে পাঠানো ওই বিবৃতিতে মুখপাত্র আরো বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ও দেশটির মানুষের প্রতি সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।’ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির চেষ্টাকে সমর্থন করার কথাও জানায় তারা।

আইএমএফ গত বছরের জানুয়ারিতে ৪৭০ কোটি ডলারের একটি ঋণ অনুমোদন দেয়।

উদীয়মান বাজার বিশেষজ্ঞ টেলিমারের তথ্যানুসারে, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেশের জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমতুল্য। সুতরাং তাদের সমর্থন দেশটির অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে গত সোমবার বিশ্বব্যাংক জানায়, তাদের ঋণের ওপর বাংলাদেশের পরিস্থিতি কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা তারা খতিয়ে দেখছে। তবে দেশটির উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের অঙ্গীকার আগের মতোই আছে বলে জানায় সংস্থাটি।

চলতি অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ২৮৫ কোটি ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
বিশ্বব্যাংক আরো জানায়, বাংলাদেশের কোনো বৈদেশিক মুদ্রার বন্ড নেই। দেশটির স্বল্পমেয়াদি ঋণ জিডিপির মাত্র ৫ শতাংশ। সুতরাং আর্থিক বাজারে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব কী পড়ছে, সে সম্পর্কে খুব সীমিত ধারণা পাওয়া যায়। তবে সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের স্থবির অর্থনীতির ভূমিকা রয়েছে।

দেশটির ১৭ কোটি জনগণের মধ্যে তিন কোটি ২০ লাখ তরুণের কাজ অথবা শিক্ষা নেই। মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি। যে রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে মাত্র তিন মাসের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব।

সরকারি চাকরিতে কোটাপ্রথা সংস্কারের দাবিতে গত জুলাইয়ের প্রথম থেকে আন্দোলন করে আসছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পুলিশ ও আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের হামলায় কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী ও মানুষের মৃত্যু হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।

news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রাসঙ্গিক
বাণিজ্য
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৪ ১০:৩৪
ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তোলা নিয়ে নতুন নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তোলা নিয়ে নতুন নির্দেশনা
নিরাপত্তার স্বার্থে আজ ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের সীমা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক হিসাব থেকে এক লাখের বেশি নগদ টাকা উত্তোলন করা যাবে না। তবে এ সিদ্ধান্ত শুধু আজকের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে ব্যাংকগুলোকে খুদেবার্তা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বুধবার (৭ আগস্ট) রাতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডিদের এক জরুরি বার্তায় এই নির্দেশনা দিয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক নগদ টাকা উত্তোলন করতে না পারলেও যেকোনো পরিমাণ নগদ টাকা স্থানান্তর ও ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন।
জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পর নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ কিছুটা বেড়ে যায়। বিশেষ করে আওয়ামীপন্থী রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী পরিবার থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ দেখা যায়। এসব অর্থ যাতে কোনোভাবেই সন্ত্রাসী বা অবৈধ কাজে ব্যবহৃত না হয়, সেজন্য নগদ টাকা উত্তোলন কিছুটা নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর ধারাবাহিকতায় গত রাতে এ সিদ্ধান্ত জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজকের জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে শাখায় টাকা দেওয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশে কোনো সরকার নেই এবং আজ নতুন সরকার গঠিত হচ্ছে।

এই সময়ে কেউ যাতে নগদ টাকা নিয়ে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি খাতের একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এই সিদ্ধান্ত আরো আগে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। ইতিমধ্যেই নগদ টাকার চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে এই চাপ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে। তাছাড়া এখন ব্যাংকগুলো এমনিতেই একটু তরল্য সংকটের মধ্যে রয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শাখাগুলোতে ক্যাশ পরিবহন করার জন্য সুব্যবস্থা নেই। মানি ট্রান্সফার কম্পানিগুলো ঠিকমতো সেবা দিতে পারছে না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডাকাতির খবর শোনা যাচ্ছে। তাই সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে আশা করি নতুন সরকার গঠিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হবে। একইসঙ্গে ব্যাংকিং লেনদেনেও স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে।

