চুয়াডাঙ্গা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা: ‘ভুয়া স্বর্ণ ছিনতাই মামলা’য় নিরীহ মানুষ কারাগারে, ওসি মামুন হোসেনের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ

Padma Sangbad
৭২

চুয়াডাঙ্গা জীবননগর সংবাদদাতা।।
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর সীমান্তে একটি ‘কল্পিত স্বর্ণ ছিনতাই মামলা’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস একদল স্বর্ণ চোরাকারবারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এই ভুয়া মামলাটি সাজিয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে জেলে পাঠিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, ২ নভেম্বর কথিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও মামলাটি ৮ দিন পর, ১০ নভেম্বর নথিভুক্ত করা হয়। এই বিলম্বকে তারা মামলা সাজানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে দাবি করছেন।মামলার বাদী, স্বর্ণ ব্যবসায়ী দাবিদার আকিদুল ইসলাম, তার কর্মচারীর মাধ্যমে এসবি জুয়েলার্সে স্বর্ণ পাঠানোর দাবি করলেও ভুক্তভোগী পক্ষ বলছে—স্বর্ণ পাঠানোর কথা ছিল অন্য দোকানে, যা কথিত ছিনতাইয়ের স্থান থেকে ৪-৫ কিমি দূরে। ছিনতাইয়ের স্থানে স্বর্ণবাহকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার সাক্ষীরা একই পরিবারের সদস্য এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। একই পরিবারের তিনজনের একই সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা মামলা সাজানোর দিকেই ইঙ্গিত করে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। অভিযোগকারীরা সরাসরি ওসি মামুন হোসেন বিশ্বাসকে চোরাকারবারীদের সহায়তায় কল্পিত মামলাটি নথিভুক্ত করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং যাচাই না করেই মামলা নেওয়ার কারণ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ওসি মামুন হোসেন নিজেই দাবি করেছেন যে, ঢাকার এক অতিরিক্ত আইজিপি চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারকে ফোন করার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়, যা জনমনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জীবননগর উপজেলা শহরের মুক্তমঞ্চে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্যরা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগগুলো তোলেন।
তারা দাবি করেন, এজাহারভুক্ত সকলে নির্দোষ এবং তাদের মোবাইল লোকেশন যাচাই করলেই সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
তারা ওসি মামুন হোসেন বিশ্বাসসহ মামলার বাদী, সাক্ষী ও অন্যান্য জড়িতদের মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ কল তালিকা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা নিজেদের বলির পাঁঠা আখ্যা দিয়ে আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। মুক্তি না পেলে লাগাতার আন্দোলন এবং সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ভুয়া মামলা নথিভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর তদন্ত করা হবে। তবে ভুয়া মামলা তদন্তের আগেই কেন নিরীহ শ্রমজীবী মানুষকে আটক করা হলো—এমন প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দিতে পারেননি।

আপডেট : ০২:৫৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা: ‘ভুয়া স্বর্ণ ছিনতাই মামলা’য় নিরীহ মানুষ কারাগারে, ওসি মামুন হোসেনের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ

আপডেট : ০২:৫৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
৭২

চুয়াডাঙ্গা জীবননগর সংবাদদাতা।।
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর সীমান্তে একটি ‘কল্পিত স্বর্ণ ছিনতাই মামলা’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস একদল স্বর্ণ চোরাকারবারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এই ভুয়া মামলাটি সাজিয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে জেলে পাঠিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, ২ নভেম্বর কথিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও মামলাটি ৮ দিন পর, ১০ নভেম্বর নথিভুক্ত করা হয়। এই বিলম্বকে তারা মামলা সাজানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে দাবি করছেন।মামলার বাদী, স্বর্ণ ব্যবসায়ী দাবিদার আকিদুল ইসলাম, তার কর্মচারীর মাধ্যমে এসবি জুয়েলার্সে স্বর্ণ পাঠানোর দাবি করলেও ভুক্তভোগী পক্ষ বলছে—স্বর্ণ পাঠানোর কথা ছিল অন্য দোকানে, যা কথিত ছিনতাইয়ের স্থান থেকে ৪-৫ কিমি দূরে। ছিনতাইয়ের স্থানে স্বর্ণবাহকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার সাক্ষীরা একই পরিবারের সদস্য এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। একই পরিবারের তিনজনের একই সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা মামলা সাজানোর দিকেই ইঙ্গিত করে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। অভিযোগকারীরা সরাসরি ওসি মামুন হোসেন বিশ্বাসকে চোরাকারবারীদের সহায়তায় কল্পিত মামলাটি নথিভুক্ত করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং যাচাই না করেই মামলা নেওয়ার কারণ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ওসি মামুন হোসেন নিজেই দাবি করেছেন যে, ঢাকার এক অতিরিক্ত আইজিপি চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারকে ফোন করার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়, যা জনমনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জীবননগর উপজেলা শহরের মুক্তমঞ্চে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্যরা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগগুলো তোলেন।
তারা দাবি করেন, এজাহারভুক্ত সকলে নির্দোষ এবং তাদের মোবাইল লোকেশন যাচাই করলেই সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
তারা ওসি মামুন হোসেন বিশ্বাসসহ মামলার বাদী, সাক্ষী ও অন্যান্য জড়িতদের মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ কল তালিকা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা নিজেদের বলির পাঁঠা আখ্যা দিয়ে আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। মুক্তি না পেলে লাগাতার আন্দোলন এবং সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ভুয়া মামলা নথিভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর তদন্ত করা হবে। তবে ভুয়া মামলা তদন্তের আগেই কেন নিরীহ শ্রমজীবী মানুষকে আটক করা হলো—এমন প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দিতে পারেননি।