চুয়াডাঙ্গা ০১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছুটির আমেজে বাণিজ্যমেলায় জনস্রোত

Padma Sangbad
৪৮

অনলাইন ডেস্ক।।
রাজধানীর উপকণ্ঠে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে চলছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। মেলার দ্বিতীয় সপ্তাহের ১৪তম দিনে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শুক্রবার মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের পর থেকেই জনস্রোতে মেলা এলাকায় মানুষের ঢল নামে। এতে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে।

প্রথম সপ্তাহের মতো দ্বিতীয় সপ্তাহের শুক্রবারও কসমেটিকস, পোশাক ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোতে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। পাশাপাশি খাবারের স্টলগুলোতেও দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। ‘দুটি কিনলে একটি ফ্রি’, বিশেষ ছাড় ও আকর্ষণীয় অফারের কারণে

বিভিন্ন স্টলে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। কারও আগ্রহ ঘর সাজানোর সামগ্রীতে, আবার কারও নজর নিজেকে সাজানোর উপকরণে। তরুণ-তরুণী, বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়তে থাকে। কেউ স্টল ঘুরে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন, কেউ আড্ডা দিচ্ছেন বা ছবি তুলছেন। কেউ খুঁজছেন তৈজসপত্র ও ঘরসজ্জার সামগ্রী, আবার কেউ সাধ ও সাধ্যের মধ্যে পছন্দের ফার্নিচার কিনছেন। ছাড়ের খোঁজে এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ছুটছেন অনেকেই।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের বিপুল উপস্থিতিতে বেচাকেনাও জমে উঠেছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতারা দিচ্ছেন নানা ধরনের অফার ও মূল্যছাড়। জেলখানার কারাবন্দিদের হাতে তৈরি হস্তশিল্প পণ্য ক্রেতাদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। এ ছাড়া মেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’-এ জুলাই আন্দোলন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

মেলার নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শিশু বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে প্যাডেল বোট, নাগরদোলা, হেলিকপ্টার, ট্রেন, নৌকাসহ বিভিন্ন রাইডে আনন্দ করছে শিশুরা। হাজি বিরিয়ানি, মিঠাই, ঝটপট, তুর্কি রেস্টুরেন্ট, টেস্টি ট্রিটসহ নানা খাবারের স্টলে ভিড় জমাচ্ছেন ভোজনপ্রেমীরা।

মেলায় আরএফএল, দুরন্ত বাইসাইকেল, প্রাণ গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকাই জামদানি, থ্রি-পিস, শীতের চাদর, জুতা, গৃহস্থালি সামগ্রী, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক পণ্য, মোটরসাইকেল, স্কুটি ও অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভারী পণ্য থেকে শুরু করে ছোটখাটো সামগ্রী এক জায়গায় পাওয়ায় খুশি ক্রেতারা। পণ্যের গুণাগুণ তুলে ধরা ও ছাড়ের প্রলোভনে বিক্রয়কর্মীদেরও দম ফেলার ফুরসত নেই।

ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় এসে এক সঙ্গে নানা ধরনের পণ্য কিনতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। তবে কারও কারও অভিযোগ, কিছু স্টলে পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি ধরা হচ্ছে। এ ছাড়া মেলায় আসার পথে যানজটে পড়ে ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন অনেকে।

মেলা প্রাঙ্গণে মোট ৩২৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবারের মেলায় ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তায় মেলা কর্তৃপক্ষ ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্য ও আনসার বাহিনী মোতায়েন করেছে।

আপডেট : ০৮:৪৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ছুটির আমেজে বাণিজ্যমেলায় জনস্রোত

আপডেট : ০৮:৪৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
৪৮

অনলাইন ডেস্ক।।
রাজধানীর উপকণ্ঠে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে চলছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। মেলার দ্বিতীয় সপ্তাহের ১৪তম দিনে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শুক্রবার মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের পর থেকেই জনস্রোতে মেলা এলাকায় মানুষের ঢল নামে। এতে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে।

প্রথম সপ্তাহের মতো দ্বিতীয় সপ্তাহের শুক্রবারও কসমেটিকস, পোশাক ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোতে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। পাশাপাশি খাবারের স্টলগুলোতেও দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। ‘দুটি কিনলে একটি ফ্রি’, বিশেষ ছাড় ও আকর্ষণীয় অফারের কারণে

বিভিন্ন স্টলে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। কারও আগ্রহ ঘর সাজানোর সামগ্রীতে, আবার কারও নজর নিজেকে সাজানোর উপকরণে। তরুণ-তরুণী, বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়তে থাকে। কেউ স্টল ঘুরে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন, কেউ আড্ডা দিচ্ছেন বা ছবি তুলছেন। কেউ খুঁজছেন তৈজসপত্র ও ঘরসজ্জার সামগ্রী, আবার কেউ সাধ ও সাধ্যের মধ্যে পছন্দের ফার্নিচার কিনছেন। ছাড়ের খোঁজে এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ছুটছেন অনেকেই।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের বিপুল উপস্থিতিতে বেচাকেনাও জমে উঠেছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতারা দিচ্ছেন নানা ধরনের অফার ও মূল্যছাড়। জেলখানার কারাবন্দিদের হাতে তৈরি হস্তশিল্প পণ্য ক্রেতাদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। এ ছাড়া মেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’-এ জুলাই আন্দোলন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

মেলার নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শিশু বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে প্যাডেল বোট, নাগরদোলা, হেলিকপ্টার, ট্রেন, নৌকাসহ বিভিন্ন রাইডে আনন্দ করছে শিশুরা। হাজি বিরিয়ানি, মিঠাই, ঝটপট, তুর্কি রেস্টুরেন্ট, টেস্টি ট্রিটসহ নানা খাবারের স্টলে ভিড় জমাচ্ছেন ভোজনপ্রেমীরা।

মেলায় আরএফএল, দুরন্ত বাইসাইকেল, প্রাণ গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকাই জামদানি, থ্রি-পিস, শীতের চাদর, জুতা, গৃহস্থালি সামগ্রী, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক পণ্য, মোটরসাইকেল, স্কুটি ও অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভারী পণ্য থেকে শুরু করে ছোটখাটো সামগ্রী এক জায়গায় পাওয়ায় খুশি ক্রেতারা। পণ্যের গুণাগুণ তুলে ধরা ও ছাড়ের প্রলোভনে বিক্রয়কর্মীদেরও দম ফেলার ফুরসত নেই।

ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় এসে এক সঙ্গে নানা ধরনের পণ্য কিনতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। তবে কারও কারও অভিযোগ, কিছু স্টলে পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি ধরা হচ্ছে। এ ছাড়া মেলায় আসার পথে যানজটে পড়ে ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন অনেকে।

মেলা প্রাঙ্গণে মোট ৩২৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবারের মেলায় ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তায় মেলা কর্তৃপক্ষ ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্য ও আনসার বাহিনী মোতায়েন করেছে।