আপডেট : ০৩:৪৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৪

সেনাবাহিনীর আশ্বাসে থামল এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন

আপডেট : ০৩:৪৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৪
১০২

সেনাবাহিনীর আশ্বাসে থামল এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন
পদচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবৈধ কাজের কূটকৌশলের অন্যতম সহযোগী ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বৈষম্য নিরসনে এই স্বৈরাচারী চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও প্রশাসনমুক্ত এনবিআরের দাবি তুলেছেন সংস্থাটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এনবিআর ভবনের সামনে চেয়ারম্যানের নানাভাবে ভীতিপ্রদর্শন, নিয়োগে অনিয়ম, বদলি-পদায়ন ও পদোন্নতি বাণিজ্য, অবসরকালীন সুবিধা বঞ্চিত করা, পাচার ও লুণ্ঠনে সহায়তাসহ নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয়। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের বঞ্চিত কর্মচারীদের উপস্তিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো ভবন।

সেনাবাহিনীর আশ্বাসে থামল এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ আন্দোলনপরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর চারটি গাড়ি এনবিআর ভবনে প্রবেশ করে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা এনবিআরের কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দেশ বর্তমানে একটি জটিল পরিস্থিতি পার করছে। এ মুহুর্তে যেকোনো ধরণের আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তুলবে। আপনারা আপনাদের যাবতীয় দাবি লিখিতভাবে আমাদের কাছে দেন।

আমরা তা যথাস্থানে পৌঁছে দেব।’
তবে এতে আশ্বস্ত হতে পারেননি আন্দোলনকারীরা। পরে কর অঞ্চল-৬ এর কমিশনার লুৎফুল আজিম উপস্থিত কর্মীদের শান্ত হতে বললে স্থান ত্যাগ করেন তারা।

বক্তরা বলেন, এই চেয়ারম্যানের সময়ে সরকারের বিভিন্ন অসাধু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, দলীয় ব্যক্তি দেখে রাষ্ট্রীয় করছাড়ের সুবিধা দেওয়া ও কথায় কথায় নিজে ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে হুমকি ও ভয় দেখানোর কাজ করতেন তিনি।

যারা এই কাজে তার সহায়তা করতেন- কর প্রশাসনের প্রথম সচিব মো. শাহিদুজ্জামান, শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসনের প্রথম সচিব ঈদতাজুল ইসলাম ও সাবেক বোর্ড প্রশাসনের প্রথম সচিব গাউসুল আযম। এনবিআর চেয়ারম্যানের পাশাপাশি তার এই সহযোগীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে সংস্থাটির ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা। দাবিগুলো হলো- প্রশাসন ক্যাডার থেকে প্রেষণে এনবিআরে পদায়ন না করা, আয়কর অথবা কাস্টমস ক্যাডার থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগ, দুই বছর পর বদলি বাণিজ্য বন্ধ করা, অবৈধ নিয়োগ ও আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ বাতিল, পদায়ণে জ্যেষ্ঠতা বিধিমালা ও আইন অনুসরণ, শূন্য পদে পদোন্নতি ও কোনো পদ খালি না রাখা, এসাসিয়েশনের সঙ্গে পরামর্শ করে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে ও আয়কর অনুবিভাগের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই করবে।

এর আগে গতকাল বুধবার (৭ আগস্ট) এনবিআর চেয়ারম্যানের নামফলক খুলে ফেলে সেখানে লেখা হয়েছিল ‘ড. ইউনুসকে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানীকারী স্বৈরাচার’।

