আর কেউ বেঁচে নেই এই পরিবারটির!

ছুটি পেয়ে বন্ধুর সাথে কুয়াকাটায় সপরিবারে ঘুরতে যান আব্দুল মোতালেব। ফেরার পথে পিরোজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুল মোতালেব (৩৫), স্ত্রী সাবিনা আক্তার (৩০), ছেলে সোয়াইব (৪) ও মেয়ে মুক্তা মণি (৮) মারা যান।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) ঢাকা থেকে বন্ধুর পরিবারের সঙ্গে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় যান। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) ভোররাতে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি পিরোজপুর জেলার কদমতলা ইউনিয়নের নূরানী গেইট এলাকায় ঘটে।
নিহত আব্দুল মোতালেব ঢাকা সেনানিবাসে মেচওয়েটার পদে চাকুরি করতেন। তিনি শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
নিহত আব্দুল মোতালেবের জেঠাতো ভাই আব্দুল জলিল জানান, বুধবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার নুরানি গেট এলাকায় একটি প্রাইভেট কার খালে পড়ে দুই পরিবারের শিশু সদস্যসহ আটজনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে মোতালেবসহ তার পরিবারের চারজন ছিলেন। তিনি ঢাকা সেনানিবাসে বেসরকারি কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন। আর পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকতেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে মোতালেবের গ্রামের বাড়ি রঘুনাথপুরে শোকের ছায়া নেমে আসে। মোতালেবের মা ময়না বেগম, বড় বোন লাভলী আক্তার বারবার মুর্ছা খাচ্ছেন।
আব্দুল জলিল আরও জানান, মোতালেবের আয়ের টাকায় চলতো তার বাবা, মা, অসুস্থ বোন ও ভাগ্নে-ভাগ্নী। এখন পরিবারটি একেবারে নিঃস হয়ে গেল।
কামারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. ইন্তাজ আলী জানান, লাভলী শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ কারণে বাবার বাড়িতেই থাকেন। মোতালেবের একক উপার্জনেই পুরো পরিবারটি চলত। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি দিশাহারা। এমতাবস্থায় পরিবারটির পাশে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
























