চুয়াডাঙ্গা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অশ্রুসজল নয়নে প্রতিমা বিসর্জন, মাথাভাঙ্গা নদীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাল চুয়াডাঙ্গার ভক্তরা

Padma Sangbad
৬

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
ধূপের ধোঁয়া, ঢাকের বাদ্য, চণ্ডীপাঠ আর ভক্তদের চোখের জলে আনন্দময়ী মা দুর্গাকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে দেবীর চরণকমলে অঞ্জলি, দর্পণ বিসর্জন ও ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা শেষে বিকেলে মাথাভাঙ্গা নদীর জলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে ছয় দিনব্যাপী এই মহাউৎসবের।
সনাতন শাস্ত্র মতে, গত ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোকে দেবীর আবাহন ঘটেছিল। ছয়টি দিন ধরণীতে ভক্তদের ভক্তি আর পূজার্ঘ্য গ্রহণ শেষে অশ্রুসজল নয়নে দেবীকে দেবালয় ও নিজ গৃহ কৈলাসে বিদায় জানান ভক্তরা।
বিজয়া দশমীর সকাল থেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরসহ উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নেমে আসে এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ। মণ্ডপে মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা দেবীবরণে মেতে ওঠেন এবং একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে বিজয়ার শুভকামনা ও শুভেচ্ছা জানান। ঢাকের তালে তালে নাচ-গান আর আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের পুণ্যার্থীরা।
দুপুরের পর চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য বিসর্জন শোভাযাত্রা বের হয়। সুসজ্জিত ট্রাকে প্রতিমা নিয়ে বের হওয়া এই শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফেরিঘাট সড়কসংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে পৌঁছায়। শোভাযাত্রা দেখতে সড়কের দু’পাশে ঢল নামে হাজারো উৎসুক মানুষের।
পরবর্তীতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বিহিত পূজা শেষে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় মাথাভাঙ্গা নদীর হিমশীতল জলে। এ সময় মাথাভাঙ্গা নদীর দুই কূল প্রতিধ্বনিত হয়ে ওঠে ‘আসছে বছর আবার হবে’ ধ্বনিতে। পরম শ্রদ্ধায় প্রিয় দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক ভক্তকেই আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়।
মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে মাকে বিদায় জানাতে এসে আবেগজড়িত কণ্ঠে সঞ্চিতা সেন বলেন, “গত ছয়টি দিন মা আমাদের মাঝে উপস্থিত থেকে আশীর্বাদ করেছেন। চরম ভক্তি ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে আমাদের এই পূজা পার হলো। মাকে বিদায় দেওয়া বড্ড কষ্টের, তবুও নিয়ম মেনে বিসর্জন দিতে হচ্ছে। মনে একটাই সান্ত্বনা, আসছে বছর মা আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।”
উল্লেখ্য, দুর্গাপূজার পুরো ছয় দিন ধরে চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি পূজামণ্ডপে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিসর্জন ঘাট ও শোভাযাত্রা ঘিরেও পুলিশ, আনসার ও র‍্যাবের জোরদার টহল চোখে পড়ে। ফলে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় শেষ হলো শারদীয় এ দুর্গোৎসব।

আপডেট : ০২:৩৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

অশ্রুসজল নয়নে প্রতিমা বিসর্জন, মাথাভাঙ্গা নদীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাল চুয়াডাঙ্গার ভক্তরা

আপডেট : ০২:৩৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৬

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
ধূপের ধোঁয়া, ঢাকের বাদ্য, চণ্ডীপাঠ আর ভক্তদের চোখের জলে আনন্দময়ী মা দুর্গাকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে দেবীর চরণকমলে অঞ্জলি, দর্পণ বিসর্জন ও ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা শেষে বিকেলে মাথাভাঙ্গা নদীর জলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে ছয় দিনব্যাপী এই মহাউৎসবের।
সনাতন শাস্ত্র মতে, গত ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোকে দেবীর আবাহন ঘটেছিল। ছয়টি দিন ধরণীতে ভক্তদের ভক্তি আর পূজার্ঘ্য গ্রহণ শেষে অশ্রুসজল নয়নে দেবীকে দেবালয় ও নিজ গৃহ কৈলাসে বিদায় জানান ভক্তরা।
বিজয়া দশমীর সকাল থেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরসহ উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নেমে আসে এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ। মণ্ডপে মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা দেবীবরণে মেতে ওঠেন এবং একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে বিজয়ার শুভকামনা ও শুভেচ্ছা জানান। ঢাকের তালে তালে নাচ-গান আর আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের পুণ্যার্থীরা।
দুপুরের পর চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য বিসর্জন শোভাযাত্রা বের হয়। সুসজ্জিত ট্রাকে প্রতিমা নিয়ে বের হওয়া এই শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফেরিঘাট সড়কসংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে পৌঁছায়। শোভাযাত্রা দেখতে সড়কের দু’পাশে ঢল নামে হাজারো উৎসুক মানুষের।
পরবর্তীতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বিহিত পূজা শেষে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় মাথাভাঙ্গা নদীর হিমশীতল জলে। এ সময় মাথাভাঙ্গা নদীর দুই কূল প্রতিধ্বনিত হয়ে ওঠে ‘আসছে বছর আবার হবে’ ধ্বনিতে। পরম শ্রদ্ধায় প্রিয় দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক ভক্তকেই আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়।
মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে মাকে বিদায় জানাতে এসে আবেগজড়িত কণ্ঠে সঞ্চিতা সেন বলেন, “গত ছয়টি দিন মা আমাদের মাঝে উপস্থিত থেকে আশীর্বাদ করেছেন। চরম ভক্তি ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে আমাদের এই পূজা পার হলো। মাকে বিদায় দেওয়া বড্ড কষ্টের, তবুও নিয়ম মেনে বিসর্জন দিতে হচ্ছে। মনে একটাই সান্ত্বনা, আসছে বছর মা আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।”
উল্লেখ্য, দুর্গাপূজার পুরো ছয় দিন ধরে চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি পূজামণ্ডপে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিসর্জন ঘাট ও শোভাযাত্রা ঘিরেও পুলিশ, আনসার ও র‍্যাবের জোরদার টহল চোখে পড়ে। ফলে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় শেষ হলো শারদীয় এ দুর্গোৎসব।