দর্শনায় নবজাতক শিশু অদলবদলের অভিযোগ থানায় লিখিত অভিযোগ, মামলার প্রস্তুতি ডিএনএ পরীক্ষার দাবিতে পরিবার

দৈনিক পদ্মা সংবাদ ডেস্ক।।
দর্শনা পৌর শহরের একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অপারেশন থিয়েটার থেকে নবজাতক শিশুকে অদলবদল করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে নবজাতকের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগকারী সোলায়মান হোসেন সুমন, দর্শনা পৌর এলাকার আজমপুর গোরস্থানপাড়ার বাসিন্দা। তিনি জানান, গত ১০ মার্চ তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মুনিয়া খাতুনকে নিয়মিত চেকআপের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্ধারিত খরচে তাকে ভর্তি করা হয়।
সুমনের দাবি, অপারেশন থিয়েটারে তখন আরেকজন রোগীর সিজার চলছিল। সেই অবস্থাতেই তার স্ত্রীকে ভেতরে নেওয়া হয়। অপারেশন শেষে নবজাতক শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। বরং সিজারের পর একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স বা আয়া একটি প্রেসক্রিপশন দিয়ে জরুরি ওষুধ আনতে বলেন। ওষুধ সরবরাহের প্রায় এক ঘণ্টা পর শিশুটিকে মায়ের কাছে দেওয়া হয়।
তবে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নবজাতকের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যেতে হবে। পরে শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গার এক শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হলে তিনি অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়।
প্রথমদিকে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিলেও কয়েকদিন পর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্দেহের সৃষ্টি হয় পরিবারের মধ্যে। মুনিয়া খাতুন বাড়িতে কাপড় গুছানোর সময় একটি লাল কাপড়ের টুকরো দেখে বিস্মিত হন। বিষয়টি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, ওই কাপড়েই তাদের শিশুকে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে মুনিয়ার দাবি, এই কাপড়টি তার আগে যে রোগীর সিজার হয়েছিল, তার শিশুর ছিল।
এ তথ্য জানার পরই সুমনের সন্দেহ আরও গভীর হয়। তিনি হাসপাতালে গিয়ে পূর্ববর্তী সিজার রোগীর নাম পরিচয় জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তা জানাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ওই রোগী হাসপাতালের ম্যানেজারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিলেন।
সুমনের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের ম্যানেজার সায়েম হোসেন তুষারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সহযোগিতার পরিবর্তে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ফলে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ ঘটনায় সুমন ও তার পরিবারের দাবি নবজাতকের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক এবং সংশ্লিষ্টদের পরিচয় প্রকাশ করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে ম্যানেজার জানান, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিছু নীতিমালা রয়েছে, যার কারণে সংশ্লিষ্ট রোগীর তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় রোববার সুমন দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। সুমনের দাবী ম্যানেজারের ওই আত্বিয়ের নাম পরিচয় ও নবজাতক শিশুর ডিএন পরিক্ষা করা হলে প্রকৃত সত্য উন্মোচন হবে। এ বিষয়ে দর্শনা আখচাষি কল্যান সংস্থার নেতা ও হাসপাতাল দেখভালকারিদের অন্যতম হাজি আকমত আলী ও ওমর আলী জানান, হাসপাতালটি ৮২ ব্যাচকে (বি টুগেদার) চুক্তি মাফিক দেয়া হয়েছে। তাই বর্তমান সকল দ্বায়ভার তাদের। হাসপাতালের ডাঃ ইফতেখার হুসাইন রুবেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ট্রেনে রয়েছেন তাই এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবেননা। দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র আতিয়ার রহমান হাবুর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে পদাধিকার বলে তিনি উপদেষ্টা ছিলেন। ফলে বর্তমানে কোন দায়িত্বে নেই তিনি।
এদিকে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধানে যুক্ত স্থানীয় একটি সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে এবং বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপরই সব দায়ভার বর্তায়।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সুমন স্পষ্ট জানিয়েছেন, দ্রুত আদালতে মামলা দায়ের করে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করবেন এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত তিনি থেমে থাকবেন না।।



















