বহুরূপী হাসানের নানা অপকর্মে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় বহুরূপী এক ব্যক্তির অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তিনি আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গড়ে তুলেছেন স্পেশাল লাঠিয়াল বাহিনী। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তাদের তাবিদারী করাই তার মূল লক্ষ্য। আলাদিনের চেরাগের মতো শূন্য থেকে কোটিপতি বনে গিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে তার জুড়ি নেই।
আলোচিত এ বহুরুপীর নাম হাসানুর রহমান হাসান। তার বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার তৈলকূপী গ্রামে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। এসব অভিযোগে জানা যায়, ছাত্রজীবনে তিনি একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সভাপতি ও সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করলেও চরিত্রগত সমস্যার কারণে বহিস্কৃত হন। পরবর্তীতে একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে ফিল্ডকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই নানা ষড়যন্ত্রের কারিগর হওয়ায় তার ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পেত না। বেশ কিছুদিন তিনি মিনিস্টার কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে গড়ে তোলেন লাঠিয়াল বাহিনী। যাদেরকে দিয়ে মার্কেটে পণ্য বিক্রি করে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হয়ে উঠে তার নেশা।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারের এমপি মন্ত্রীসহ নানা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে গড়ে তোলেন সখ্যতা। এভাবেই চলছিল তার জীবনযাপন। গত কয়েক বছর আগে তিনি কোটি টাকার গাড়িসহ পাবনায় এক নারীসহ গ্রেফতার হয়। সেখানে কিছুদিন জেল হাজতে থেকে জেল কোডের আইন অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলায় চালানে আসেন। অত্যন্ত সুচতুর ও মুখ মিষ্টি হাসান সাতক্ষীরা জেলখানায় তার লোলুপ ভালোবাসায় আটকিয়ে ফেলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে। এরপর জেল থেকে বেরিয়ে নিজেই সাতক্ষীরা তথা তালা উপজেলা বিএনপি, পাটকেলঘাটা বিএনপি’র মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি করে পদ পদবী বাগিয়ে নেওয়ার জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট যে বিপ্লব হয়, ওই বিপ্লবে পরিপূর্ণ অর্জন নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে বিএনপি’র আনন্দ মিছিলের সাথে তার লাঠিয়াল বাহিনীকে ঢুকিয়ে দিয়ে পাটকেলঘাটা বাজারে ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করেন। তার নেতৃত্বে পাটকেলঘাটা বাজারের দোকানে হামলা ভাংচুরসহ জ্বালাও পোড়াও করা হয়েছে। যার ফুটেজ পাটকেলঘাটাবাসীর সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষিত।
এদিকে, বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব মিথ্যা মামলায় জামিন পাওয়ার পর থেকে তার একমাত্র সিপাহ সালাহর হিসাবে নিজেকে জাহির করতে ফেসবুকে নানা রকম ছবি আপলোড করতে থাকেন। স্থানীয় পর্যায়ের মানুষের নিকট থেকে চাঁদা আদায়সহ কূটকৌশলে হাসান রয়েছেন সবার শীর্ষে। তার ফেসবুক প্রোফাইলে আওয়ামী লীগ নেতাসহ যেসমস্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে, সে নিউজ আপলোড করে ক্যাপশনে লিখেছেন তিনিও মামলা করবেন। তার কাছ থেকে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছে মর্মে একটি টিভি চ্যানেলে স্বাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেগুলো ফেসবুকে আপলোড করে মামলার ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট থেকে ইতিমধ্যে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, ২৯ আগস্ট তালা উপজেলা শ্রমিকদলের নেতা বিল্লাল হোসেন হাসান ও তার লাঠিয়াল বাহিনীর আওয়ামী লীগের সাথে সখ্যতার বিভিন্ন ছবি ফেসবুকে আপলোড করায় চরম ক্ষিপ্ত হন হাসান। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত ৮টায় হাসান তার লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা পাটকেলঘাটা বলফিল্ড মোড়ে যুবদল নেতা হায়দার, শ্রমিকদল নেতা আব্দুল মজিদ, শ্রমিকদল নেতা বিল্লালের উপর হামলা চালায়। এতে আহত হয়ে শ্রমিকদল নেতা আব্দুল মজিদ বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনার পর তিনি পত্রপত্রিকায় মনগড়া তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করিয়ে তালা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোস্তফা হোসেন মন্টু ও সরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি রাশিদুল হক রাজুকে হেয় প্রতিপন্ন করে।
হাসানের এহেন কর্মকান্ডের প্রতিবাদে সরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সোমবার পাটকেলঘাটায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে দলের ভূইফোড় সন্ত্রাসী বহুরুপী প্রতারক হাসানের এ জাতীয় নানা অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়। একইসাথে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদফা হাসানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


























