চুয়াডাঙ্গা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে তৈরি ৩ ল্যান্ডিং ক্রাফট রফতানি হচ্ছে আরব আমিরাতে

Padma Sangbad
৩৯

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা।।
চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড থেকে তৈরি তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট রফতানি করা হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই)। মায়া, এমি এবং মুনা নামের এই জাহাজগুলো বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর তীরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে জাহাজ তিনটি ইউএই ভিত্তিক মারওয়ান অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি এলএলসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তরের পর এগুলো আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান জানিয়েছেন, প্রতিটি ল্যান্ডিং ক্রাফটের দৈর্ঘ্য ৬৯ মিটার, প্রস্থ ১৬ মিটার এবং ড্রাফট ৩ মিটার। এগুলো আন্তর্জাতিক ক্ল্যাসিফিকেশন সোসাইটি ব্যুরো ভেরিটাসের মান অনুযায়ী নির্মিত এবং ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। প্রায় ৭০০ বর্গমিটার ক্লিয়ার ডেক স্পেস থাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও বাল্ক কার্গো পরিবহনের জন্য উপযুক্ত।

জাহাজগুলোতে দুটি ইয়ানমার প্রধান ইঞ্জিন, ইলেকট্রো-হাইড্রোলিক র‌্যাম্প উইঞ্চ, ২৪ মিমি স্টিল ওয়্যার রোপ, উন্নত অ্যাঙ্করিং ও হাইড্রোলিক স্টিয়ারিং ব্যবস্থা রয়েছে। নেভিগেশনের জন্য ইনস্টল করা হয়েছে সিমরাড এস৩০০৯ ইকো সাউন্ডার, ফুরুনো জিপি-৩৯ জিপিএস, নেভিট্রন এনটি-৮৮৮৬ অটোপাইলট, রাডার এবং আন্তর্জাতিক মানের কমিউনিকেশন সরঞ্জাম।

চলতি বছর ওয়েস্টার্ন মেরিন মোট ছয়টি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতে রফতানি করছে। এর মধ্যে আগে রফতানি করা হয়েছে রায়ান নামের একটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং জুলাই মাসে খালিদ ও ঘায়া নামে দুটি টাগবোট। প্রতিষ্ঠার পর এ নিয়ে ৩৯তম জাহাজ রফতানি হলো ওয়েস্টার্ন মেরিনের।

২০১০ সালে প্রথম জাহাজ রফতানি শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সাল পর্যন্ত ১১টি দেশে ৩৩টি জাহাজ রফতানি করেছে। করোনার প্রভাব এবং অন্যান্য কারণে পরবর্তী চার বছর কোনো জাহাজ রফতানি করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি জাহাজের চাহিদা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই অনুযায়ী ২০২৩ সালে মারওয়ান শিপিংয়ের কাছ থেকে আটটি জাহাজ নির্মাণের অর্ডার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চারটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং দুটি টাগবোট চলতি বছর রফতানি করা হবে। বাকি দুটি অয়েল ট্যাংকার ২০২৬ সালের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

ওয়েস্টার্ন মেরিনের কর্ণধারদের মতে, প্রতিটি জাহাজ ইউএই ভিত্তিক ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। এগুলো অফশোর সাপ্লাই, মালবাহী পরিবহন এবং সমুদ্র বাণিজ্যের বিভিন্ন কাজে ব্যবহারযোগ্য।

আপডেট : ১১:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামে তৈরি ৩ ল্যান্ডিং ক্রাফট রফতানি হচ্ছে আরব আমিরাতে

আপডেট : ১১:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
৩৯

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা।।
চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড থেকে তৈরি তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট রফতানি করা হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই)। মায়া, এমি এবং মুনা নামের এই জাহাজগুলো বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর তীরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে জাহাজ তিনটি ইউএই ভিত্তিক মারওয়ান অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি এলএলসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তরের পর এগুলো আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান জানিয়েছেন, প্রতিটি ল্যান্ডিং ক্রাফটের দৈর্ঘ্য ৬৯ মিটার, প্রস্থ ১৬ মিটার এবং ড্রাফট ৩ মিটার। এগুলো আন্তর্জাতিক ক্ল্যাসিফিকেশন সোসাইটি ব্যুরো ভেরিটাসের মান অনুযায়ী নির্মিত এবং ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। প্রায় ৭০০ বর্গমিটার ক্লিয়ার ডেক স্পেস থাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও বাল্ক কার্গো পরিবহনের জন্য উপযুক্ত।

জাহাজগুলোতে দুটি ইয়ানমার প্রধান ইঞ্জিন, ইলেকট্রো-হাইড্রোলিক র‌্যাম্প উইঞ্চ, ২৪ মিমি স্টিল ওয়্যার রোপ, উন্নত অ্যাঙ্করিং ও হাইড্রোলিক স্টিয়ারিং ব্যবস্থা রয়েছে। নেভিগেশনের জন্য ইনস্টল করা হয়েছে সিমরাড এস৩০০৯ ইকো সাউন্ডার, ফুরুনো জিপি-৩৯ জিপিএস, নেভিট্রন এনটি-৮৮৮৬ অটোপাইলট, রাডার এবং আন্তর্জাতিক মানের কমিউনিকেশন সরঞ্জাম।

চলতি বছর ওয়েস্টার্ন মেরিন মোট ছয়টি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতে রফতানি করছে। এর মধ্যে আগে রফতানি করা হয়েছে রায়ান নামের একটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং জুলাই মাসে খালিদ ও ঘায়া নামে দুটি টাগবোট। প্রতিষ্ঠার পর এ নিয়ে ৩৯তম জাহাজ রফতানি হলো ওয়েস্টার্ন মেরিনের।

২০১০ সালে প্রথম জাহাজ রফতানি শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সাল পর্যন্ত ১১টি দেশে ৩৩টি জাহাজ রফতানি করেছে। করোনার প্রভাব এবং অন্যান্য কারণে পরবর্তী চার বছর কোনো জাহাজ রফতানি করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি জাহাজের চাহিদা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই অনুযায়ী ২০২৩ সালে মারওয়ান শিপিংয়ের কাছ থেকে আটটি জাহাজ নির্মাণের অর্ডার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চারটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং দুটি টাগবোট চলতি বছর রফতানি করা হবে। বাকি দুটি অয়েল ট্যাংকার ২০২৬ সালের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

ওয়েস্টার্ন মেরিনের কর্ণধারদের মতে, প্রতিটি জাহাজ ইউএই ভিত্তিক ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। এগুলো অফশোর সাপ্লাই, মালবাহী পরিবহন এবং সমুদ্র বাণিজ্যের বিভিন্ন কাজে ব্যবহারযোগ্য।