চুয়াডাঙ্গা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আটোয়ারীতে বর্ষার পানি নিস্কাশনের দাবিতে মানববন্ধন

Padma Sangbad
১১৬

মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি।। পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বর্ষার পানি নিস্কাশনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার ( ১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের কিসমতদাপ ও সুখ্যাতি এলাকার ভুক্তভোগীদের ব্যানারে আটোয়ারী উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে আটোয়ারী-রুহিয়া পাকা সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় প্রায় দুই শতাধীক কৃষক। ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক পঞ্চগড় বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারক লিপিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান তার কার্যালয়ে গ্রহণ করেন এবং মানবন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের আশ্বস্ত করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, তোড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান, ভুক্তভোগী কৃষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুগ্ম সম্পাদক মোঃ দলিলুর রহমান, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ চয়েন উদ্দীন, ক্ষতিগ্রস্ত ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি মোঃ কফিল উদ্দীন, ওসমান গনি, সুশান্ত দাস, শফিকুল ইসলাম, বিলাপ দাস, দীপু দাস, বাবু দাস প্রমুখ।
মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা তাদের বক্তব্যে বলেন, উপজেলার ফকিরগঞ্জ বাজারের কাছে একটি প্রাচীন খাল তুর্কামণি ব্রীজ রয়েছে। উক্ত ব্রীজের মাধ্যমে কিসামত দাপ ও সুখ্যাতী মৌজার শত শত একর আবাদি জমির পানি সহজেই ইতিপূর্বে নিষ্কাশন হতো। সম্প্রতি উক্ত মণিতে অবস্থিত ব্রীজটির উভয় পাশের্ব কতিপয় প্রভাবশালী উপজেলার সর্দারপাড়া নিবাসী মোঃ নজরুল ইসলাম, নব-নির্মিত আদর্শ কলোনির প্রধান মোঃ জয়নুল ইসলাম (কোহিনুর মেম্বার) ও ছোটদাপ এলাকার মোঃ কামরুজ্জামান গোলাপ স্থাপনা নির্মান করে পানি নিষ্কাশনের পথে বাধা সৃষ্টি করেন। ফলে চলমান বর্ষা মৌসুমে কৃষকদের রোপিত আমন ধানের চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভুক্তভোগীরা আমন ধান চাষে ব্যাপক লোকসানের আতঙ্কে রয়েছেন ।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে কোহিনুর মেম্বারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, স্বাভাবিক স্রোতে পানি নিষ্কাশনের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে তার স্থাপনার নীচে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকা ব্যয় করে তিনি পাকা ড্রেন নির্মান করে পানি যাতায়াতের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। এদিকে অপর অভিযুক্ত কামরুজ্জামান গোলাপ বলেন, বড় পাকা ড্রেন নির্মানের পর তিনি তার স্থাপনার কাজ শুরু করেন। কিন্তু উক্ত ড্রেনের পানি কোহিনুর মেম্বারের স্থাপনাগুলো থাকার কারনে পানি নিষ্কাশনের পথ বাধাগ্রস্থ হওয়ায় এলাকার ফসলী জমি প্রতিবছর প্লাবিত হয়।
এ বিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, আমি ভুক্তভোগী কৃষকদের কাছ থেকে স্মারকলিপি পেয়েছি এবং তোড়িয়া এবং রাধানগর ইউনিয়ন তহশিলদার ও সার্ভেয়ার এর সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। আশা করছি তদন্ত রিপোর্ট পেলে সমস্যাটির দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।

আপডেট : ০৮:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

আটোয়ারীতে বর্ষার পানি নিস্কাশনের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট : ০৮:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
১১৬

মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি।। পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বর্ষার পানি নিস্কাশনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার ( ১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের কিসমতদাপ ও সুখ্যাতি এলাকার ভুক্তভোগীদের ব্যানারে আটোয়ারী উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে আটোয়ারী-রুহিয়া পাকা সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় প্রায় দুই শতাধীক কৃষক। ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক পঞ্চগড় বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারক লিপিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান তার কার্যালয়ে গ্রহণ করেন এবং মানবন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের আশ্বস্ত করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, তোড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান, ভুক্তভোগী কৃষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুগ্ম সম্পাদক মোঃ দলিলুর রহমান, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ চয়েন উদ্দীন, ক্ষতিগ্রস্ত ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি মোঃ কফিল উদ্দীন, ওসমান গনি, সুশান্ত দাস, শফিকুল ইসলাম, বিলাপ দাস, দীপু দাস, বাবু দাস প্রমুখ।
মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা তাদের বক্তব্যে বলেন, উপজেলার ফকিরগঞ্জ বাজারের কাছে একটি প্রাচীন খাল তুর্কামণি ব্রীজ রয়েছে। উক্ত ব্রীজের মাধ্যমে কিসামত দাপ ও সুখ্যাতী মৌজার শত শত একর আবাদি জমির পানি সহজেই ইতিপূর্বে নিষ্কাশন হতো। সম্প্রতি উক্ত মণিতে অবস্থিত ব্রীজটির উভয় পাশের্ব কতিপয় প্রভাবশালী উপজেলার সর্দারপাড়া নিবাসী মোঃ নজরুল ইসলাম, নব-নির্মিত আদর্শ কলোনির প্রধান মোঃ জয়নুল ইসলাম (কোহিনুর মেম্বার) ও ছোটদাপ এলাকার মোঃ কামরুজ্জামান গোলাপ স্থাপনা নির্মান করে পানি নিষ্কাশনের পথে বাধা সৃষ্টি করেন। ফলে চলমান বর্ষা মৌসুমে কৃষকদের রোপিত আমন ধানের চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভুক্তভোগীরা আমন ধান চাষে ব্যাপক লোকসানের আতঙ্কে রয়েছেন ।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে কোহিনুর মেম্বারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, স্বাভাবিক স্রোতে পানি নিষ্কাশনের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে তার স্থাপনার নীচে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকা ব্যয় করে তিনি পাকা ড্রেন নির্মান করে পানি যাতায়াতের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। এদিকে অপর অভিযুক্ত কামরুজ্জামান গোলাপ বলেন, বড় পাকা ড্রেন নির্মানের পর তিনি তার স্থাপনার কাজ শুরু করেন। কিন্তু উক্ত ড্রেনের পানি কোহিনুর মেম্বারের স্থাপনাগুলো থাকার কারনে পানি নিষ্কাশনের পথ বাধাগ্রস্থ হওয়ায় এলাকার ফসলী জমি প্রতিবছর প্লাবিত হয়।
এ বিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, আমি ভুক্তভোগী কৃষকদের কাছ থেকে স্মারকলিপি পেয়েছি এবং তোড়িয়া এবং রাধানগর ইউনিয়ন তহশিলদার ও সার্ভেয়ার এর সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। আশা করছি তদন্ত রিপোর্ট পেলে সমস্যাটির দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।