চুয়াডাঙ্গা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী হত্যা মামলার আসামির পুলিশের গাড়ি থেকে ঝাঁপ, হাসপাতালে মৃত্যু

Padma Sangbad
২৭

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া রামানুজ গোস্বামীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের হেফাজত থেকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে চলন্ত পুলিশ গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেওয়ার পর গুরুতর আহত হন তিনি। পরে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার শারীরিক পরীক্ষার জন্য রামানুজকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা শেষে তাকে হাতিগাঁও থানায় ফিরিয়ে নেওয়ার সময় নারাকসুর পাহাড় এলাকায় গাড়ির ভেতরে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেন বলে পুলিশের দাবি।
গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন রামানুজ। পুলিশ তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ
পুলিশের অভিযোগ, গত ৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির বেলতলা এলাকায় নিজেদের ফ্ল্যাটে স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে হত্যা করেন রামানুজ। এরপর মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেশীরা ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুলিশ ফ্ল্যাটের দরজা খুলে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তের সময় ফ্রিজ থেকে দেহের কিছু অংশ উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
সন্দেহ থেকেই হত্যাকাণ্ড?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, স্ত্রীর কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। রামানুজ পেশায় ক্যাবচালক ছিলেন। গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর রিয়া তালুকদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
ঘটনার পর রামানুজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
আদালতে হাজির করার আগেই মৃত্যু
রামানুজের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ আগের দিন শেষ হয়েছিল। আজ তাকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল। এর আগেই পুলিশের গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা ঘটে এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা ও হেফাজতে থাকা অবস্থায় কীভাবে তিনি চলন্ত গাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। পুরো বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেফতারের পর নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুশোচনার কথাও জানিয়েছিলেন রামানুজ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, এমন ভুল যেন আর কেউ না করে।

আপডেট : ০৫:০৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্ত্রী হত্যা মামলার আসামির পুলিশের গাড়ি থেকে ঝাঁপ, হাসপাতালে মৃত্যু

আপডেট : ০৫:০৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৭

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া রামানুজ গোস্বামীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের হেফাজত থেকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে চলন্ত পুলিশ গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেওয়ার পর গুরুতর আহত হন তিনি। পরে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার শারীরিক পরীক্ষার জন্য রামানুজকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা শেষে তাকে হাতিগাঁও থানায় ফিরিয়ে নেওয়ার সময় নারাকসুর পাহাড় এলাকায় গাড়ির ভেতরে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেন বলে পুলিশের দাবি।
গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন রামানুজ। পুলিশ তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্ত্রী হত্যার অভিযোগ
পুলিশের অভিযোগ, গত ৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির বেলতলা এলাকায় নিজেদের ফ্ল্যাটে স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে হত্যা করেন রামানুজ। এরপর মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেশীরা ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুলিশ ফ্ল্যাটের দরজা খুলে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তের সময় ফ্রিজ থেকে দেহের কিছু অংশ উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
সন্দেহ থেকেই হত্যাকাণ্ড?
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, স্ত্রীর কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। রামানুজ পেশায় ক্যাবচালক ছিলেন। গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর রিয়া তালুকদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
ঘটনার পর রামানুজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
আদালতে হাজির করার আগেই মৃত্যু
রামানুজের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ আগের দিন শেষ হয়েছিল। আজ তাকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল। এর আগেই পুলিশের গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা ঘটে এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা ও হেফাজতে থাকা অবস্থায় কীভাবে তিনি চলন্ত গাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। পুরো বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেফতারের পর নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুশোচনার কথাও জানিয়েছিলেন রামানুজ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, এমন ভুল যেন আর কেউ না করে।