চুয়াডাঙ্গা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে সাজঘরে হামলার অভিযোগ, আহত ৩ থানায় লিখিত অভিযোগ, ৪৮ ঘন্টায় নেওয়া হয়নি ব্যবস্থা

Padma Sangbad
২০

জামালপুর প্রতিনিধি :

জামালপুরে নিঝুম সাথী সাজঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বানছের আলী, তার স্ত্রী জোসনা বেগম ও রোজ নামে তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মালিক সমিতি ও নাট্যশিল্পীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। হামলার ঘটনায় বানছের আলী বাদী হয়ে শুক্রবার রাতেই জামালপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেনি সদর থানা পুলিশ।

অভিযোগে লাঙ্গলজোড়া-আইলাপুর রেলঘুন্টি এলাকার আয়নালের ছেলে রব্বানী (৩৫), সুরুজের ছেলে হাফিজুর (৪০), পিটিআই মোড় বউবাজার এলাকার ভাড়াটিয়া রাজুর স্ত্রী সাথী (৩০), জনিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণচরণপুর এলাকার মো. শামছুল হকের ছেলে বানছের আলী ও ছোনটিয়া এলাকার তজর উদ্দিনের ছেলে মজিবর দীর্ঘদিন ধরে নিঝুম সাথী সাজঘর নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, সাথী নামের এক শিল্পী ওই সাজঘরের সঙ্গে বাৎসরিক চুক্তিতে কাজ করছিলেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই অন্য একটি সাজঘরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এর জের ধরে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি সাজঘরের সামনে এসে বানছের আলীকে গালাগাল করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গালাগাল করতে নিষেধ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বানছের আলীর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ সময় বানছের আলীকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তার স্ত্রী জোসনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং লোহার পাইপ দিয়ে পায়ে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, রোজ এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সাজঘর ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করেন এবং ড্রয়ারে থাকা ১২ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে নেন।

উল্লেখ্য যে, শিল্পী সাথী ইতিপূর্বে বানিয়া বাজার এলাকায় থাকাবস্থায় স্থানীয় এলাকাবাসী অসামাজিক কার্যকলাপে তাকে বানিয়া বাজার এলাকা থেকে তাড়িয়া দেয়। অভিযোগ রয়েছে সাথী ইয়াবা সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। এদিকে হাফিজুর আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় ইতিপূর্বে রাজনৈতিক মামলায় কারাবাস করেছেন। তবে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারে না। গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে থানা সহ বিভিন্ন জনের সাথে গভীর যোগাযোগ থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। প্রশ্ন উঠেছে তারা কি এবারো ধোরা ছোয়ার বাইরে যাবে? আইনগত ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে কি পুলিশ? অতি দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ কারী বানছের আলী জানান, ৪ তারিখ রাতেই থানায় অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রব্বানী, সাথী, হাফিজুরদের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে নাম্বারটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজমুস সাকিব মুঠোফোনে জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আপডেট : ১১:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামালপুরে সাজঘরে হামলার অভিযোগ, আহত ৩ থানায় লিখিত অভিযোগ, ৪৮ ঘন্টায় নেওয়া হয়নি ব্যবস্থা

আপডেট : ১১:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০

জামালপুর প্রতিনিধি :

জামালপুরে নিঝুম সাথী সাজঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বানছের আলী, তার স্ত্রী জোসনা বেগম ও রোজ নামে তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মালিক সমিতি ও নাট্যশিল্পীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। হামলার ঘটনায় বানছের আলী বাদী হয়ে শুক্রবার রাতেই জামালপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেনি সদর থানা পুলিশ।

অভিযোগে লাঙ্গলজোড়া-আইলাপুর রেলঘুন্টি এলাকার আয়নালের ছেলে রব্বানী (৩৫), সুরুজের ছেলে হাফিজুর (৪০), পিটিআই মোড় বউবাজার এলাকার ভাড়াটিয়া রাজুর স্ত্রী সাথী (৩০), জনিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণচরণপুর এলাকার মো. শামছুল হকের ছেলে বানছের আলী ও ছোনটিয়া এলাকার তজর উদ্দিনের ছেলে মজিবর দীর্ঘদিন ধরে নিঝুম সাথী সাজঘর নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, সাথী নামের এক শিল্পী ওই সাজঘরের সঙ্গে বাৎসরিক চুক্তিতে কাজ করছিলেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই অন্য একটি সাজঘরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এর জের ধরে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি সাজঘরের সামনে এসে বানছের আলীকে গালাগাল করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গালাগাল করতে নিষেধ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বানছের আলীর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ সময় বানছের আলীকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তার স্ত্রী জোসনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং লোহার পাইপ দিয়ে পায়ে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, রোজ এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সাজঘর ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করেন এবং ড্রয়ারে থাকা ১২ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে নেন।

উল্লেখ্য যে, শিল্পী সাথী ইতিপূর্বে বানিয়া বাজার এলাকায় থাকাবস্থায় স্থানীয় এলাকাবাসী অসামাজিক কার্যকলাপে তাকে বানিয়া বাজার এলাকা থেকে তাড়িয়া দেয়। অভিযোগ রয়েছে সাথী ইয়াবা সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। এদিকে হাফিজুর আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় ইতিপূর্বে রাজনৈতিক মামলায় কারাবাস করেছেন। তবে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারে না। গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে থানা সহ বিভিন্ন জনের সাথে গভীর যোগাযোগ থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। প্রশ্ন উঠেছে তারা কি এবারো ধোরা ছোয়ার বাইরে যাবে? আইনগত ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে কি পুলিশ? অতি দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ কারী বানছের আলী জানান, ৪ তারিখ রাতেই থানায় অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রব্বানী, সাথী, হাফিজুরদের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে নাম্বারটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাজমুস সাকিব মুঠোফোনে জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”