ইসরায়েলে হুথিদের হাইপারসনিক মিসাইল হামলা : মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও উত্তপ্ত

গাজা যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে গোটা অঞ্চলে, জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অভিযান ও হুথিদের হুঁশিয়ারি।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি একটি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্র তেল আবিবের বেন-গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এটি ছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হুথিদের তৃতীয় হামলা। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদ এখন আর কেবল সীমিত ভূখণ্ডে আটকে নেই; এটি রীতিমতো আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।
হুথিদের ঘোষণায় হুমকি স্পষ্ট
ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া জানান, হামলাটি সফল হয়েছে এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত বিবৃতিতে হুথিরা জানায়, তারা ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং যতক্ষণ না গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের আক্রমণ বন্ধ হয়, তাদের সামরিক অভিযান চলবে।
হুথিরা আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আরও হামলা চালানো হবে এবং লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে ইসরায়েলমুখী জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হবে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য।
গাজা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় হামলা পুনরায় শুরু
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু মার্চের শুরুর দিকেই ইসরায়েল ওই চুক্তি ভেঙে আবারও গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে, যার জেরে হুথিরা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা প্রথমে লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজে হামলা চালায়, এরপর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্রের জবাব: ইয়েমেনে ব্যাপক সামরিক অভিযান
হুথিদের আক্রমণ ও হুমকির জবাবে ১৫ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে ব্যাপক হামলা শুরু করে। এই অভিযানে ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর এক-তৃতীয়াংশ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই অভিযানের উদ্দেশ্য আমেরিকান স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ রক্ষা করা।
হুথিদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া: মার্কিন রণতরীতে হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে হুথিরা উত্তর লোহিত সাগরে অবস্থানরত ইউএসএস হ্যারি ট্রুম্যান বিমানবাহী রণতরীতে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যদিও এখন পর্যন্ত ওই হামলায় রণতরীর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি, হুথিদের দাবি, তারা বেশ কয়েকটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ভবিষ্যতের আশঙ্কা: সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজা সংকট যতদিন চলবে, হুথিদের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো ততদিন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হামলা চালিয়ে যাবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ভূমিকা আরও জরুরি হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক চাপ, যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ এবং মানবিক সহায়তা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।


























