চুয়াডাঙ্গা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাবিননামায় আগের বিয়ে-সন্তানের তথ্য যুক্ত করতে হাইকোর্টের রুল

Padma Sangbad

অনলাইন ডেস্ক।।

বিয়েতে তথ্য গোপন ও প্রতারণা রোধে বর-কনের আগের বিয়ে, সন্তান, বিদ্যমান বিয়ে ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য উল্লেখ করে ফরম হালনাগাদ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আজ সোমবার এ-সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শেখ ওমর ও অ্যাডভোকেট তানজিলা রহমান জুঁই।

আইন মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট বর-কনের আগের বিয়ে, সন্তান, বিদ্যমান বিয়ে ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রিটটি করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।

রিটে বলা হয়, বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’—কাবিননামায় বর ও কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, সন্তান এবং আগের সম্পর্ক থেকে সৃষ্ট ভরণপোষণ, অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনগত দায়দায়িত্ব সমভাবে প্রকাশ ও যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বর্তমান কাবিননামায় বরের বিদ্যমান স্ত্রী এবং সালিশি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে কিছু তথ্য চাওয়া হলেও তার আগের সব বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখের বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ের সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত।

আবেদনে বলা হয়, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পরবর্তী বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। একই সঙ্গে বিদ্যমান স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের আইনগত অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রিটে কাবিননামা সংশোধন করে বর-কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান সব বিয়ের তথ্য, আগের বা বিদ্যমান বিয়ের সন্তানদের তথ্য, চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও অন্যান্য আইনগত দায় এবং জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত ও যাচাইযোগ্য করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে কাবিননামা হালনাগাদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং নাগরিকদের পারিবারিক জীবন ও অধিকার সুরক্ষায় কাবিননামার সংশ্লিষ্ট ফরম সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

আপডেট : ০২:১৭:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাবিননামায় আগের বিয়ে-সন্তানের তথ্য যুক্ত করতে হাইকোর্টের রুল

আপডেট : ০২:১৭:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক।।

বিয়েতে তথ্য গোপন ও প্রতারণা রোধে বর-কনের আগের বিয়ে, সন্তান, বিদ্যমান বিয়ে ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য উল্লেখ করে ফরম হালনাগাদ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আজ সোমবার এ-সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শেখ ওমর ও অ্যাডভোকেট তানজিলা রহমান জুঁই।

আইন মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট বর-কনের আগের বিয়ে, সন্তান, বিদ্যমান বিয়ে ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রিটটি করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।

রিটে বলা হয়, বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’—কাবিননামায় বর ও কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, সন্তান এবং আগের সম্পর্ক থেকে সৃষ্ট ভরণপোষণ, অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনগত দায়দায়িত্ব সমভাবে প্রকাশ ও যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বর্তমান কাবিননামায় বরের বিদ্যমান স্ত্রী এবং সালিশি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে কিছু তথ্য চাওয়া হলেও তার আগের সব বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখের বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ের সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত।

আবেদনে বলা হয়, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পরবর্তী বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। একই সঙ্গে বিদ্যমান স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের আইনগত অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রিটে কাবিননামা সংশোধন করে বর-কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান সব বিয়ের তথ্য, আগের বা বিদ্যমান বিয়ের সন্তানদের তথ্য, চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও অন্যান্য আইনগত দায় এবং জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত ও যাচাইযোগ্য করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে কাবিননামা হালনাগাদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং নাগরিকদের পারিবারিক জীবন ও অধিকার সুরক্ষায় কাবিননামার সংশ্লিষ্ট ফরম সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।