এনবিআর ভবনের মূল ফটকের সামনে একই লেখার সঙ্গে তার ছবি জুড়ে দিয়ে জুতার মালা পড়িয়ে দেওয়া হয়। তার সহযোগীদের নামফলকে লেখা হয়েছিল ‘স্বৈরাচার আবু হেনা রহমাতুল মুনিমের সহযোগী।’

news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রাসঙ্গিক
সম্পর্কিত খবর
বিতর্কিত বিচারপতিদের পদত্যাগ দাবি
বিতর্কিত বিচারপতিদের পদত্যাগ দাবি
এবার এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি
এবার এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীরের পদত্যাগ
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীরের পদত্যাগ
নিকটস্থ সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সহায়তা পেতে যোগাযোগ নম্বর
নিকটস্থ সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সহায়তা পেতে যোগাযোগ নম্বর
বাণিজ্য
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৪ ১১:২৪
সংবাদ সম্মেলনে আইসিসিবি সভাপতি
ঘাড়ে দুইটা মাথা থাকলে শেখ হাসিনার চাপ উপেক্ষা করতেন ব্যবসায়ীরা
ঘাড়ে দুইটা মাথা থাকলে শেখ হাসিনার চাপ উপেক্ষা করতেন ব্যবসায়ীরা
সংগৃহীত ছবি
দেশের এই অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাণিজ্য খাত। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা হামলা-লুটপাট চালাচ্ছে। এ কারণে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, দুর্বৃত্তরা কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আসছে।

এ রকম অবস্থায় সারা দেশে পুলিশ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জীবন ও সম্পদ নিয়ে শঙ্কায় আছেন তাঁরা।
বুধবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সময় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি দল বা বিরোধী দল বলে কিছু নেই। যারাই সরকার পরিচালনায় থাকবে, তাদের সহযোগিতা করবে বেসরকারি খাত। দেশের ছাত্রসমাজ স্মরণীয় ঘটনা ঘটিয়েছে।

তবে কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানায় দুষ্কৃতকারীরা ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের ব্যবসায়ীরা চাপের মধ্যে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনা সরকারকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। তাঁদের ঘাড়ে যদি দুইটা করে মাথা থাকত, তাহলে হয়তো সেই চাপ উপেক্ষা করতে পারতেন। আমাদের যখন প্রধানমন্ত্রীর সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়, আমরা তা ফিরিয়ে দিতে পারিনি। যাঁরাই তাদের (আওয়ামী লীগ সরকার) সমর্থন করেননি, তাঁদের ওপরই খড়গহস্ত হয়েছিল তারা।

এ রকম যথেষ্ট প্রমাণ আছে। আমরা তখন চাপের মধ্যে ছিলাম।
যেসব ব্যবসায়ীগোষ্ঠী এত দিন দুর্নীতি ও পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের এখন ব্যবসায়ী কমিউনিটিতে ‘নো’ বলবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নো বা ইয়েসের জন্য তারা অপেক্ষা করে না। যখন যে সরকার থাকে, তারা তার পক্ষেই স্লোগান দেয়।’

এ সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আইসিসিবির বোর্ড সদস্য কুতুবউদ্দিন আহমেদ, আবদুল হাই সরকার, মোহাম্মদ হাতেম, এফবিসিসিআইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান।

news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রাসঙ্গিক
বাণিজ্য
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৪ ১১:২০
শিল্পের নিরাপত্তা চান ব্যবসায়ী নেতারা
অনলাইন ডেস্ক
শিল্পের নিরাপত্তা চান ব্যবসায়ী নেতারা
সংগৃহীত ছবি
দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতিসহ তিন বাহিনীর প্রধানদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

গতকাল বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানী ঢাকার বনানীতে প্লাটিনাম গ্র্যান্ড হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই অনুরোধ জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি)।

সংবাদ সম্মেলনে শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাকে স্বাগত জানান ব্যবসায়ী নেতারা। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আস্থা রেখে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সারা বিশ্বে তাঁর সুনাম আছে।

