চুয়াডাঙ্গা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও শ্রমিক লীগের দুই তালিকায় মামুনুর রশিদের নাম

দর্শনা আন্তর্জাতিক স্টেশনে যোগদান বিতর্কে নতুন মোড়

Padma Sangbad
৫৩

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক।।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে নতুন স্টেশন মাস্টার হিসেবে মামুনুর রশিদের যোগদানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। রাজনৈতিক কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করলেও, প্রাপ্ত দুটি সাংগঠনিক নথিতে তার নাম শ্রমিক লীগের পদধারী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।গত বুধবার সন্ধ্যায় নতুন স্টেশন মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব নিতে মামুনুর রশিদ দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে গেলে তাকে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে কাজে যোগদানে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় স্টেশন এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় স্টেশনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার পর মামুনুর রশিদ দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই। পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” এ ঘটনায় দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার নাজমা ইয়াসমিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেন তিনি।

তবে মামুনুর রশিদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দুটি সাংগঠনিক নথি সামনে এসেছে। প্রাপ্ত একটি নথিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগের একটি কমিটিতে মো. মামুনুর রশিদের নাম ‘অতিরিক্ত সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। অপর একটি নথিতে জাতীয় শ্রমিক লীগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার কার্যকরী সদস্য হিসেবেও তার নাম দেখা যায়।

অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার নাজমা ইয়াসমিন ও আশিক তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেন, নতুন স্টেশন মাস্টারের যোগদানে বাধা দেওয়া বা তাকে হয়রানির সঙ্গে তারা জড়িত নন।


এ বিষয়ে দর্শনা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সার্কেলের ইন্সপেক্টর মো. আলতাফ হোসেন বলেন, নতুন স্টেশন মাস্টার মামুনুর রশিদের যোগদানের বিষয়টি তিনি জানেন। তবে মারধরের কোনো ঘটনা তার জানা নেই এবং রেল ইয়ার্ডের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান।যোগদানে বাধা, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং শ্রমিক লীগের বিভিন্ন পদে মামুনুর রশিদের নামসংবলিত নথি সামনে আসায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে নথির সত্যতা ও মামুনুর রশিদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

আপডেট : ০১:৫৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও শ্রমিক লীগের দুই তালিকায় মামুনুর রশিদের নাম

দর্শনা আন্তর্জাতিক স্টেশনে যোগদান বিতর্কে নতুন মোড়

আপডেট : ০১:৫৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
৫৩

দৈনিক পদ্মা সংবাদ নিজস্ব ডেস্ক।।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে নতুন স্টেশন মাস্টার হিসেবে মামুনুর রশিদের যোগদানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। রাজনৈতিক কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করলেও, প্রাপ্ত দুটি সাংগঠনিক নথিতে তার নাম শ্রমিক লীগের পদধারী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।গত বুধবার সন্ধ্যায় নতুন স্টেশন মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব নিতে মামুনুর রশিদ দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে গেলে তাকে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে কাজে যোগদানে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় স্টেশন এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় স্টেশনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার পর মামুনুর রশিদ দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই। পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” এ ঘটনায় দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার নাজমা ইয়াসমিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেন তিনি।

তবে মামুনুর রশিদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দুটি সাংগঠনিক নথি সামনে এসেছে। প্রাপ্ত একটি নথিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগের একটি কমিটিতে মো. মামুনুর রশিদের নাম ‘অতিরিক্ত সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। অপর একটি নথিতে জাতীয় শ্রমিক লীগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার কার্যকরী সদস্য হিসেবেও তার নাম দেখা যায়।

অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার নাজমা ইয়াসমিন ও আশিক তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেন, নতুন স্টেশন মাস্টারের যোগদানে বাধা দেওয়া বা তাকে হয়রানির সঙ্গে তারা জড়িত নন।


এ বিষয়ে দর্শনা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সার্কেলের ইন্সপেক্টর মো. আলতাফ হোসেন বলেন, নতুন স্টেশন মাস্টার মামুনুর রশিদের যোগদানের বিষয়টি তিনি জানেন। তবে মারধরের কোনো ঘটনা তার জানা নেই এবং রেল ইয়ার্ডের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান।যোগদানে বাধা, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং শ্রমিক লীগের বিভিন্ন পদে মামুনুর রশিদের নামসংবলিত নথি সামনে আসায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে নথির সত্যতা ও মামুনুর রশিদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।