চুয়াডাঙ্গা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেহেরপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

Padma Sangbad
৭

নিজস্ব প্রতিনিধি ।।

সিঁদুর খেলা, ঢাক-ঢোলের বাদ্য আর ভক্তদের জয়ধ্বনির মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের ভৈরব নদে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিদায়ের ক্ষণে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি অনেক ভক্তের চোখে ছিল অশ্রু।

‘দুর্গা মা কি জয়, মহামায়া কি জয়’ এমন জয়ধ্বনি, ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও ঘণ্টার বাদ্যে মুখর হয়ে ওঠে ভৈরব নদের দুই পাড়। শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে আসেন ভক্তরা। পরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়।

শহরের শ্রীশ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, শ্রীশ্রী হরিভক্তি প্রদায়িনী পূজামন্দির, নায়েব বাড়ির রাধামাধব মন্দির, মালোপাড়া, হালদারপাড়া ও বামনপাড়াসহ বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিমা ভৈরব নদে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী। কেউ ঢাকের তালে নেচে-গেয়ে বিদায় জানান দেবীকে, আবার কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মায়ের বিদায়বেলায়।

এর আগে সকালে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, অঞ্জলি, সিঁদুর খেলা ও দর্পণ বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। ধান, দুর্বা, মিষ্টি ও আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা কৈলাসে স্বামীর গৃহে ফিরে গেলেও আগামী শরতে আবারও ফিরে আসবেন ভক্তদের মাঝে। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় দেবীর বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।

মুজিবনগর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলাতেও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। উপজেলার আটটি পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। মহাজনপুর, কোমরপুর, মোনাখালী, দারিয়াপুর-খানপুর, রতনপুর ও বল্লভপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা বিসর্জনস্থলে সমবেত হন।

বিকেল থেকে ঢাক-ঢোলের বাদ্য, উলুধ্বনি ও জয়ধ্বনির মধ্য দিয়ে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ রিকশায়, আবার কেউ ট্রাক ও ভ্যানে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলে যান। পথে পথে দর্শনার্থীরা শোভাযাত্রাকে স্বাগত জানান। বিসর্জনস্থলে প্রতিমা পৌঁছানোর পর ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে দেবীকে বিদায় জানানো হয়।

বিসর্জনকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় আবেগঘন পরিবেশে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন আয়োজকেরা।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

আপডেট : ০২:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মেহেরপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

আপডেট : ০২:৪৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৭

নিজস্ব প্রতিনিধি ।।

সিঁদুর খেলা, ঢাক-ঢোলের বাদ্য আর ভক্তদের জয়ধ্বনির মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের ভৈরব নদে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিদায়ের ক্ষণে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি অনেক ভক্তের চোখে ছিল অশ্রু।

‘দুর্গা মা কি জয়, মহামায়া কি জয়’ এমন জয়ধ্বনি, ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও ঘণ্টার বাদ্যে মুখর হয়ে ওঠে ভৈরব নদের দুই পাড়। শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে আসেন ভক্তরা। পরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়।

শহরের শ্রীশ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, শ্রীশ্রী হরিভক্তি প্রদায়িনী পূজামন্দির, নায়েব বাড়ির রাধামাধব মন্দির, মালোপাড়া, হালদারপাড়া ও বামনপাড়াসহ বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিমা ভৈরব নদে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী। কেউ ঢাকের তালে নেচে-গেয়ে বিদায় জানান দেবীকে, আবার কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মায়ের বিদায়বেলায়।

এর আগে সকালে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, অঞ্জলি, সিঁদুর খেলা ও দর্পণ বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। ধান, দুর্বা, মিষ্টি ও আবির দিয়ে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা কৈলাসে স্বামীর গৃহে ফিরে গেলেও আগামী শরতে আবারও ফিরে আসবেন ভক্তদের মাঝে। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় দেবীর বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।

মুজিবনগর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলাতেও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। উপজেলার আটটি পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। মহাজনপুর, কোমরপুর, মোনাখালী, দারিয়াপুর-খানপুর, রতনপুর ও বল্লভপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা বিসর্জনস্থলে সমবেত হন।

বিকেল থেকে ঢাক-ঢোলের বাদ্য, উলুধ্বনি ও জয়ধ্বনির মধ্য দিয়ে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ রিকশায়, আবার কেউ ট্রাক ও ভ্যানে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলে যান। পথে পথে দর্শনার্থীরা শোভাযাত্রাকে স্বাগত জানান। বিসর্জনস্থলে প্রতিমা পৌঁছানোর পর ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে দেবীকে বিদায় জানানো হয়।

বিসর্জনকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় আবেগঘন পরিবেশে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন আয়োজকেরা।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।