পোশাক খাতের উন্নয়নে তিনি কিছু কাজও করেছেন। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বাংলাদেশ।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, কারখানায় অগ্নিসংযোগ, থানায় হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর করছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনাকে আরো ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে প্রতিবেশী দেশের পক্ষ থেকে।

এতে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানসহ সারা বিশ্বের কাছে দেশের ইমেজ সংকট বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে অর্জিত সাফল্য ম্লান হয়ে যেতে পারে।
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে ক্ষমতার পালাবদলের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই একরকম নিষ্ক্রিয় রয়েছে। এমন পেক্ষাপটে আইসিসিবির ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সদ্যসাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদ, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সাবেক তিন সভাপতি স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, এ মতিন চোধুরী ও আব্দুল হাই সরকার।

আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‌‘দুষ্কৃতকারীদের ধ্বংসযজ্ঞ অবশ্যই রুখে দিতে হবে। এর সঙ্গে ছাত্ররা জড়িত নয়। সারা দেশে কিছু দুষ্কৃতকারী এ তাণ্ডব চালাচ্ছে।

’
আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ব্যবসায়ীদের অনেকেরই চাপে থাকার অভিযোগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময়টিতে পরিস্থিতি এমন ছিল- হয় আপনি আমার পক্ষে থাকবেন, নইলে আপনি আমার বিপক্ষে। মাঝে কোনো অবস্থান নেওয়ার সুযোগ ছিল না।’

ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় অনেক প্রাণহানি ও কারফিউ জারির পর ব্যবসায়ী নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে তার পক্ষে যেসব বক্তব্য দেন সেসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু আমাদের ঘাড়ের ওপর দুই মাথা নেই, সে জন্য সরকারপ্রধানের সঙ্গে মিটিংয়ে আমন্ত্রণ জানালে আমাদের আপত্তি করার সুযোগ ছিল না।’

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ‘যে অন্তর্বর্তী সরকার আসবে, সেটি পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমরা যারা উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি, তাদের ঘণ্টা-মিনিট হিসাব করে কাজ করতে হয়। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুট হচ্ছে।’

‘এ পরিস্থিতিতে আমরা কারখানা চালাতে পারছি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা চারটি বিষয় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি। এগুলো হচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, কারখানা চালুর ব্যবস্থা করা, মানুষের জীবনে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এবং থানা ও পুলিশকে সক্রিয় করা।’

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক এই সভাপতি জানান, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও কারখানার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। গতকাল রাতে (মঙ্গলবার) তিনি সেনাবাহিনী প্রধানসহ তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তখন সেনাবাহিনীর এই সহযোগিতা চেয়েছেন বলে জানান তিনি।

স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ছাত্র-জনতার ত্যাগের অর্জন ম্লান করে দিচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারা উদ্বেগ জানাচ্ছেন এ দেশের নিরাপত্তা নিয়ে। সময়মতো পণ্য হাতে পাবেন কি না এ নিয়ে তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা আছে।

তিনি বলেন, অনেকে বন্দর থেকে কাঁচামাল খালাস করতে পারছে না। কারখানায় পণ্যের স্তূপ হয়ে আছে। ক্রেতারা তাদের রপ্তানি আদেশের প্রায় ৩০ শতাংশ অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রাসঙ্গিক
বাণিজ্য
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৪ ১১:১৬
বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে যাবে আইএমএফ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে যাবে আইএমএফ
ফাইল ছবি
চলমান পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। কঠোর আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এর পরই সংস্থাটি বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে এমন প্রতিশ্রুতি দেয়।

আইএমএফের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আইএমএফ বাংলাদেশের ঘটনাবলির দিকে নজর রাখছে।

‘প্রাণহানি ও মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায়’ তারা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। ই-মেইলে পাঠানো ওই বিবৃতিতে মুখপাত্র আরো বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ও দেশটির মানুষের প্রতি সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।’ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির চেষ্টাকে সমর্থন করার কথাও জানায় তারা।

