স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও ষড়যন্ত্র এখনও চালিয়ে যাচ্ছে

স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও এখনও দেশকে অস্থির করার জন্য তারা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেক করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এ দেশকে গড়তে চাই। এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করতে চাই যেখানে দুর্নীতিবাজ-দখলদারদের অস্তিত্ব থাকবে না। যে সমাজে আমাদের মা-বোনেরা ইজ্জতের সঙ্গে ঘরে এবং বাইরে চলতে পারবে।
তিনি আরও বলেছেন, ধর্ম কাউকে চাপিয়ে দেওয়া হবে না। স্বাধীনভাবে যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ করতে পারবেন এ দেশের নারীরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় মাগুরার ঐতিহাসিক নোমানী ময়দানে জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতে এদেশের কোনো বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা ঘুসের দিকে হাত বাড়ানোর দুঃসাহস পাবে না
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন অনেক লোক আছে যারা বাস করে এদেশে, চাকরি করে এদেশে, নেতৃত্বে দেয় এদেশে অথচ টাকা জমায় বিদেশে। তারা বিদেশে বেগমপাড়া তৈরি করে। বিগত সাড়ে ১৫ বছরে তারা ২৬ লক্ষ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করেছে। এসব টাকা জাল ফেলে তন্ন তন্ন করে খুঁজে বের করে দেশে ফেরত আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই দেশে এমন একটি সরকার ছিল যারা গায়ের জোরে দেশ চালাচ্ছিল। যারা মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়েছিল। মানুষ কষ্ট পেলে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে পারতো না, ভালো লাগলে হাসতে পারতো না। মানুষের মুখে একটা অদেখা তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত সরকার জাতির ভাগ্য বদলের জন্য নয়, নিজেদের ভাগ্য বদলের জন্য এসেছিল। ১৫ বছরে নিজেরা তাজামোট হয়েছে।’
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতে এদেশের কোনো বিচারক, সরকারি কর্মকর্তা ঘুসের দিকে হাত বাড়ানোর দুঃসাহস পাবে না
জেলা আমির অধ্যাপক এম বি বাকেরের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন, যশোর জেলা শাখার সাবেক আমির ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আজিজুর রহমান, মাগুরা জেলা শাখার সাবেক আমির ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আব্দুল মতিন, জেলা জামায়াতের সাবেক জেলা আমির ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ড. আলমগীর বিশ্বাস।
কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মাওলানা বদরুউদ্দিন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক সাইদ আহমেদ বাচ্চু, অমুসলিম শাখার জেলা সেক্রেটারি উত্তম কুমার বিশ্বাস, ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আতাউর রহমান, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, গণঅধিকারের সভাপতি বরকতুল্লাহ, কৃষিবিদ গ্রুপের এম ডি ও ঢাকার মাগুরা ফোরামের পরিচালক ড. আলী আফজাল, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ মিঠু বিশ্বাসের বাবা শাজাহান এসময় উপস্থিত ছিলেন।
১৬ বছর পর জামায়াতের কর্মী সম্মেলন বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়। কর্মী সম্মেলনে জেলা ও আশপাশের জেলার হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।।

























