চুয়াডাঙ্গা ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারল বাংলাদেশ

Padma Sangbad

ক্রীড়া ডেস্ক।।

অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুটা স্বপ্নের মতো হলেও দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে।

ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টে পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৯৫ রানের বেশি করতে পারেনি টাইগাররা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া একমাত্র ইনিংসে ২১০ রান সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচের দুই ইনিংসেই শতরানের নিচে অলআউট হলো দলটি। টানা দুই ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে দুই দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার জয়ের মূল কারিগর ছিলেন পেসার মিচেল স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশের প্রথম পাঁচ ব্যাটারকেই সাজঘরে ফেরান তিনি। পরে আরও একটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস নামাতে বড় ভূমিকা রাখেন।

দ্বিতীয় ইনিংসেও স্টার্কের আগ্রাসী বোলিং অব্যাহত ছিল। এবারও চারটি উইকেট শিকার করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও দুই ইনিংসে তিনটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের চাপে রাখেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে এটিই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। প্রথম ইনিংসে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেছিলেন শরিফুল ইসলাম।

এই পরিসংখ্যানই ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের চরম দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে।

ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র ইনিংসে মাত্র ৪৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণেই অস্ট্রেলিয়াকে তুলনামূলক কম রানে আটকে রেখে লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্যামেরন গ্রিন সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন। এছাড়া স্টিভ স্মিথ ৪২, নাথান লায়ন ৩২ এবং ট্রাভিস হেড ২২ রান করেন। গ্রিনকে দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ফেরান শরিফুল।

ডারউইনে প্রথম টেস্টে টানা সাড়ে তিন দিন দাপট দেখিয়ে ৯ উইকেটের বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই জয়ের পর সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল টাইগাররা। তবে ম্যাকাইয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।

প্রথম টেস্টে হারের পর সিরিজ বাঁচাতে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ম্যাকাই টেস্টে জয় ছিল অপরিহার্য। শেষ পর্যন্ত দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের জন্য সিরিজে ঐতিহাসিক জয় দিয়ে শুরু হলেও দ্বিতীয় টেস্টের ব্যাটিং বিপর্যয় হয়ে থাকল বড় হতাশার কারণ।

আপডেট : ০২:৫৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারল বাংলাদেশ

আপডেট : ০২:৫৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ক্রীড়া ডেস্ক।।

অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুটা স্বপ্নের মতো হলেও দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে।

ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টে পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৯৫ রানের বেশি করতে পারেনি টাইগাররা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া একমাত্র ইনিংসে ২১০ রান সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচের দুই ইনিংসেই শতরানের নিচে অলআউট হলো দলটি। টানা দুই ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে দুই দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার জয়ের মূল কারিগর ছিলেন পেসার মিচেল স্টার্ক। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশের প্রথম পাঁচ ব্যাটারকেই সাজঘরে ফেরান তিনি। পরে আরও একটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস নামাতে বড় ভূমিকা রাখেন।

দ্বিতীয় ইনিংসেও স্টার্কের আগ্রাসী বোলিং অব্যাহত ছিল। এবারও চারটি উইকেট শিকার করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও দুই ইনিংসে তিনটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের চাপে রাখেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে এটিই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। প্রথম ইনিংসে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেছিলেন শরিফুল ইসলাম।

এই পরিসংখ্যানই ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের চরম দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে।

ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র ইনিংসে মাত্র ৪৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণেই অস্ট্রেলিয়াকে তুলনামূলক কম রানে আটকে রেখে লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্যামেরন গ্রিন সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন। এছাড়া স্টিভ স্মিথ ৪২, নাথান লায়ন ৩২ এবং ট্রাভিস হেড ২২ রান করেন। গ্রিনকে দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ফেরান শরিফুল।

ডারউইনে প্রথম টেস্টে টানা সাড়ে তিন দিন দাপট দেখিয়ে ৯ উইকেটের বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই জয়ের পর সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল টাইগাররা। তবে ম্যাকাইয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।

প্রথম টেস্টে হারের পর সিরিজ বাঁচাতে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ম্যাকাই টেস্টে জয় ছিল অপরিহার্য। শেষ পর্যন্ত দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের জন্য সিরিজে ঐতিহাসিক জয় দিয়ে শুরু হলেও দ্বিতীয় টেস্টের ব্যাটিং বিপর্যয় হয়ে থাকল বড় হতাশার কারণ।