আইএমএফ গত বছরের জানুয়ারিতে ৪৭০ কোটি ডলারের একটি ঋণ অনুমোদন দেয়।

উদীয়মান বাজার বিশেষজ্ঞ টেলিমারের তথ্যানুসারে, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেশের জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমতুল্য। সুতরাং তাদের সমর্থন দেশটির অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে গত সোমবার বিশ্বব্যাংক জানায়, তাদের ঋণের ওপর বাংলাদেশের পরিস্থিতি কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা তারা খতিয়ে দেখছে। তবে দেশটির উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের অঙ্গীকার আগের মতোই আছে বলে জানায় সংস্থাটি।

চলতি অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ২৮৫ কোটি ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
বিশ্বব্যাংক আরো জানায়, বাংলাদেশের কোনো বৈদেশিক মুদ্রার বন্ড নেই। দেশটির স্বল্পমেয়াদি ঋণ জিডিপির মাত্র ৫ শতাংশ। সুতরাং আর্থিক বাজারে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব কী পড়ছে, সে সম্পর্কে খুব সীমিত ধারণা পাওয়া যায়। তবে সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের স্থবির অর্থনীতির ভূমিকা রয়েছে।

দেশটির ১৭ কোটি জনগণের মধ্যে তিন কোটি ২০ লাখ তরুণের কাজ অথবা শিক্ষা নেই। মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি। যে রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে মাত্র তিন মাসের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব।

সরকারি চাকরিতে কোটাপ্রথা সংস্কারের দাবিতে গত জুলাইয়ের প্রথম থেকে আন্দোলন করে আসছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পুলিশ ও আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের হামলায় কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী ও মানুষের মৃত্যু হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।

news_google_icon_128কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রাসঙ্গিক
বাণিজ্য
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৪ ১০:৩৪
ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তোলা নিয়ে নতুন নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তোলা নিয়ে নতুন নির্দেশনা
নিরাপত্তার স্বার্থে আজ ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের সীমা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক হিসাব থেকে এক লাখের বেশি নগদ টাকা উত্তোলন করা যাবে না। তবে এ সিদ্ধান্ত শুধু আজকের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে ব্যাংকগুলোকে খুদেবার্তা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বুধবার (৭ আগস্ট) রাতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডিদের এক জরুরি বার্তায় এই নির্দেশনা দিয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক নগদ টাকা উত্তোলন করতে না পারলেও যেকোনো পরিমাণ নগদ টাকা স্থানান্তর ও ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন।
জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পর নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ কিছুটা বেড়ে যায়। বিশেষ করে আওয়ামীপন্থী রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী পরিবার থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ দেখা যায়। এসব অর্থ যাতে কোনোভাবেই সন্ত্রাসী বা অবৈধ কাজে ব্যবহৃত না হয়, সেজন্য নগদ টাকা উত্তোলন কিছুটা নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর ধারাবাহিকতায় গত রাতে এ সিদ্ধান্ত জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজকের জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে শাখায় টাকা দেওয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশে কোনো সরকার নেই এবং আজ নতুন সরকার গঠিত হচ্ছে।

এই সময়ে কেউ যাতে নগদ টাকা নিয়ে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি খাতের একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এই সিদ্ধান্ত আরো আগে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। ইতিমধ্যেই নগদ টাকার চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে এই চাপ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে। তাছাড়া এখন ব্যাংকগুলো এমনিতেই একটু তরল্য সংকটের মধ্যে রয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শাখাগুলোতে ক্যাশ পরিবহন করার জন্য সুব্যবস্থা নেই। মানি ট্রান্সফার কম্পানিগুলো ঠিকমতো সেবা দিতে পারছে না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডাকাতির খবর শোনা যাচ্ছে। তাই সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে আশা করি নতুন সরকার গঠিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হবে। একইসঙ্গে ব্যাংকিং লেনদেনেও স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে।