চুয়াডাঙ্গা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জে বাস থামিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে ৪ যাত্রীকে আহত করলো ড্রাইভার

Padma Sangbad

মুন্সিগঞ্জ সংবাদদাতা।।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে চালক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চার বাসযাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আহতরা হলেন—সোহেল (২৬), সিয়াস (২১), হাসিনা আক্তার (৪৫) ও নাসিমা বেগম (৪৮)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বাসের ভেতরে ঢুকে লোহার রড বা দণ্ডজাতীয় বস্তু দিয়ে যাত্রীদের মারধর করছেন। অপর একটি ভিডিওতে হামলায় দুই নারীসহ কয়েকজন যাত্রীর মাথা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় ভুক্তভোগীরা হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে আকুতি জানাচ্ছিলেন।

ঘটনার নেপথ্য কারণ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একটি বাস কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে কুমিল্লার মাধাইয়া এলাকায় বাসটি একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর বাসের যাত্রীরা চালককে বাস থামাতে বাধ্য করেন। এ সময় চালকের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডা হয়। বাস থামানোর পর স্থানীয় লোকজন চালককে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি থানায় নিয়ে যায়। এ সুযোগে চালক সেখান থেকে পালিয়ে গজারিয়ায় তাঁর নিজ বাড়িতে চলে যান।

পরে পরিবহন কর্তৃপক্ষ অন্য একটি বাস পাঠিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

অভিযোগ রয়েছে, আগের বাসের চালক স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গজারিয়ার বাউশিয়া পাখির মোড় এলাকায় মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আটকে পড়া যাত্রীরা নতুন বাসে করে ওই এলাকায় পৌঁছালে চালক বাসটি থামানোর সংকেত দেন।

বাসটি থামার সঙ্গে সঙ্গে চালক ও তাঁর সহযোগীরা বাসের ভেতরে ঢুকে দুর্ঘটনার সময় চালককে বাস থামাতে বাধ্য করা যাত্রীদের ওপর হামলা চালান। এ সময় কয়েকজন যাত্রীকে লোহার রডসহ বিভিন্ন দণ্ডজাতীয় বস্তু দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

হামলায় অন্তত চারজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে গজারিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী বাসযাত্রী সাফায়েত হোসেন বলেন, এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলাম আমরা। মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একজন চালক গজারিয়ায় গাড়ি থামিয়ে আমাদের সহযাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। হামলায় চার-পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হামলায় আহত চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোহেল নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

গজারিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। আহতদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা যাতে উপযুক্ত শাস্তি পায়, সে জন্য ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি।

আপডেট : ০১:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জে বাস থামিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে ৪ যাত্রীকে আহত করলো ড্রাইভার

আপডেট : ০১:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মুন্সিগঞ্জ সংবাদদাতা।।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে যাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে চালক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চার বাসযাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আহতরা হলেন—সোহেল (২৬), সিয়াস (২১), হাসিনা আক্তার (৪৫) ও নাসিমা বেগম (৪৮)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বাসের ভেতরে ঢুকে লোহার রড বা দণ্ডজাতীয় বস্তু দিয়ে যাত্রীদের মারধর করছেন। অপর একটি ভিডিওতে হামলায় দুই নারীসহ কয়েকজন যাত্রীর মাথা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় ভুক্তভোগীরা হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে আকুতি জানাচ্ছিলেন।

ঘটনার নেপথ্য কারণ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একটি বাস কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে কুমিল্লার মাধাইয়া এলাকায় বাসটি একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর বাসের যাত্রীরা চালককে বাস থামাতে বাধ্য করেন। এ সময় চালকের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডা হয়। বাস থামানোর পর স্থানীয় লোকজন চালককে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি থানায় নিয়ে যায়। এ সুযোগে চালক সেখান থেকে পালিয়ে গজারিয়ায় তাঁর নিজ বাড়িতে চলে যান।

পরে পরিবহন কর্তৃপক্ষ অন্য একটি বাস পাঠিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

অভিযোগ রয়েছে, আগের বাসের চালক স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গজারিয়ার বাউশিয়া পাখির মোড় এলাকায় মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আটকে পড়া যাত্রীরা নতুন বাসে করে ওই এলাকায় পৌঁছালে চালক বাসটি থামানোর সংকেত দেন।

বাসটি থামার সঙ্গে সঙ্গে চালক ও তাঁর সহযোগীরা বাসের ভেতরে ঢুকে দুর্ঘটনার সময় চালককে বাস থামাতে বাধ্য করা যাত্রীদের ওপর হামলা চালান। এ সময় কয়েকজন যাত্রীকে লোহার রডসহ বিভিন্ন দণ্ডজাতীয় বস্তু দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

হামলায় অন্তত চারজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে গজারিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী বাসযাত্রী সাফায়েত হোসেন বলেন, এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলাম আমরা। মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একজন চালক গজারিয়ায় গাড়ি থামিয়ে আমাদের সহযাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। হামলায় চার-পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হামলায় আহত চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোহেল নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

গজারিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। আহতদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা যাতে উপযুক্ত শাস্তি পায়, সে জন্য ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি।